বিবাহিত মহিলার দাওয়াতি কাজ ও তালিম-তাবলিগের হুকুম জানতে চাই?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 7025
Questioner: Shahzady kabir Munnie
Question Asked: 17 Oct 2026, 02:32 PM
Reviewed & Published: 17 Oct 2026, 02:57 PM
Views: 14
Tokens: 4,128
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম, শায়খের কাছে আমার প্রশ্ন,বিবাহিত মেয়েরা কিভাবে দাওয়াতি কাজ করবে? দাওয়াতি কাজ মানে কী তালিম ও তাবলীগ করা?আমি আগে তাবলীগ করতাম, তাবলীগ করলে মহিলাদের সাথে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে তালিম করতে হয়, আমার সন্তানদের বাসায় ফেলে দূরে গিয়ে এগুলো করতে ইচ্ছে করে না তাই এখন আর যায় না।আমার বাসায় ও আগে তালিম করতাম এখন ব্যস্ততার কারণে এগুলো ও করা হয়ে উঠছে না এখন কি আমার গুণাহ হবে?

Answer

وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ

উত্তর (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী):

প্রশ্নের সারমর্ম এই যে, বিবাহিত মহিলার দাওয়াতি কাজের পদ্ধতি কী, তালিম-তাবলিগের হুকুম কী, এবং ঘর-সংসার ও সন্তান-সন্ততির দায়িত্বের কারণে বাইরে গিয়ে তাবলিগ ও ঘরে তালিম না করতে পারলে গুনাহ হবে কি না।

১. দাওয়াতি কাজ ও তালিম-তাবলিগের হুকুম

দাওয়াতি কাজ তথা দ্বীনের দাওয়াত, তালিম ও তাবলিগ মূলত ফরজে কিফায়া। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ ۚ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (সূরা আলে ইমরান: ১০৪)

আর রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:

مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৪৯; মুসনাদে আহমাদ)

তবে এই ফরজে কিফায়া প্রত্যেক ব্যক্তির উপর বাধ্যতামূলক নয়; বরং যারা এই কাজের যোগ্য ও সুযোগ আছে, তাদের উপর। আর প্রত্যেক মুসলিমের উপর ন্যূনতম কর্তব্য হলো নিজের ঘর-পরিবার ও সন্তান-সন্ততিকে দ্বীনের তালিম দেওয়া, নামাজ-রোজা-হালাল-হারাম শেখানো। এটাই প্রথম ও প্রধান দাওয়াতি দায়িত্ব।

২. বিবাহিত মহিলার দাওয়াতি কাজের পদ্ধতি

হানাফি ফিকহের মূলনীতি হলো, মহিলাদের জন্য ঘরই তাদের প্রধান জায়গা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ (সূরা আল-আহযাব: ৩৩)

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:

الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ، فَإِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস ১১৭৩)

অর্থাৎ নারী পর্দার বস্তু; সে বের হলে শয়তান তার দিকে দৃষ্টি দেয়। এজন্য মহিলাদের জন্য শরিয়তসম্মত পদ্ধতি হলো:

  • ঘরে থেকেই তালিম: নিজের ঘরে মেয়েদের ও মহিলাদের জন্য কুরআন-হাদিস ও মাসআলা-মাসায়েলের তালিমের মজলিস করা। এতে পর্দারও পূর্ণ হিফাজত হয় এবং সন্তানদের দেখাশোনাও হয়।
  • মহরমদের মাধ্যমে দাওয়াত: স্বামী, ভাই, পিতা বা অন্য মহরমের মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছানো।
  • নিজের পরিবার থেকে শুরু: প্রথমে নিজের সন্তান, স্বামী, আত্মীয়-স্বজনকে দ্বীনের তালিম দেওয়া। এটাই সবচেয়ে বড় দাওয়াতি কাজ।
  • মহিলাদের মাঝে সীমিত পরিসরে: প্রয়োজনে পূর্ণ পর্দা ও শরিয়তের সীমা রক্ষা করে মহিলাদের মজলিসে তালিম করা যেতে পারে, তবে সন্তানদের অবহেলা করে দূরে সফর করা শরিয়তে সমর্থিত নয়।

৩. সন্তানদের ফেলে দূরে গিয়ে তাবলিগ না করা — গুনাহ হবে কি?

না, ইনশাআল্লাহ গুনাহ হবে না। কারণ:

  • সন্তানদের লালন-পালন, তাদের দ্বীনি তালিম ও হিফাজত করা মায়ের উপর ওয়াজিব দায়িত্ব। এই ওয়াজিব দায়িত্ব পালনের কারণে নফল বা ফরজে কিফায়া ধরনের দাওয়াতি সফর ছেড়ে দেওয়া সম্পূর্ণ জায়েয, বরং কর্তব্যপালনই।
  • ফরজে কিফায়া তখনই ব্যক্তির উপর নির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক হয়, যখন অন্য কেউ তা পালন না করে এবং তার সামর্থ্য ও সুযোগ থাকে। কিন্তু পরিবারের ওয়াজিব হক তার উপর অগ্রাধিকার পায়।
  • ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেছেন, নারীর জন্য ঘরে অবস্থান ও পর্দা রক্ষা করা অগ্রগণ্য; বিনা প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া নিষিদ্ধ। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৬০০-এর কাছাকাছি; কিতাবুল হাযর ওয়াল ইবাহা)
  • হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) «বেহেশতী জেওর»-এ মহিলাদের কর্তব্য হিসেবে ঘরের দায়িত্ব, সন্তানদের তালিম ও পর্দা রক্ষার উপর জোর দিয়েছেন।

তবে হ্যাঁ, নিজের সন্তানদের দ্বীনি তালিম থেকে সম্পূর্ণ উদাসীন থাকা গুনাহের কারণ হবে। কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:

كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৮৯৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৮২৯)

অতএব, ঘরে বসে যতটুকু সম্ভব সন্তানদের নামাজ, কুরআন, দুআ ও আদব-আখলাক শেখানো, এবং ঘরে মহিলাদের জন্য সপ্তাহে একদিন হলেও ছোট তালিমের মজলিস করা — এগুলোই আপনার জন্য যথেষ্ট ও বরকতময় পথ। ব্যস্ততার কারণে কখনো ছুটে গেলে ইনশাআল্লাহ গুনাহ হবে না, তবে নিয়মিত চেষ্টা জারি রাখা কর্তব্য।

সংক্ষেপে:

  • দাওয়াতি কাজ ফরজে কিফায়া; ব্যক্তি বিশেষের উপর বাধ্যতামূলক নয়।
  • বিবাহিত মহিলার প্রধান দাওয়াতি কাজ ঘরে থেকে সন্তান-পরিবারকে দ্বীন শেখানো ও ঘরে মহিলাদের তালিমের ব্যবস্থা করা।
  • সন্তানদের অবহেলা করে দূরে সফরে তাবলিগে না যাওয়া গুনাহ নয়; বরং ওয়াজিব দায়িত্ব পালন।
  • তবে সন্তানদের দ্বীনি তালিমে সম্পূর্ণ অবহেলা করা যাবে না।

وَاللهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.