হাতে চুড়ি পরা ও স্বামীর হায়াত কমে যাওয়ার বিশ্বাস।

Family Life · Hanafi

Question No: 7070
Questioner: Airin Rahat Prome
Question Asked: 18 Oct 2026, 05:32 PM
Reviewed & Published: 18 Oct 2026, 06:22 PM
Views: 13
Tokens: 10,885
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম হুজুর।

হুজুর, ইসলাম সম্পর্কে দুটি বিষয়ে সঠিক জ্ঞান ও কুরআন-হাদিসের দলিলসহ আপনার পরামর্শ জানতে চাই।

১. হাতে চুড়ি পরা ও স্বামীর হায়াত কমে যাওয়ার বিশ্বাস:

হুজুর, আমার স্বামী চান আমি হাতে চুড়ি পরি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, কারও হায়াত বাড়ানো বা কমানোর ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে। চুড়ি না পরলে স্বামীর হায়াত কমে যায়—এমন কোনো সহিহ হাদিস আছে কি না, তা জানতে চাই।

আমার স্বামী বলেন, তাঁদের মা-চাচিরা তাঁদের মায়েদের কাছ থেকে, তাঁরা আবার তাঁদের দাদিদের কাছ থেকে এসব কথা শুনেছেন। তাঁদের দাবি, এই কথাগুলো নাকি আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর সময় থেকেই চলে আসছে। তাই তাঁরা এসব বিশ্বাস করেন এবং আমাকে চুড়ি পরতে বলেন।

আমি স্বামীকে বলেছি, সৌন্দর্যের জন্য চুড়ি পরতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু চুড়ি না পরলে তাঁর হায়াত কমে যাবে—এমন বিশ্বাস থেকে আমি চুড়ি পরতে চাই না। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক ঝামেলা হয়।

হুজুর, আমার প্রশ্ন হলো, চুড়ি না পরলে স্বামীর হায়াত কমে যায়—এমন কোনো কথা কি কুরআন বা সহিহ হাদিসে আছে? এই বিশ্বাসের সঙ্গে আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর কোনো সম্পর্ক আছে কি? নাকি এটি মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত একটি বিশ্বাস? দয়া করে কুরআন ও নির্ভরযোগ্য হাদিসের দলিলসহ বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন, যেন আমি সঠিক ইসলামি বিধান জানতে পারি এবং আমার স্বামীকেও সুন্দরভাবে বোঝাতে পারি।




২. সেদ্ধ ডিম লম্বালম্বি না আড়াআড়ি করে কাটা:

আমার স্বামী বলেন, সেদ্ধ ডিম মাঝখান দিয়ে আড়াআড়ি করে কাটলে সংসারে অভাব দেখা দেয়; তাই ডিম লম্বালম্বি করে কাটতে হবে। কিন্তু আমি এসব বিশ্বাস করি না। আমার জানা মতে, কোনো খাবার কীভাবে কাটলাম, তার কারণে সংসারে অভাব হবে কি না, তা ইসলামের দলিল দিয়ে জানা প্রয়োজন। তবে আমি এভাবে না কাটলে স্বামীর রাগ ও মারধরের ভয় থাকে, তাই বাধ্য হয়ে তাঁর কথা মেনে চলি।

হুজুর, এই দুটি বিশ্বাসের পক্ষে কুরআন বা কোনো সহিহ হাদিসে প্রমাণ আছে কি? নাকি এগুলো প্রচলিত লোকবিশ্বাস ও কুসংস্কার? দয়া করে নির্ভরযোগ্য দলিলসহ বুঝিয়ে বলবেন, যাতে আমি সঠিক বিষয়টি জানতে পারি এবং আমার স্বামীকেও সুন্দরভাবে বোঝাতে পারি।

জাযাকাল্লাহু খাইরান।

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم، الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين، وعلى آله وأصحابه أجمعين، أما بعد:

প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্ন দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনার সতর্কতা ও তাওহিদের প্রতি আগ্রহ প্রশংসনীয়। ইসলামের মূল ভিত্তি হলো তাওহিদ—আল্লাহ তাআলাকে এক ও অদ্বিতীয় বিশ্বাস করা এবং যাবতীয় ক্ষমতা ও প্রভাবের একমাত্র মালিক আল্লাহকেই জানা। নিচে আপনার দুটি প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর কুরআন, সহিহ হাদিস ও নির্ভরযোগ্য হানাফি কিতাবের আলোকে দেওয়া হলো।


