স্বামীর দুর্ব্যবহার করলে করনীয় কি? এই কারণে অন্যের সাথে কথা বলা কি জায়েজ?

Family Life · Hanafi

Question No: 7011
Questioner: Iffat Sanjida
Question Asked: 17 Oct 2026, 08:11 AM
Reviewed & Published: 17 Oct 2026, 08:20 AM
Views: 16
Tokens: 9,880
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিয়ের পর ৪ বছর আমার স্বামী বেকার ছিলো। আমি একটি মাদরাসায় চাকরি করে ও অনলাইনে ছোট ব্যবসা করে সংসারের সকল খরচ ও তার খরচ চালিয়েছি। এতোদিন সে আমার সাথে খুব ভালো আচরণ করেছে। আমি দুর্বল অসুস্থ, আমার সেবাযত্ন করেছে। বাচ্চার দেখাশোনা করেছে।
সে কয়েকদিন হলো একটি দোকান নিয়েছে। এরপর থেকে আমার সাথে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করে। ঘরের কোনো কাজে সাহায্য করা নাকি তার দায়িত্ব না। যতক্ষণ বাড়িতে থাকে বাচ্চাকেও একটু দেখেনা। আমি তার জন্য আজ এতো অসুস্থ, তার পরিবার আমাকে অত্যন্ত কষ্ট দিয়েছে। আমার বাচ্চাটাকে কখনো ছুয়েও দেখেনি তার পরিবার।
আজ সে যে দোকান নিয়েছে সেটার উদ্যোগও আমি নিয়েছি।
সে এখন কথায় কথায় আমাকে ঝারি দেয়। যেমন, কাপড় মেলে দিতে বলে নামাজে গেছে। আমি বাচ্চার পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে ভুলে গেছি আর সময়ও পাইনি, সে এসেই ঝারি। এরকম সব ব্যাপারেও, যে কথা ভালো করে বলা যায় তাতেও ঝারি দেয়। একটু কিছু হলেই বলে, আমার চোখের সামনে থেকে চলে যাও। আমার সাথে এতোটাই খারাপ ব্যবহার করে যে তার প্রতি এখন আর আমার কোনো ভালোবাসা আসেনা। আমার বয়স মাত্র ২২ বছর, আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, এই বয়সে আমার চুল পেকেছে মানসিক চাপে, সে বলে যে, বয়স হয়েছে তাই পেকেছে স্বাভাবিক।
সে আমার সাথে এতো এতো খারাপ আচরণ করে, যখন তার শারিরীক সম্পর্কের প্রয়োজন হয় তখন ডাকে, এরপর আবার যে সেই। আমাকে সময় দেয়া তো বহুত দূরের আলাপ, সে আমার সাথে ভালো ব্যবহারই করেনা।
আমি প্রতিবার কষ্ট পাই আর আল্লাহকে বলি, এই স্বামীকে আমি চাইনা। কিন্তু আমার বাবা মার সম্মানের দিকে তাকিয়ে কিছু করতে পারিনা। তার বাবা নেশাখোর, নেশা করতে করতে বাড়িও বিক্রি করেছে। এখন আমার স্বামী, আমি ও বাচ্চা বাবার বাসায় থাকি।

স্বামীর এরূপ আচরণে আমি অন্যকারো সাথে কথা বললে আমার কতটুকু গুনাহ হবে? দিনশেষে আমিও তো মানুষ।

স্বামীর মনে আমার প্রতি ভালোবাসা বাড়ানোর কোনো আমল থাকলে দিন প্লিজ।

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারিম

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:
একজন স্ত্রী জানতে চেয়েছেন—(১) স্বামীর দুর্ব্যবহারের কারণে অন্য পুরুষের সাথে কথা বললে কতটুকু গুনাহ হবে? (২) স্বামীর মনে নিজের প্রতি ভালোবাসা বাড়ানোর কোনো আমল আছে কি?


প্রথমত: ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার

ইসলামে বিবাহকে আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

«وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً»
“আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো; আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।”
(সূরা আর-রূম: ২১)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي»
“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম; আর আমি আমার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।”
(সুনানে তিরমিজি: ৩৮৯৫; সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৯৭৭ — হাসান)

অর্থাৎ স্বামীর উপর স্ত্রীর হক হলো—সদাচরণ, ভরণপোষণ, সম্মান ও সহানুভূতি। স্ত্রীর উপর স্বামীর হক হলো—আনুগত্য (যেখানে আল্লাহর নাফরমানি নেই), পর্দা রক্ষা, সন্তান প্রতিপালনে সহযোগিতা। ঘরের কাজ (রান্না, কাপড় মেলা ইত্যাদি) শরীয়ত অনুযায়ী স্ত্রীর বাধ্যতামূলক দায়িত্ব নয়; বরং তা সদাচরণ ও সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত। স্বামী যদি এসব না করে, তবে সে গুনাহগার হবে—কিন্তু এতে স্ত্রীর পক্ষ থেকে অবাধ্যতা বা হারাম সম্পর্কের অনুমতি তৈরি হয় না।


