আইভিএফ (IVF) ও হস্তমৈথুনের মাধ্যমে শুক্রাণু সংগ্রহ কি জায়েজ?

Family Life · Hanafi

Question No: 6954
Questioner: Nuva 42
Question Asked: 15 Oct 2026, 08:07 PM
Reviewed & Published: 15 Oct 2026, 08:33 PM
Views: 18
Tokens: 5,749
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম আইভিএফ এ স্বামীর শুক্রাণু সংগ্রহ করে বিভিন্ন পদ্ধতিতে স্ত্রীর ডিম্বাণুতে নিষিক্ত করা হয়। সাধারণত এটি হস্তমৈথুন পদ্ধতিতে করা হয় এবং স্ত্রীর ডিম্বাণু সংগ্রহের একই সময়ে তা নেওয়া হয়। স্বামী-স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে নেওয়া সম্ভব নয় কারণ স্ত্রী তখন ডিম্বাণু সংগ্রহের অস্ত্রোপচারের বেদনায় কাতর। এই ক্ষেত্রে হস্তমৈথুনের মাধ্যমে সংগ্রহটা কি হালাল হবে?

Answer

আইভিএফ (IVF) ও হস্তমৈথুনের মাধ্যমে শুক্রাণু সংগ্রহ: হানাফি ফিকহের দৃষ্টিতে বিস্তারিত বিশ্লেষণ

উত্তর (সংক্ষেপে): না, চিকিৎসার প্রয়োজনে হস্তমৈথুনের মাধ্যমে শুক্রাণু সংগ্রহ করা হালাল নয়। হানাফি মাযহাবের সুস্পষ্ট ও প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হলো—হস্তমৈথুন সম্পূর্ণরূপে হারাম, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এ নিষেধাজ্ঞা রহিত করে না।


হস্তমৈথুনের মূল হুকুম (হানাফি মাযহাব)

কুরআনের দলিল

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ ۞ إِلَّا عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ ۞ فَمَنِ ابْتَغَىٰ وَرَاءَ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْعَادُونَ

"আর যারা নিজেদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে; নিজেদের স্ত্রী ও মালিকানাধীন দাসী ছাড়া। নিশ্চয়ই এদেরকে তিরস্কার করা হবে না। অতএব যে ব্যক্তি এদের ছাড়া অন্য কিছু কামনা করবে, তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।" — (সূরা আল-মু'মিনুন: ৫-৭; সূরা আল-মা'আরিজ: ২৯-৩১)

এই আয়াতে আল্লাহ তা'আলা কেবল স্ত্রী ও মালিকানাধীন দাসীর মাধ্যমে যৌন-তৃপ্তিকে বৈধ বলেছেন। এর বাইরে যে কোনো উপায় অবলম্বন করা "সীমালঙ্ঘন" (আদুন) হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। হস্তমৈথুন এই সীমালঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত।

হাদিসের দলিল

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ، فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ

"হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে; কারণ তা দৃষ্টিকে সংযত রাখে ও লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে; কারণ রোজা তার জন্য ঢালস্বরূপ।" — (সহিহ বুখারি: ৫০৬৫, সহিহ মুসলিম: ১৪০০)

রাসূলুল্লাহ ﷺ কামভাব দমন করার জন্য বিয়ে এবং সামর্থ্য না থাকলে রোজার নির্দেশ দিয়েছেন—হস্তমৈথুনের অনুমতি দেননি। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.) এই হাদিসকে হস্তমৈথুন হারাম হওয়ার দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

হানাফি ফিকহের সুস্পষ্ট অবস্থান

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হলো—হস্তমৈথুন হারাম। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-ও এই মত সমর্থন করেছেন।

আল্লামা ইবনে আবিদিন শামি (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন:

"وَالِاسْتِمْنَاءُ حَرَامٌ"

"হস্তমৈথুন করা হারাম।" — (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুল হাজার, খণ্ড ২, পৃ. ৩৯৯)

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.)-এর বর্ণনায় এসেছে—হস্তমৈথুনকারীকে শাস্তি দেওয়া হবে, কারণ সে অপ্রয়োজনীয় অঙ্গকে কাজে লাগিয়েছে।

ফাতাওয়া আলমগিরিতে এসেছে:

"الاستمناء باليد حرام"

"হাত দ্বারা হস্তমৈথুন করা হারাম।" — (ফাতাওয়া আলমগিরি, কিতাবুল কারাহিয়্যাহ, খণ্ড ৫, পৃ. ৩৭২)

ফাতাওয়া উসমানি-তে মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) স্পষ্টভাবে বলেন:

"হস্তমৈথুন ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। চিকিৎসার প্রয়োজনে বা শুক্রাণু পরীক্ষার জন্য এটি করার অনুমতি নেই।" — (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ৩, পৃ. ৩০৫-৩০৭)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.