১. হাতে চুড়ি পরা ও স্বামীর হায়াত কমে যাওয়ার বিশ্বাস

(ক) হায়াত বা মৃত্যু আল্লাহর একান্ত হাতে

কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন:

وَاللَّهُ خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ جَعَلَكُمْ أَزْوَاجًا ۚ وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَىٰ وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ ۚ وَمَا يُعَمَّرُ مِن مُّعَمَّرٍ وَلَا يُنقَصُ مِنْ عُمُرِهِ إِلَّا فِي كِتَابٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ

"আল্লাহই তোমাদেরকে মাটি থেকে, অতঃপর শুক্রবিন্দু থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদেরকে জোড়া করেছেন। কোনো নারী গর্ভধারণ করে না এবং সন্তান প্রসব করে না—তা তাঁর জ্ঞান ছাড়া। কোনো দীর্ঘজীবীকে দীর্ঘায়ু দেওয়া হয় না এবং তার আয়ু থেকে কমানো হয় না—তা কিতাবে লিপিবদ্ধ না হয়ে। নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর জন্য সহজ।" — (সূরা ফাতির: ১১)

وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ ۚ فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً ۖ وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ

"প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য একটি নির্ধারিত সময় আছে। অতঃপর যখন তাদের নির্ধারিত সময় আসবে, তখন তারা এক মুহূর্তও বিলম্ব করতে পারবে না এবং আগিয়েও যেতে পারবে না।" — (সূরা আরাফ: ৩৪)

قُل لَّن يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا هُوَ مَوْلَانَا ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ

"বলুন, আল্লাহ আমাদের জন্য যা লিখেছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো কিছুই ঘটবে না। তিনিই আমাদের অভিভাবক। আর মুমিনদের আল্লাহরই উপর ভরসা করা উচিত।" — (সূরা তাওবা: ৫১)

হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

لَا يَرُدُّ الْقَضَاءَ إِلَّا الدُّعَاءُ، وَلَا يَزِيدُ فِي الْعُمْرِ إِلَّا الْبِرُّ

"দুআ ছাড়া ভাগ্য পরিবর্তন হয় না এবং সদাচরণ ছাড়া আয়ু বাড়ে না।" — (তিরমিজি: ২১৩৯; ইবনে মাজাহ: ৯০; হাসান)

অর্থাৎ আয়ু বাড়া-কমার একমাত্র কারণ হলো আল্লাহর ইচ্ছা, দুআ ও সদাচরণ—চুড়ি বা কোনো বস্তু নয়।

(খ) চুড়ি না পরলে স্বামীর হায়াত কমে যাওয়ার কোনো দলিল নেই

কুরআন-সহিহ হাদিসে কোথাও এমন কোনো বর্ণনা নেই যে, চুড়ি না পরলে স্বামীর আয়ু কমে যায়। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কুসংস্কার। বরং এ ধরনের বিশ্বাস পোষণ করা—যে কোনো বস্তু বা কাজ আল্লাহর নির্ধারিত তাকদির পরিবর্তন করতে পারে—এটি শিরকের সীমার কাছাকাছি। আল্লাহ তাআলা বলেন:

قُلْ أَفَرَأَيْتُم مَّا تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ إِنْ أَرَادَنِيَ اللَّهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كَاشِفَاتُ ضُرِّهِ أَوْ أَرَادَنِي بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَاتُ رَحْمَتِهِ ۚ قُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ ۖ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكِّلُونَ

"বলুন, আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ডাকো, তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? আল্লাহ যদি আমার কোনো ক্ষতি চান, তারা কি সেই ক্ষতি দূর করতে পারবে? অথবা তিনি যদি আমার প্রতি রহমত চান, তারা কি সেই রহমত আটকে রাখতে পারবে? বলুন, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। ভরসাকারীরা তাঁরই উপর ভরসা করে।" — (সূরা যুমার: ৩৮)

(গ) আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই

আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর সময় থেকে এই বিশ্বাস চলে আসছে—এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি। কুরআনে আদম (আ.)-এর কাহিনি বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু কোথাও চুড়ি বা আয়ু কমার কোনো উল্লেখ নেই। এটি মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত লোকবিশ্বাস, যা ইসলামে কোনো ভিত্তি রাখে না।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ

"যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করবে যা এর মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।" — (বুখারি: ২৬৯৭; মুসলিম: ১৭১৮)

(ঘ) চুড়ি পরা সম্পর্কে ইসলামি বিধান

সৌন্দর্যের জন্য চুড়ি পরা নারীর জন্য বৈধ, তবে শর্ত হলো:

  • এটি পরপুরুষকে দেখানো যাবে না (সূরা নূর: ৩১)।
  • স্বামী বা মাহরামদের সামনে পরা যাবে।
  • স্বর্ণের চুড়ি নারীর জন্য বৈধ; তবে পুরুষের জন্য স্বর্ণ হারাম।

মূল কথা: চুড়ি পরা বা না পরা—এটি আয়ুর সাথে সম্পর্কিত নয়। আপনি সৌন্দর্যের জন্য পরতে পারেন, কিন্তু "না পরলে স্বামীর আয়ু কমে" এই বিশ্বাস থেকে পরা যাবে না; বরং এই বিশ্বাস পরিত্যাগ করা আবশ্যক।

(ঙ) স্বামীকে বোঝানোর পরামর্শ

স্বামীকে অত্যন্ত ভদ্রভাবে বলুন:

  • "আমি আপনার জন্য চুড়ি পরতে রাজি, কিন্তু এই বিশ্বাস থেকে নয় যে এটি আপনার আয়ু বাড়াবে। কারণ কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, আয়ু একমাত্র তাঁর হাতে (সূরা ফাতির: ১১)।"
  • তাকে সূরা ফাতিরের আয়াতটি পড়ে শোনান।
  • তাকে বলুন, "আমি আপনার ভালো চাই, তাই ইসলামের সঠিক বিধান জানতে চাই।"

২. সেদ্ধ ডিম লম্বালম্বি না আড়াআড়ি করে কাটা

(ক) খাবার কীভাবে কাটা হবে—এতে অভাব-সমৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই

কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا

"পৃথিবীতে চলমান প্রতিটি প্রাণীর রিযিক আল্লাহরই দায়িত্বে।" — (সূরা হুদ: ৬)

إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ

"নিশ্চয়ই আল্লাহই রিযিকদাতা, শক্তির অধিকারী, পরাক্রমশালী।" — (সূরা যারিয়াত: ৫৮)

وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا ۝ وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ

"যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিযিক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।" — (সূরা তালাক: ২-৩)

হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

لَوْ أَنَّكُمْ تَتَوَكَّلُونَ عَلَى اللَّهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ لَرَزَقَكُمْ كَمَا يَرْزُقُ الطَّيْرَ، تَغْدُو خِمَاصًا وَتَرُوحُ بِطَانًا

"যদি তোমরা আল্লাহর উপর যথাযথ ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদেরকে পাখির মতো রিযিক দিতেন—সকালে খালি পেটে বের হয়, সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।" — (তিরমিজি: ২৩৪৪; ইবনে মাজাহ: ৪১৬৪; সহিহ)

অর্থাৎ রিযিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ। ডিম লম্বালম্বি বা আড়াআড়ি কাটার সাথে অভাব-সমৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই।

(খ) এটি সম্পূর্ণ কুসংস্কার

ডিম আড়াআড়ি কাটলে সংসারে অভাব হবে—এটি একটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কুসংস্কার (তাতায়্যুর/শুভ-অশুভ বিশ্বাস)। ইসলামে এ ধরনের বিশ্বাস নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

الطِّيَرَةُ شِرْكٌ

"কুলক্ষণ বিশ্বাস করা শিরক।" — (আবু দাউদ: ৩৯১০; তিরমিজি: ১৬১৪; সহিহ)

لَا عَدْوَى وَلَا طِيَرَةَ وَلَا هَامَةَ وَلَا صَفَرَ

"কোনো সংক্রামক রোগ নেই (স্বতঃস্ফূর্তভাবে), কোনো কুলক্ষণ নেই, কোনো পেঁচার অশুভ নেই, সফর মাসের অশুভ নেই।" — (বুখারি: ৫৭০৭; মুসলিম: ২২২০)