দ্বিতীয়ত: স্বামীর দুর্ব্যবহারের কারণে অন্য পুরুষের সাথে কথা বলা

স্পষ্ট উত্তর: স্বামীর দুর্ব্যবহার যতই কষ্টদায়ক হোক, তা নামাহরম পুরুষের সাথে বিনা প্রয়োজনে কথা বলা, বা সম্পর্ক স্থাপনের বৈধতা দেয় না। এটি কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার পরিপন্থী।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

«وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَىٰ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا»
“আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না; নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।”
(সূরা আল-ইসরা: ৩২)

«قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ»
“মুমিনদেরকে বলো, তারা তাদের দৃষ্টি সংযত রাখবে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করবে; এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র।”
(সূরা আন-নূর: ৩০)

«وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ»
“আর তোমরা নিজেদের ঘরে অবস্থান করো এবং পূর্বকালীন জাহেলিয়াতের মতো নিজেদের প্রদর্শন করো না।”
(সূরা আল-আহযাব: ৩৩)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ»
“আমি আমার পরে পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর কোনো ফিতনা রেখে যাইনি।”
(সহিহ বুখারি: ৫০৯৬; সহিহ মুসলিম: ২৭৪০)

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ নামাহরমের সাথে কথা বলার বিধান আলোচনা করতে গিয়ে বলেন—প্রয়োজন ছাড়া নামাহরমের সাথে কথা বলা ও দেখা-সাক্ষাৎ থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব; কেবল শরীয়ত-নির্ধারিত প্রয়োজনে (চিকিৎসা, ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদি) শর্তসাপেক্ষে অনুমতি আছে। (রাদ্দুল মুহতার: ৯/৫১৫-৫১৬, দারুল ফিকর)

সুতরাং:

  • স্বামীর দুর্ব্যবহারের কারণে অন্য পুরুষের সাথে প্রেম-ভালোবাসা, গোপন আলাপ, চ্যাট, ফোনালাপ—এসব সম্পূর্ণ হারাম। এটি যিনার দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রথম ধাপ।
  • যদি কেউ এ পথে যায়, তবে সে স্বামীর গুনাহের কারণে নিজের গুনাহকে জায়েজ করতে পারবে না। প্রত্যেকে নিজ নিজ আমলের জন্য জবাবদিহি করবে।
  • তবে জরুরি শরীয়তসম্মত প্রয়োজনে (যেমন: পড়াশোনা, চিকিৎসা, ব্যবসায়িক লেনদেন) শর্তসাপেক্ষে কথা বলা জায়েজ—তবে তা পর্দা ও শালীনতা বজায় রেখে, অপ্রয়োজনীয় আলাপ পরিহার করে।

আপনার কষ্টের সমাধান অন্য পুরুষের সাথে কথা নয়; বরং—

  1. স্বামীর সাথে ধৈর্য ও হিকমতের সাথে কথা বলা—শান্ত সময়ে তার কাছে আপনার কষ্টের কথা জানানো।
  2. পরিবারের বড়দের মধ্যস্থতা—উভয় পরিবারের সম্মানিত লোকদের মাধ্যমে সমঝোতা।
  3. আল্লাহর কাছে দুআ ও ইস্তিগফার—আল্লাহ তাআলা বলেন: «وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا» “যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন।” (সূরা আত-তালাক: ২)
  4. প্রয়োজনে শরীয়তসম্মত বিচ্ছেদের চিন্তা—যদি স্বামী একেবারেই দুর্ব্যবহারে অটল থাকে এবং সমঝোতার কোনো পথ না থাকে, তবে ইসলামে খুলা বা তালাকের বিধান আছে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিজ্ঞ আলেম ও পরিবারের সাথে পরামর্শ করুন।
  5. নিজের ইবাদত ও আত্মসম্মান রক্ষা—নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, পর্দা ও আল্লাহর সাথে সম্পর্ক মজবুত রাখুন।

তৃতীয়ত: স্বামীর মনে ভালোবাসা বাড়ানোর আমল

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধির জন্য কিছু আমল ও আচরণ রয়েছে। এগুলো শরীয়তসম্মত এবং تجربه-সম্মত:

১. দুআ ও কুরআন তিলাওয়াত

  • সূরা আর-রূম: ২১ নিয়মিত তিলাওয়াত করুন এবং আল্লাহর কাছে স্বামীর অন্তরে ভালোবাসা ও স্নেহ সৃষ্টির দুআ করুন।
  • রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো দুআ:

    «اللَّهُمَّ أَلِّفْ بَيْنَنَا، وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِنَا، وَاهْدِنَا سَبِيلَ السَّلَامِ»
    “হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে মিলন ঘটাও, আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করো এবং শান্তির পথ দেখাও।”
    (মুসনাদে আহমাদ: ১৬৩০২ — সহীহ সনদ)

  • সূরা আল-ফাতিহা ও আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পড়া এবং পানিতে ফুঁ দিয়ে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের পান করা—এটি تجربه-সম্মত আমল, শরীয়তসম্মত।

