শিরক থেকে তওবা এবং হুকুকুল ইবাদ (বান্দার হক) ক্ষমার বিধান
Faith and Belief · Ahle Hadith / Salafi
Question
আবার আমি অ্যাস্ট্রোলজিতেও (astrology) বিশ্বাস করতাম—যারা ফিউচার প্রেডিক্ট (ভবিষ্যদ্বাণী) করত হোরোস্কোপ দিয়ে, তারপর রাশি দিয়ে ফিউচারে কী হবে তা বলে দিত। আমি এগুলো বিশ্বাস করতাম। আমি ভাবতাম এগুলো আল্লাহরই বানানো টেকনিক, কিন্তু এটা একটা ওয়ে (উপায়) আমি খুঁজে পেয়েছি এটাও ফলো করা যাবে। তখন আমি আল্লাহর কাছে মাঝে মাঝে দুআ করতাম, আবার খাতায় ওইসব লিখতাম বিশ্বাস করে যে এগুলো রিয়েলিটিতে পরিণত হবে।
কিন্তু যা হলো সেটা হচ্ছে যে, পরে আমি বুঝতে পারি এটা শিরক। এরপর আমি ছেড়ে দেই আর ইলম অর্জন করে আকিদাহ বিশুদ্ধ করি, আলহামদুলিল্লাহ। আর আমি তওবা করি আর এটা কখনো করি না, এখনো করিনি। যখন আমি শিরক করতাম তখন আমি অনেক পাপ করছি, অনেক জুলুম করছি, এমনকি আমি হুকুকুল ইবাদ নষ্ট করছি।
আমি যেহেতু শিরক থেকে ফিরে আসছি তার মানে কি এই যে, আমার হুকুকুল ইবাদের গুনাহও মাফ হয়ে গেছে? আর এটা কি এমন যে আমার সেভেন ইয়ার্স (৭ বছর)-এর আগে যে ছোটবেলায় মুসলিম ছিলাম, তখন গুনাহ করে থাকলে সেটাও কি মাফ হয়ে গেছে, নাকি শুধু সেভেন ইয়ার্স-এর গুনাহ মাফ হইছে যখন আমি শিরক করছি?
এটা আমি জানতে চাই, কারণ আমি অনেক হুকুকুল ইবাদ নষ্ট করছি আর আমি ভয় পাই—যেহেতু এটা যার হক নষ্ট করছি সে ছাড়া মাফ হয় না। আমি আশঙ্কা করি হাশরের দিন তারা আমার নেক আমল নিয়ে যাবে। আমি খুব দুশ্চিন্তায় থাকি আর ভয় [পাই]
Answer
শিরক থেকে তওবা, হুকুকুল ইবাদ ও পূর্বের গুনাহ মাফের বিধান
ভূমিকা: আপনার প্রশ্নের সারমর্ম
আপনি তিনটি বিষয়ে জানতে চেয়েছেন:
- শিরক থেকে তওবা করলে কি হুকুকুল ইবাদ (বান্দার হক) সংক্রান্ত গুনাহও মাফ হয়ে যায়?
- শিরকের ৭ বছরের আগে ছোটবেলায় করা গুনাহ কি মাফ হয়েছে, নাকি শুধু শিরকের সময়ের গুনাহ?
- হাশরের দিন হকদাররা নেক আমল নিয়ে যাবে—এই ভয়ের সমাধান কী?
নিচে কুরআন, সহিহ হাদিস এবং সালাফের বক্তব্যের আলোকে ধাপে ধাপে উত্তর দিচ্ছি।
১. শিরক থেকে তওবা: ইসলামে ফিরে আসার বিধান
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
"বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" — [সূরা আয-যুমার: ৫৩]
আয়াতের সাধারণতা (عموم) সম্পর্কে ইবন কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এই আয়াত তাওবাকারী প্রত্যেক গুনাহগারকে شامل করে—শিরক, কুফর, নিফাক সবকিছু, যদি সে তাওবা করে। [তাফসীর ইবন কাসীর, ৭/১০৯]
তবে শর্ত হলো সহিহ তাওবা। আল্লাহ বলেন:
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا فَأُولَٰئِكَ أَتُوبُ إِلَيْهِمْ ۚ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
"তবে যারা তাওবা করেছে, নিজেদের সংশোধন করেছে এবং (সত্য) প্রকাশ করেছে—আমি তাদের তাওবা কবুল করব। আমিই তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।" — [সূরা আল-বাকারাহ: ১৬০]
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, শিরক ও কুফর থেকে তাওবা করলে আল্লাহ তা মাফ করেন, তবে হুকুকুল ইবাদ এর বিধান আলাদা—তা নিচে আলোচনা করছি। [মাজমূ' আল-ফাতাওয়া, ১১/৬৭৪]
২. মূল প্রশ্ন: শিরক থেকে তওবায় হুকুকুল ইবাদ মাফ হয় কি?
