৪০ দিনের দুরূদ ও ইস্তিগফারের টার্গেট চলাকালে গুনাহ হয়ে গেলে কি আমল ভেঙে যায়?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 7207
Questioner: Samaira islam
Question Asked: 21 Oct 2026, 02:53 PM
Reviewed & Published: 21 Oct 2026, 03:14 PM
Views: 30
Tokens: 7,122
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Durud istegfar target nisi 40 diner ai somoy gunah hoile ki korbo

Answer

Answer

প্রশ্নের সারমর্ম

"আমি ৪০ দিনের দুরূদ ও ইস্তিগফারের একটি টার্গেট নিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে যদি গুনাহ হয়ে যায়, তাহলে কী করব?"

উত্তর

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাম ও দরূদ তাঁর রাসূলের উপর।

১. প্রথমে বুঝুন: এই "টার্গেট" আসলে কী

৪০ দিনের মতো নির্দিষ্ট সংখ্যা ধার্য করে দুরূদ ও ইস্তিগফার করা—যদি আপনি আল্লাহর নামে আনুষ্ঠানিক মানত (নযর) না করে থাকেন—তাহলে এটি শারী'আতে বাধ্যতামূলক কোনো মানত হিসেবে গণ্য হয় না। এটি কেবল একটি মুস্তাহাব (প্রশংসনীয়) ইবাদত, যা আপনি নিজের অভ্যাস হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এমতাবস্থায় গুনাহ হয়ে গেলে এই আমল বাতিল হয় না, কোনো কাফফারাও ওয়াজিব হয় না। আপনি শুধু দুরূদ ও ইস্তিগফার চালিয়ে যাবেন।

তবে যদি আপনি মুখে আনুষ্ঠানিকভাবে মানত করেছেন—যেমন বলেছেন, "আমি আল্লাহর জন্য মানত করলাম যে ৪০ দিন দুরূদ/ইস্তিগফার পড়ব"—তাহলে তা ওয়াজিব হয়ে যায় এবং আপনাকে তা পূর্ণ করতে হবে। (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুল আয়মান; ফাতাওয়া উসমানী, ৩য় খণ্ড—মানত প্রসঙ্গ)

২. সময়ের মধ্যে গুনাহ হয়ে গেলে

গুনাহ করলে ৪০ দিনের দুরূদ/ইস্তিগফার ভেঙে যায় না, আর গণনা নতুন করে শুরু করতে হয় না। যা করতে হবে:

(ক) তাওবা—আন্তরিক অনুতাপ। এটাই প্রধান ওয়াজিব। আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"আর হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।" (সূরা আন-নূর ২৪:৩১)

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরও ভালোবাসেন।" (সূরা আল-বাকারা ২:২২২)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "প্রত্যেক আদম-সন্তানই গুনাহ করে, আর গুনাহকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা তাওবা করে।" (সুনানে তিরমিযী, নং ২৪৯৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, নং ৪২৫১—হাসান)

(খ) বিশুদ্ধ তাওবার শর্তসমূহ (হানাফী ফকীহগণ ও ইমাম নববী রহ. কর্তৃক বর্ণিত):

  1. সাথে সাথে গুনাহ থেকে বিরত হওয়া।
  2. অন্তরে আন্তরিক অনুতাপ (নাদাম) হওয়া।
  3. পুনরায় সেই গুনাহে না ফেরার দৃঢ় সংকল্প করা।
  4. যদি গুনাহটি অন্য কারও হক (সম্পদ, মাল, গীবত ইত্যাদি) সম্পর্কিত হয়—তবে সেই হক ফিরিয়ে দেওয়া বা ক্ষমা চাওয়া।

(গ) নিরাশ হবেন না। আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"বলো, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, তারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করেন।" (সূরা আয-যুমার ৩৯:৫৩)

৩. দুরূদ ও ইস্তিগফার চালিয়ে যান—ছেড়ে দেবেন না

শয়তানের ধোঁকা হলো—মানুষকে এই ভাবিয়ে তোলা যে, "গুনাহ হয়ে গেছে, আমার ৪০ দিনের আমল নষ্ট হয়ে গেছে, আর লাভ নেই।" এটি প্রতারণা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা বলেন: "যে আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে আসি।" (সহীহ বুখারী, নং ৭৪০৫; সহীহ মুসলিম, নং ২৬৭৫)

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) ও হানাফী উলামায়ে কেরাম জোর দিয়ে বলেন—একটি ভুলের কারণে মুমিন কখনো নেক আমল ছেড়ে দেবে না; বরং তাওবা ও ইবাদতের ধারাবাহিকতা একসাথে চালিয়ে যাবে। দুরূদ শরীফ নিজেই ক্ষমার একটি মাধ্যম—রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "যে আমার উপর একবার দুরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তার উপর দশটি রহমত পাঠান।" (সহীহ মুসলিম, নং ৪০৮)

৪. ব্যবহারিক পরামর্শ

  • শুধু গুনাহ হওয়ার কারণে ৪০ দিন নতুন করে শুরু করবেন না—যদি না আপনি মানতে "৪০ দিন একটানা গুনাহ ছাড়া" এমন শর্ত দিয়েছেন, যা শারী'আতে বৈধ শর্ত নয়।
  • গুনাহের পর ইস্তিগফার বাড়িয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তার প্রতিটি সংকট থেকে উত্তরণের পথ করে দেন এবং এমন জায়গা থেকে রিযিক দেন যা সে কল্পনাও করেনি।" (সুনানে আবু দাউদ, নং ১৫১৮; সুনানে তিরমিযী, নং ৩৫৭৩)
  • সাইয়িদুল ইস্তিগফার ও দুরূদে ইব্রাহীম নিয়মিত পড়ুন।
  • হৃদয়কে নিরাশা থেকে রক্ষা করুন—তাওবার দরজা খোলা থাকে রূহ গলায় পৌঁছানো পর্যন্ত এবং পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত। (সহীহ বুখারী, নং ৪৬৩৫; সহীহ মুসলিম, নং ২৭০৩)

সারসংক্ষেপ

| অবস্থা | হুকুম | |---|---| | মানত ছাড়া ৪০ দিনের দুরূদ/ইস্তিগফার চলাকালে গুনাহ | আমল বাতিল হয় না; তাওবা করে চালিয়ে যান। কোনো কাফফারা নেই। | | আনুষ্ঠানিক মানত করা ৪০ দিনের আমল চলাকালে গুনাহ | মানত ওয়াজিবই থাকে; তা পূর্ণ করুন এবং গুনাহের জন্য তাওবা করুন। | | গণনা নতুন করে শুরু | প্রয়োজন নেই (বৈধ মানতে ভিন্ন কিছু উল্লেখ না থাকলে)। | | গুনাহের পর প্রধান কর্তব্য | আন্তরিক তাওবা তার শর্তসহ। |

আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আল্লাহ আপনার ইবাদত কবুল করুন, আপনার ভুলসমূহ ক্ষমা করুন এবং আপনাকে অবিচল রাখুন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.