"নানার সৃষ্টি" বলে ফেলার পর সাথে সাথে "আল্লাহর সৃষ্টি" বলা—এতে কি শিরক হয়েছে?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 7035
Questioner: Allah Ta'alar Banda
Question Asked: 17 Oct 2026, 06:30 PM
Reviewed & Published: 17 Oct 2026, 06:33 PM
Views: 7
Tokens: 3,057
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি এক ব্যাক্তির সাথে কথা বলছিলাম, তখন আমার নানার একটি মিল/ব্যবসা নিয়ে কথা হচ্ছিল যা বর্তমানে অন্য মালিকানায় আছে। আমি কথায় কথায় বলে ফেলি "নানার সৃষ্টি টা রয়ে গেছে (ব্যবসা টা কে উল্লেখ করে) ,নানা ই আর নাই"। এরপর সাথে সাথেই বলি "আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি, নানা কে দেয়া।"
এই কথায় কি আমার দ্বারা শিরক হলো? আমার করনীয় কি??

Answer

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

সংক্ষিপ্ত উত্তর: না, আপনার দ্বারা শিরক হয়নি। তবে কথাটি ভুল ও অসতর্ক ছিল, তাই আল্লাহর কাছে তাওবা/ইস্তিগফার করা এবং ভবিষ্যতে এমন শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

বিস্তারিত:

১) শিরকের মূল ভিত্তি হলো কোনো সৃষ্টিকে আল্লাহর সমান বা আল্লাহর ক্ষমতার অংশীদার মনে করা। আপনার কথায় আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিকে নানার দিকে সম্পৃক্ত করা হয়নি; বরং আপনি সাথে সাথেই স্পষ্ট করে বলেছেন—"আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি, নানা কে দেয়া।" অর্থাৎ আপনি নিজেই আল্লাহর খালিকিয়াত (সৃষ্টিকর্তা হওয়া) স্বীকার করেছেন এবং নানাকে শুধু প্রাপক/অধিকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এতে আকিদার কোনো বিকৃতি ঘটেনি।

২) তবে "নানার সৃষ্টি" শব্দটি নিজে থেকেই ভুল, কারণ সৃষ্টি একমাত্র আল্লাহর। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

"আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং তিনি সবকিছুর তত্ত্বাবধায়ক।" (সূরা আয-যুমার: ৬২) "তিনি ছাড়া কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই।" (সূরা আল-আনআম: ১০১-১০২-এর মর্ম)

হাদিসে এসেছে, নবী ﷺ বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা বলেন, কে বেশি জালিম তার চেয়ে, যে আমার মতো সৃষ্টি করতে চায়? তারা তো একটি ছোট্ট পিপীলিকা বা একটি দানা বা একটি যব তৈরি করে দেখাক।" (সহিহ বুখারি: ৫৯৫৩; সহিহ মুসলিম: ২১১১)

৩) ফিকহি দৃষ্টিকোণে: কুফর-শিরকের হুকুম আরোপিত হয় সুস্পষ্ট বিশ্বাস ও ইচ্ছার ওপর। মুখ থেকে অসতর্কভাবে বেরিয়ে যাওয়া শব্দ, যার পেছনে শিরকের বিশ্বাস নেই এবং যা সাথে সাথেই সংশোধন করা হয়েছে—তা ঈমান বিনষ্ট করে না। ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেছেন, কুফরির হুকুম তখনই হয় যখন কেউ তা বিশ্বাস বা ইচ্ছাকৃতভাবে বলে; ভুলবশত বা অসতর্কতাবশত মুখ থেকে বেরিয়ে গেলে এবং সাথে সাথে তাওবা করলে ঈমানের ক্ষতি হয় না। (রাদ্দুল মুহতার: ৪/২২৪-২২৫ প্রসঙ্গ; ফাতাওয়া আলমগিরি: ২/২৫৯-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

৪) মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) মা'আরিফুল কুরআনে সূরা আয-যুমার ৬২-এর তাফসিরে বলেন, সৃষ্টি ও সৃষ্টিকর্তার সম্পর্ক একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত; বান্দার দিকে সৃষ্টি সম্পৃক্ত করা শব্দগতভাবে নিষিদ্ধ, তবে ভুলবশত হলে তাওবা যথেষ্ট।

আপনার করণীয়:

  • আল্লাহ তাআলার কাছে আন্তরিকভাবে তাওবা ও ইস্তিগফার করুন (আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ুন)।
  • অন্তরে আকিদা পাকা রাখুন: সৃষ্টি একমাত্র আল্লাহর, নানা বা অন্য কেউ সৃষ্টিকর্তা নয়।
  • ভবিষ্যতে "নানার সৃষ্টি" জাতীয় শব্দ পরিহার করুন; বলুন "নানার তৈরি/প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা" বা "নানার হাতে গড়া ব্যবসা"।
  • আপনার ঈমান ও আকিদা ঠিক আছে; নতুন করে কালিমা পড়া বা ঈমান নবায়নের বাধ্যবাধকতা নেই, তবে নেক ইচ্ছায় কালিমা পড়ে নেওয়া সওয়াবের কাজ।
  • বেশি বেশি এই দোয়া পড়ুন: "রাব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা'দা ইয হাদাইতানা" (সূরা আলে ইমরান: ৮)।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শিরক-কুফর থেকে হেফাজত করুন এবং মুখ ও অন্তরকে পবিত্র রাখার তাওফিক দিন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.