তাকবির বলার সময় ‘আকবার’-এর ‘র’ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ না হলে নামাযে কি কোনো সমস্যা হবে?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
জনাব
জামাতে নামাজে তাকবির বলার সময় ‘আকবার’-এর ‘র’ উচ্চারণ স্পষ্টভাবে বের না হলে বা একেবারেই শব্দ উচ্চারিত না হলে, আবার চেষ্টা করতে গেলে তাকবির উলা ছুটে যাবে এ ক্ষেত্রে করনীয় কি?
Answer
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আলহামদুলিল্লাহ!
প্রশ্ন ১:
সংক্ষিপ্ত উত্তর
জামাতে তাকবির বলার সময় ‘আকবার’-এর ‘র’ (ر) উচ্চারণ স্পষ্ট না হলেও নামাজ সহীহ হবে, যদি তাকবিরের অর্থ বোঝা যায়। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘র’ না বলা বা উচ্চারণ বিকৃত করা মাকরুহ। তাকবির উলা (প্রথম তাকবির) ছুটে যাওয়ার ভয়ে পুনরায় উচ্চারণের চেষ্টা না করে ইমামের অনুসরণ করাই উত্তম।
বিস্তারিত উত্তর
১. ‘র’ (ر) উচ্চারণের বিধান
- হানাফি মতে, তাকবিরের সময় ‘ر’ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করা সুন্নত। তবে যদি জিহ্বা বা স্বরযন্ত্রের কোনো সমস্যার কারণে ‘র’ স্পষ্ট না হয়, অথবা তাড়াহুড়ো করে উচ্চারণে দুর্বলতা আসে, তবুও নামাজ সহীহ হবে, কারণ নামাজের শুদ্ধতার জন্য আরবি উচ্চারণের পূর্ণতা শর্ত নয় (রদ্দুল মুহতার: ১/৪৫৮)।
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, “তাকবিরের শব্দ যদি বিকৃত না হয় (যেমন ‘আল্লাহু আকবার’-এর জায়গায় ‘আল্লাহু আকরাম’ বলা), তবে নামাজ সহীহ” (ফাতাওয়া আলমগিরি: ১/৭১)।
২. তাকবির উলা ছুটে যাওয়ার গুরুত্ব
- তাকবির উলা (প্রথম তাকবির) অর্জনের ফজিলত অত্যন্ত বেশি। হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি প্রথম তাকবির পেল, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব” (আবু দাউদ: ৭৬৩)। তাই তাকবির উলা ছুটে যাওয়ার ভয়ে পুনরায় চেষ্টা না করে ইমামের অনুসরণ করা উচিত।
৩. করণীয়
- যদি ‘র’ উচ্চারণ স্পষ্ট না হয়: তাহলে ইমামের সাথে সাথে তাকবির বলা চালিয়ে যান। তাকবির উলা ছুটে যাওয়ার আশঙ্কায় পুনরায় উচ্চারণের চেষ্টা করবেন না।
- যদি ‘র’ একেবারেই উচ্চারিত না হয়: তাও ক্ষমাযোগ্য, কারণ তাকবিরের মূল অর্থ (আল্লাহ মহান) অক্ষুণ্ণ থাকে। তবে অভ্যাসগতভাবে সঠিক উচ্চারণের চেষ্টা করুন।
- ভবিষ্যতের জন্য: তাকবিরের সময় ধীরে ধীরে এবং স্পষ্টভাবে ‘র’ উচ্চারণের অনুশীলন করুন। তাড়াহুড়ো না করে “আল্লাহু আকবার” বলেন।
প্রাসঙ্গিক হাদিস ও ফিকহি রেফারেন্স
- হাদিস: “তোমরা তাকবির বলার সময় মাসবুক (দেরিতে আসা) ব্যক্তির মতো দ্রুত বলো না” (সুনানে বায়হাকি: ২/২৪)।
- হানাফি কিতাব: “তাকবিরে ‘র’ উচ্চারণ না করলে নামাজ সহীহ, তবে মাকরুহ” (ফাতাওয়া উসমানি: ১/২৯০)।
- ইবনে আবেদিন (রহ.): “যদি কেউ ‘আল্লাহু আকবার’-এর ‘র’ টেনে উচ্চারণ করে, তাতে কোনো সমস্যা নেই; কিন্তু অর্থ বিকৃত হলে নামাজ ভঙ্গ হবে” (রদ্দুল মুহতার: ১/৪৫৯)।
উপসংহার
জামাতে নামাজে তাকবির বলার সময় ‘র’ স্পষ্ট না হলেও নামাজ সহীহ। তাকবির উলা ছুটে যাওয়ার চেয়ে এই সামান্য ত্রুটি ক্ষতির কারণ নয়। বরং ইমামের সাথে নামাজ আদায় করে সওয়াব অর্জন করুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নামাজকে কবুল করুক। আমিন।
আল্লাহ-ই ভালো জানেন।