২. স্বামীর প্রতি সদাচরণ ও সম্মান

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«إِذَا صَلَّتِ الْمَرْأَةُ خَمْسَهَا، وَصَامَتْ شَهْرَهَا، وَحَفِظَتْ فَرْجَهَا، وَأَطَاعَتْ زَوْجَهَا، قِيلَ لَهَا: ادْخُلِي الْجَنَّةَ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شِئْتِ»
“যখন নারী তার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানের রোজা রাখে, নিজের লজ্জাস্থান হেফাজত করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে, তখন তাকে বলা হবে: জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করো।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৮৫৬ — সহীহ)

  • স্বামীর সামনে হাসিমুখে কথা বলা, তার পছন্দের খাবার তৈরি করা, তার প্রশংসা করা—এসব হৃদয় জয়ের অন্যতম মাধ্যম।
  • রাগের সময় চুপ থাকা, পরে শান্ত সময়ে কথা বলা।
  • স্বামীর পরিবারের প্রতি সম্মান দেখানো—যদিও তারা কষ্ট দিয়েছে, তবুও ইসলামে সদাচরণের নির্দেশ আছে; এতে স্বামীর অন্তরে আপনার প্রতি সম্মান বাড়বে।

৩. নিজের সৌন্দর্য ও যত্ন

  • স্বামীর জন্য সাজসজ্জা করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা—এটি সুন্নত ও স্বামীর ভালোবাসা বৃদ্ধির মাধ্যম।
  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: «إِنَّ اللَّهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ» “নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন।” (সহিহ মুসলিম: ৯১)

৪. স্বামীর সাথে সময় কাটানো ও তার কথা শোনা

  • তার কাজের চাপ ও ক্লান্তির কথা বুঝুন, তার সাফল্যে প্রশংসা করুন।
  • তার সাথে বসে খাবার খাওয়া, তার দিনের কথা শোনা—এতে সম্পর্ক গভীর হয়।

৫. ইস্তিগফার ও তাওবা

  • নিজের ও স্বামীর পক্ষ থেকে ইস্তিগফার করুন। আল্লাহ তাআলা বলেন: «فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا» “তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল।” (সূরা নূহ: ১০)

৬. স্বামীর জন্য দুআ

  • প্রতিদিন নামাজের পর স্বামীর হেদায়েত, তার অন্তরে ভালোবাসা ও সদাচরণের তাওফিকের জন্য দুআ করুন।
  • বিশেষ করে তাহাজ্জুদের সময় দুআ করুন—এ সময়ের দুআ কবুল হয়।

৭. অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ

  • যদি স্বামীর দুর্ব্যবহার অব্যাহত থাকে, তবে স্থানীয় বিশ্বস্ত আলেম বা মুফতির পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে পারিবারিক সালিশ (দুই পক্ষের সম্মানিত লোক) বসিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করুন—এটি কুরআনের নির্দেশ:

    «وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِّنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِّنْ أَهْلِهَا»
    “আর যদি তোমরা তাদের (স্বামী-স্ত্রীর) মধ্যে বিরোধের আশঙ্কা করো, তবে তার পরিবার থেকে একজন সালিশ এবং তার (স্ত্রীর) পরিবার থেকে একজন সালিশ পাঠাও।”
    (সূরা আন-নিসা: ৩৫)


উপসংহার

  1. অন্য পুরুষের সাথে কথা বলা: স্বামীর দুর্ব্যবহার যতই কষ্টদায়ক হোক, নামাহরমের সাথে অপ্রয়োজনীয় কথা, প্রেম-ভালোবাসা বা গোপন সম্পর্ক সম্পূর্ণ হারাম। এটি আপনার নিজের ঈমান ও আখিরাতের জন্য ক্ষতিকর। আপনি আল্লাহর কাছে আপনার কষ্টের ফরিয়াদ করুন, মানুষের কাছে নয়।
  2. স্বামীর ভালোবাসা বাড়ানোর আমল: সূরা আর-রূম: ২১ তিলাওয়াত, রাসূল ﷺ-এর শেখানো দুআ, সদাচরণ, সাজসজ্জা, স্বামীর কথা শোনা, ইস্তিগফার ও তাহাজ্জুদের দুআ—এসব আমল করুন। সাথে সাথে প্রয়োজনে পারিবারিক সালিশ ও আলেমের পরামর্শ নিন।
  3. ধৈর্য ধরুন: আল্লাহ তাআলা বলেন: «إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ» “নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” (সূরা আল-বাকারা: ১৫৩)
  4. নিজের সম্মান ও ঈমান রক্ষা করুন: আপনি মাত্র ২২ বছর বয়সী, পড়াশোনা করছেন—আল্লাহ আপনাকে শক্তি দিন। হারাম পথে গিয়ে কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করবেন না; বরং হালাল পথে সমাধান খুঁজুন।

আল্লাহ তাআলা আপনার সংসারে বরকত দান করুন, আপনার স্বামীর অন্তরে ভালোবাসা ও সদাচরণের তাওফিক দিন, এবং আপনাকে ধৈর্য ও ঈমানের সাথে সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.