(ক) আল্লাহর হক (হুকুকুল্লাহ) — মাফ হয়
শিরক হলো সবচেয়ে বড় হুকুকুল্লাহ লঙ্ঘন। আল্লাহ বলেন:
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করা ক্ষমা করেন না; এছাড়া অন্য যা কিছু তা তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" — [সূরা আন-নিসা: ৪৮]
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, যে শিরক থেকে তাওবা করে, তার জন্য এই আয়াতের ভয় প্রযোজ্য নয়; বরং তাওবা করলে শিরকসহ সব গুনাহ মাফ হয়। [মাজমূ' আল-ফাতাওয়া, ১১/৬৭৪; ১৪/৩৩০]
(খ) বান্দার হক (হুকুকুল ইবাদ) — মূলনীতি
এখানেই আপনার মূল উদ্বেগের জায়গা। মূলনীতি হলো:
তাওবা তিন ধরনের গুনাহ মাফ করে—আল্লাহর হক, নিজের হক; কিন্তু বান্দার হক (হুকুকুল ইবাদ) মাফ হয় না, যতক্ষণ না হকদারকে হক ফিরিয়ে দেওয়া হয় বা সে ক্ষমা করে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
مَنْ كَانَتْ لَهُ مَظْلَمَةٌ لِأَخِيهِ مِنْ عِرْضِهِ أَوْ شَيْءٍ فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْهُ الْيَوْمَ قَبْلَ أَنْ لَا يَكُونَ دِينَارٌ وَلَا دِرْهَمٌ، إِنْ كَانَ لَهُ عَمَلٌ صَالِحٌ أُخِذَ مِنْهُ بِقَدْرِ مَظْلَمَتِهِ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ حَسَنَاتٌ صَالِحَةٌ أُخِذَ مِنْ سَيِّئَاتِ صَاحِبِهِ فَحُمِلَ عَلَيْهِ
"যার কাছে তার ভাইয়ের সম্মান বা অন্য কোনো বিষয়ে জুলুমের বোঝা আছে, সে যেন আজই (দুনিয়াতেই) তাকে হালাল করে নেয়—সেই দিনের আগে, যেদিন কোনো দিনার-দিরহাম থাকবে না। যদি তার নেক আমল থাকে, জুলুমের পরিমাণ অনুযায়ী তা থেকে নেওয়া হবে; আর যদি নেক আমল না থাকে, তবে মাজলুমের গুনাহ তার উপর চাপানো হবে।" — [সহিহ আল-বুখারী: ২৪৪৯]
শাইখ ইবন বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাওবার শর্ত হলো: (১) গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, (২) অনুতপ্ত হওয়া, (৩) আর না করার দৃঢ় সংকল্প করা; আর যদি গুনাহটি বান্দার হক সম্পর্কিত হয়, তবে চতুর্থ শর্ত হলো হকদারকে হক ফিরিয়ে দেওয়া বা তার কাছে ক্ষমা চাওয়া। [মাজমূ' ফাতাওয়া ইবন বায, ৫/৩১৮]
(গ) তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম: শিরকের কারণে ইবাদত ছেড়ে দেওয়া