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ তাতায়্যুর ও কুসংস্কার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং তা পরিত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। («রাদ্দুল মুহতার»: ৬/৩৬৮-৩৭০, দারুল ফিকর)

(গ) স্বামীর রাগ ও মারধরের বিষয়টি

আপনি লিখেছেন, "এভাবে না কাটলে স্বামীর রাগ ও মারধরের ভয় থাকে, তাই বাধ্য হয়ে তাঁর কথা মেনে চলি।" ইসলামে স্ত্রীকে মারধর করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও গুনাহের কাজ। আল্লাহ তাআলা স্ত্রীদের সাথে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন:

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ

"তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।" — (সূরা নিসা: ১৯)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي

"তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের প্রতি সর্বোত্তম; আর আমি আমার পরিবারের প্রতি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।" — (তিরমিজি: ৩৮৯৫; ইবনে মাজাহ: ১৯৭৭; সহিহ)

لَا يَجْلِدُ أَحَدُكُمُ امْرَأَتَهُ جَلْدَ الْعَبْدِ

"তোমাদের কেউ যেন তার স্ত্রীকে দাসীর মতো চাবুক না মারে।" — (বুখারি: ৫২০৪; মুসলিম: ২৮৫১)

তাই স্বামীর ভয়ে কুসংস্কার মেনে চলা আপনার জন্য আবশ্যক নয়; বরং সত্য জানা ও তা মেনে চলা আপনার দায়িত্ব। তবে বুদ্ধিমানের সাথে, ভালোবাসা ও নম্রতা দিয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন।


সারসংক্ষেপ ও পরামর্শ

| বিষয় | ইসলামি বিধান | |---|---| | চুড়ি না পরলে স্বামীর আয়ু কমে | সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কুসংস্কার; কুরআন-হাদিসে কোনো দলিল নেই | | আদম (আ.)-হাওয়া (আ.)-এর সাথে সম্পর্ক | সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি; কুরআনে এমন কিছু নেই | | সৌন্দর্যের জন্য চুড়ি পরা | বৈধ (শর্তসাপেক্ষে) | | ডিম আড়াআড়ি কাটলে অভাব | সম্পূর্ণ কুসংস্কার; ইসলামে নিষিদ্ধ | | রিযিক ও আয়ুর মালিক | একমাত্র আল্লাহ তাআলা |

আপনার করণীয়:

  1. এই বিশ্বাসগুলো পরিত্যাগ করুন—এগুলো ইসলামবিরোধী কুসংস্কার।
  2. স্বামীকে ভালোবাসা ও নম্রতা দিয়ে সূরা ফাতির: ১১, সূরা হুদ: ৬, সূরা তালাক: ২-৩ পড়ে শোনান।
  3. কোনো আলেম বা বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে দিয়ে তাকে বোঝানোর ব্যবস্থা করুন।
  4. স্বামীর মারধর বা ভয়ভীতি ইসলামে নিষিদ্ধ—এ বিষয়ে ধৈর্য ধরুন এবং প্রয়োজনে পারিবারিক পরামর্শকের সাহায্য নিন।
  5. সৌন্দর্যের জন্য চুড়ি পরতে পারেন, কিন্তু কুসংস্কারমূলক বিশ্বাস থেকে নয়।

আল্লাহ তাআলা আপনার ইলম ও আমলকে বরকতময় করুন এবং আপনার পরিবারে শান্তি ও সুখ দান করুন। আমিন।


উত্তর প্রদানে: হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, কুরআন-সহিহ হাদিস ও নির্ভরযোগ্য কিতাবের আলোকে।

প্রধান দলিল:

  • সূরা ফাতির: ১১; সূরা হুদ: ৬; সূরা তালাক: ২-৩; সূরা যুমার: ৩৮; সূরা নিসা: ১৯
  • সহিহ বুখারি: ২৬৯৭, ৫২০৪, ৫৭০৭
  • সহিহ মুসলিম: ১৭১৮, ২২২০, ২৮৫১
  • তিরমিজি: ২১৩৯, ২৩৪৪, ৩৮৯৫
  • ইবনে মাজাহ: ৯০, ১৯৭৭, ৪১৬৪
  • আবু দাউদ: ৩৯১০
  • «রাদ্দুল মুহতার»: ৬/৩৬৮-৩৭০

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.