স্বপ্নে হারাম সম্পর্কের ব্যক্তির সাথে বিয়ে দেখার ইসলামিক ব্যাখ্যা কি? বিস্তারিত জানাবেন।

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 7206
Questioner: Samaira islam
Question Asked: 21 Oct 2026, 02:44 PM
Reviewed & Published: 21 Oct 2026, 03:03 PM
Views: 17
Tokens: 3,202
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Shwapner amr otit Haram shomporker manush ta ke deksi biye hoite atar bekkha ki Kew Jodi durud istegfar target nai Kono gunah Jodi hoi target somoy taile ki korbe

Answer

উত্তর (বাংলা)

প্রশ্নের সারমর্ম

প্রশ্নে তিনটি বিষয় রয়েছে:

  1. স্বপ্নে দেখা যে ব্যক্তির সাথে অতীতে হারাম সম্পর্ক ছিল, তাকে বিয়ের স্বপ্ন দেখা — এর ব্যাখ্যা কী?
  2. কেউ যদি দরুদ-ইস্তিগফারের কোনো নির্দিষ্ট টার্গেট (যেমন: প্রতিদিন ১০০ বার) নির্ধারণ না করে, তবে কি গুনাহ হবে?
  3. আর যদি টার্গেট নির্ধারণ করে তা সময়মতো পূর্ণ করতে না পারে, তবে কী করবে?

১. স্বপ্নে হারাম সম্পর্কের ব্যক্তির সাথে বিয়ে দেখার ব্যাখ্যা

প্রথম কথা: স্বপ্ন ইসলামে কোনো শরয়ী দলিল (হুকুমের প্রমাণ) নয়। স্বপ্নের ভিত্তিতে কারো সম্পর্কে ভালো-মন্দ কোনো ফতোয়া দেওয়া যায় না, আর স্বপ্নের কারণে কোনো আমলও ওয়াজিব বা হারাম হয় না।

দ্বিতীয় কথা: স্বপ্নে কাউকে বিয়ে করতে দেখা সাধারণত দুনিয়াবি তাবির (interpretation) বহন করে — যেমন: দুজনের মধ্যে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা, মনের টান, অথবা অতীতের স্মৃতি মস্তিষ্কে জাগ্রত হওয়া। এটি ভবিষ্যতের কোনো বাস্তব ঘটনার নিশ্চিত সংকেত নয়।

তৃতীয় কথা (গুরুত্বপূর্ণ): অতীতে হারাম সম্পর্ক (যেমন: প্রেম, অবৈধ মেলামেশা) থাকলে তার জন্য তাওবা-ইস্তিগফার করা ফরজ। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ "হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।" (সূরা আন-নূর: ৩১)

আর স্বপ্নকে কেন্দ্র করে সেই পুরনো সম্পর্ক পুনরায় জাগিয়ে তোলা, যোগাযোগ করা বা তার সাথে বিয়ের আশা-প্রত্যাশা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ "কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে মিলিত হবে না, তবে তাদের তৃতীয়জন হবে শয়তান।" (তিরমিজি: ১১৭১)

সিদ্ধান্ত: স্বপ্নের ব্যাখ্যায় নিজেকে জড়াবেন না; বরং অতীতের গুনাহের জন্য খাঁটি তাওবা করুন, ভবিষ্যতে হারাম সম্পর্ক থেকে দূরে থাকুন, এবং শরয়ী পন্থায় (অভিভাবকের মাধ্যমে) হালাল বিয়ের ব্যবস্থা করুন। স্বপ্নের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।


২. দরুদ-ইস্তিগফারের নির্দিষ্ট টার্গেট না থাকলে কি গুনাহ হবে?

উত্তর: না, গুনাহ হবে না।

দরুদ ও ইস্তিগফার হলো নফল ইবাদত। শরীয়তে এর কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বাধ্যতামূলক (ওয়াজিব) করা হয়নি। কেউ টার্গেট না ধরলে তার ওপর কোনো গুনাহ নেই; বরং যতটুকু সম্ভব আমল করবে, ততটুকুই সওয়াব।

তবে হাদিসে কিছু সংখ্যার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে — যেমন: প্রতিদিন ১০০ বার ইস্তিগফার, বেশি দরুদ পড়া ইত্যাদি। এগুলো মুস্তাহাব ও ফজিলতের জন্য, বাধ্যতামূলক নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:

فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ "তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো।" (সূরা আত-তাগাবুন: ১৬)

সতর্কতা: কেউ যদি নিজের ওপর টার্গেটকে মানত (নজর) হিসেবে আবশ্যক করে ফেলে (যেমন: "আমি প্রতিদিন ১০০ দরুদ পড়ব" বলে মানত করে), তবে তা পূর্ণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়; না পড়লে গুনাহ হবে এবং কাফফারা দিতে হবে। কিন্তু শুধু অভ্যাস বা ফজিলতের নিয়তে টার্গেট ধরলে তা মানত নয়, ছুটে গেলে গুনাহ নেই।


৩. টার্গেট নির্ধারণ করে সময়মতো পূর্ণ করতে না পারলে কী করবে?