আপনি বলেছেন, শিরকের সময় আপনি "হুকুকুল ইবাদ নষ্ট করছেন"—যেমন নামাজ, রোজা ইত্যাদি ছেড়ে দেওয়া। এখানে স্পষ্ট করা দরকার:
শিরক অবস্থায় কেউ ইবাদত ছেড়ে দিলে, ইসলামে ফিরে আসার পর সেই ছেড়ে দেওয়া ইবাদতের জন্য কোনো কাযা (পুনরায় আদায়) নেই। কারণ শিরক অবস্থায় করা আমল মূলত বাতিল ছিল; ইসলাম গ্রহণের পর তা নতুন করে শুরু হয়।
আল্লাহ বলেন:
قُل لِّلَّذِينَ كَفَرُوا إِن يَنتَهُوا يُغْفَرْ لَهُم مَّا قَدْ سَلَفَ
"কাফিরদের বলুন, যদি তারা বিরত হয়, তবে তাদের পূর্বের সব কিছু মাফ করা হবে।" — [সূরা আল-আনফাল: ৩৮]
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
الْإِسْلَامُ يَجُبُّ مَا قَبْلَهُ
"ইসলাম তার পূর্বের সব গুনাহ মুছে দেয়।" — [সহিহ মুসলিম: ১২১]
ইমাম আন-নববী (রহিমাহুল্লাহ) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, কাফির ইসলাম গ্রহণ করলে তার পূর্বের সব গুনাহ—শিরক, কুফর, হুকুকুল্লাহ, এমনকি হুকুকুল ইবাদও—মাফ হয়ে যায়, কারণ সে তখন কাফির ছিল এবং ইসলাম গ্রহণই তার জন্য নতুন সূচনা। [শারহু সহিহ মুসলিম, ৩/১০৫]
তবে সতর্কতা: এই বিধান প্রযোজ্য কাফির/মুশরিক অবস্থায় করা গুনাহের ক্ষেত্রে। কিন্তু আপনি বলছেন আপনি মুসলিম ছিলেন এবং শিরকে লিপ্ত হয়েছিলেন। এখানে আলিমদের মধ্যে تفصيل (বিস্তারিত) আছে:
- যদি শিরকটি আকিদাগত (বিশ্বাসগত) হয় এবং তা কুফর পর্যন্ত পৌঁছে যায় (যেমন: ভাগ্য-নক্ষত্রকে আল্লাহর ক্ষমতার সমান মনে করা, চিন্তাকে বাস্তবে রূপান্তরকারী স্বতন্ত্র শক্তি মনে করা)—তাহলে অনেক আলিমের মতে এটি মূল কুফর, এবং তাওবা করলে ইসলামের প্রথম যুগের মতো সব মাফ হয়।
- যদি শিরকটি ছোট শিরক হয়—তাহলে তা হুকুকুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত, তাওবায় মাফ হয়, কিন্তু হুকুকুল ইবাদ আলাদা।
শাইখ ইবন উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যে ব্যক্তি শিরকে লিপ্ত হয়ে পরে তাওবা করে, তার শিরকজনিত গুনাহ মাফ হয়; আর শিরক অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া ইবাদতের কাযা নেই, কারণ শিরক অবস্থায় ইবাদত কবুলই হতো না। [ফাতাওয়া নূরুন 'আলাদ-দারব, লিক্বা ২১]
৩. আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন: ছোটবেলার গুনাহ কি মাফ?
আপনি জিজ্ঞেস করেছেন—শিরকের ৭ বছরের আগে ছোটবেলায় মুসলিম থাকাকালীন গুনাহ কি মাফ হয়েছে?
এখানে দুটি বিষয়:
(ক) নাবালেগ অবস্থার গুনাহ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ: عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ، وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَحْتَلِمَ، وَعَنِ الْمَعْتُوهِ حَتَّى يَعْقِلَ
"তিন ব্যক্তির উপর থেকে কলম (গুনাহ লেখা) উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না জাগে, শিশু যতক্ষণ না বালেগ হয়, এবং পাগল যতক্ষণ না সুস্থ হয়।" — [সুনান আবু দাউদ: ৪৪০৩; শাইখ আল-আলবানী সহিহ বলেছেন]
সুতরাং বালেগ হওয়ার আগের গুনাহের জন্য কোনো হিসাব নেই—তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাফ। শাইখ ইবন বায বলেন, নাবালেগের আমল লেখা হয় না, তাই তার কোনো গুনাহের হিসাব হবে না। [মাজমূ' ফাতাওয়া ইবন বায, ১০/২৪৫]
(খ) বালেগ হওয়ার পর, শিরকের আগে করা গুনাহ
এগুলো সম্পর্কে মূলনীতি হলো: সহিহ তাওবা সব গুনাহ মাফ করে—হুকুকুল্লাহ হোক বা হুকুকুল ইবাদ, যদি হকদারকে হক ফিরিয়ে দেওয়া হয় বা ক্ষমা পাওয়া যায়। আল্লাহ বলেন:
وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
"হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা কর, যাতে তোমরা সফল হও।" — [সূরা আন-নূর: ৩১]
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, তাওবা সব গুনাহের জন্য বৈধ—ছোট-বড়, হুকুকুল্লাহ ও হুকুকুল ইবাদ; তবে হুকুকুল ইবাদে হকদারের হক ফিরিয়ে দেওয়া বা ক্ষমা চাওয়া শর্ত। [মাজমূ' আল-ফাতাওয়া, ১১/৬৭৪]
সারকথা: আপনার ছোটবেলার (নাবালেগ) গুনাহ মাফ; আর বালেগ হওয়ার পর শিরকের আগে বা শিরকের সময়ে করা গুনাহ—সহিহ তাওবা ও হক ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে মাফ হবে, ইনশাআল্লাহ।
৪. হুকুকুল ইবাদ: কী করবেন?
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—আপনি বলেছেন আপনি অনেক হুকুকুল ইবাদ নষ্ট করেছেন এবং ভয় পান হাশরের দিন হকদাররা নেক আমল নিয়ে যাবে।
(ক) হুকুকুল ইবাদ দুই প্রকার
- মালি (আর্থিক) হক — যেমন: কারো টাকা আত্মসাৎ, ঋণ না শোধ, চুরি, প্রতারণা।
- গায়রে মালি (অ-আর্থিক) হক — যেমন: গীবত, অপবাদ, সম্মানহানি, শারীরিক ক্ষতি, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ।
(খ) সমাধান
আর্থিক হক: অবশ্যই হকদারকে ফিরিয়ে দিতে হবে। যদি হকদার মারা গিয়ে থাকে, তার ওয়ারিশদের দিতে হবে। যদি হকদার অজানা থাকে, তবে তার পক্ষ থেকে সদকা করতে হবে এবং আল্লাহর কাছে দুআ করতে হবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
مَنْ كَانَتْ عِنْدَهُ مَظْلَمَةٌ لِأَخِيهِ فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْهَا
"যার কাছে তার ভাইয়ের জুলুমের বোঝা আছে, সে যেন তাকে হালাল করে নেয়।" — [সহিহ আল-বুখারী: ২৪৪৯]
অ-আর্থিক হক: হকদারের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। যদি সম্ভব না হয় (যেমন: হকদার মারা গেছে বা খুঁজে পাওয়া যায় না), তবে তার জন্য দুআ করতে হবে, তার প্রশংসা করতে হবে, এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। শাইখ ইবন উসাইমীন বলেন, গীবতের তাওবা হলো: (১) আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, (২) যার গীবত করা হয়েছে তার জন্য দুআ করা, (৩) ভবিষ্যতে তা না করা। [ফাতাওয়া নূরুন 'আলাদ-দারব]
(গ) যদি হকদার ক্ষমা না করে?
তাহলে আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তার হৃদয় নরম করার জন্য। আল্লাহ বলেন:
وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا
"যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন।" — [সূরা আত-তালাক: ২]
শাইখ ইবন বায বলেন, যদি হকদার ক্ষমা না করে, তবে কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন; তবে দুনিয়াতে যথাসাধ্য চেষ্টা করুন—হক ফিরিয়ে দেওয়া, ক্ষমা চাওয়া, দুআ করা। [মাজমূ' ফাতাওয়া ইবন বায, ৫/৩১৮]
৫. আপনার ভয়ের সমাধান: হাশরের দিন নেক আমল নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা
আপনি ভয় পান হাশরের দিন হকদাররা আপনার নেক আমল নিয়ে যাবে। এই ভয় সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত
তাওবা ও হক ফিরিয়ে দেওয়া
আপনি ইতিমধ্যে তাওবা করেছেন—আলহামদুলিল্লাহ। বান্দার হক নষ্ট করে থাকলে সে হক ফিরিয়ে দিলেই আপনি চিন্তা মুক্ত থাকবেন,ইনশাআল্লাহ।