ক) যদি মানত (নজর) না হয় — শুধু নিজের অভ্যাস/ফজিলতের নিয়তে টার্গেট ধরা হয়:

  • ছুটে গেলে গুনাহ নেই, কাফফারাও নেই।
  • যতটুকু সম্ভব পরে পূর্ণ করে নেওয়া উত্তম (মুস্তাহাব)।
  • ভবিষ্যতে বাস্তবসম্মত টার্গেট ধরুন, যাতে নিয়মিত করা যায়।

খ) যদি মানত (নজর) হয় — যেমন মুখে বলেছে "আমি প্রতিদিন ১০০ দরুদ পড়ব" বা "মানত করলাম":

  • তা পূর্ণ করা ওয়াজিব। ছুটে গেলে কাজা করা আবশ্যক।
  • যদি একেবারেই আদায় করতে না পারে, তবে হানাফি মতে মানতের কাফফারা হলো: ৬০ জন মিসকিনকে এক দিনের খাবার দেওয়া, অথবা ৬০টি সিয়াম (রোজা) রাখা, অথবা ৬০ জন মিসকিনকে এক-একটি করে কাপড় দেওয়া — এ তিনটির যেকোনো একটি।
  • তবে সংখ্যাবাচক নফল ইবাদতের মানত ছুটে গেলে অনেক ফকিহ বলেছেন শুধু কাজা করাই যথেষ্ট; কাফফারা ওয়াজিব হয় না (কারণ এটি কাফফারাযোগ্য মানতের অন্তর্ভুক্ত নয়)। এ মাসআলায় সতর্কতা হলো কাজা করা এবং সম্ভব হলে কাফফারাও দেওয়া।

গ) সাধারণ পরামর্শ: টার্গেট এমনভাবে ঠিক করুন যা প্রতিদিন সহজে আদায় করা যায় — যেমন: প্রতিদিন ১০০ দরুদ, ১০০ ইস্তিগফার। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

أَحَبُّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ أَدْوَمُهَا وَإِنْ قَلَّ "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো তা, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়।" (বুখারি: ৬৪৬৪; মুসলিম: ৭৮৩)


সারসংক্ষেপ

  1. স্বপ্ন শরয়ী দলিল নয়; হারাম সম্পর্কের স্মৃতি জাগিয়ে তোলা নিষিদ্ধ; তাওবা করুন ও হালাল বিয়ের ব্যবস্থা করুন।
  2. দরুদ-ইস্তিগফারের টার্গেট না ধরলে গুনাহ নেই — এটি নফল।
  3. মানত না হলে ছুটে গেলে কিছুই ওয়াজিব নয়; মানত হলে কাজা ওয়াজিব, এবং হানাফি মতে কাফফারাও দেওয়া উত্তম/আবশ্যক।

📚 রেফারেন্স (হানাফি কিতাব)

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), খণ্ড ৩, পৃ. ৭৩২–৭৩৫ — মানত ও কাফফারার মাসআলা।
  • ফতোয়ায়ে আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ২০৬ — নফল ইবাদতের মানত।
  • ফতোয়ায়ে উসমানি, খণ্ড ২, পৃ. ৪৬৭ — মানতের কাফফারা প্রসঙ্গে।
  • ইমদাদুল ফতোয়া, খণ্ড ২, পৃ. ২৩০ — নফল আমলের নিয়মিতকরণ।
  • বেহেশতী জেওর, অংশ ১ — দরুদ-ইস্তিগফারের ফজিলত ও নিয়ম।
  • মাআরিফুল কুরআন, সূরা আন-নূর ৩১ ও আত-তাগাবুন ১৬-এর তাফসির।
  • আল-হিদায়া, কিতাবুল আইমান — মানতের কাফফারা।
  • তিরমিজি: ১১৭১; বুখারি: ৬৪৬৪; মুসলিম: ৭৮৩ — হাদিস।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.