রোজা অবস্থায় অজু-গোসলের সময় পানি গলায় চলে গেলে রোজা ভাঙে কি?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
(১)
রোজা অবস্থায় অজু করার সময়ে যেমন, মুনাসিব পরিমাণ পানি ফেলে দিলে হয়ে যায় অবশিষ্ট পানি গিলে ফেললে রোজার ক্ষতি হয়না, ঠিক তেমনই তো রোজা অবস্থায় গোসলের সময়ে বা অন্য কাজকর্মাবস্থায় মুনাসিব পরিমাণ পানি সাধ্যমতনই ফেলে দিলেই হয়ে যাবে বাকিটা গিলে ফেললে তো সমস্যা হবেনা ইনশা আল্লাহ। ঠিক আছে তো?
(২) নিম্নোক্ত এই হাদিসের দুয়াটির পূর্ণাঙ্গ দুয়াটি দিবেন ইনশা আল্লাহ!!
“সহিহ হাদিসে এসেছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল-সন্ধ্যা যেসব দু‘আ পড়তেন, সেগুলোর একটি দু‘আ বেশ বড়। সেই দু‘আটির একটি বাক্য হলো—
.
اَللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي
.
‘‘হে আল্লাহ! আপনি আমার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখুন।’’ [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৮৭১; হাদিসটি সহিহ]”//
**পূর্বের কাজা সালাত আদায় করার বিষয়ে ইশার সালাতের সাথে বিতর ও কি কাজা আদায় করতে হবে?
Answer
উত্তর (সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট)
প্রশ্ন ১: রোজা অবস্থায় অজু/গোসলের সময় মুখে পানি নিয়ে কুলি করা বা নাকে পানি দেওয়ার সময় ভুলে পানি গলায় চলে গেলে রোজা ভাঙে না।
তবে ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনিচ্ছাকৃত ভাবে গিলে ফেলা যাবে না।
আর "মুনাসিব পরিমাণ পানি ফেলে দিলেই বাকিটা গিলে ফেললে সমস্যা নেই" — এটা সঠিক নয়। ** — এটাই সঠিক মাসআলা।
রোজা অবস্থায় অজু বা গোসল করা জায়েজ। কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া সুন্নত। তবে রোজাদারের জন্য মুবালাগা (অতিরিক্ত গভীরভাবে কুলি/নাকে পানি দেওয়া) করা মাকরুহ, কারণ এতে পানির গলায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
হাদিস:
لَقِيطُ بْنُ صَبِرَةَ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَخْبِرْنِي عَنِ الْوُضُوءِ؟ قَالَ: «أَسْبِغِ الْوُضُوءَ، وَخَلِّلْ بَيْنَ الْأَصَابِعِ، وَبَالِغْ فِي الِاسْتِنْشَاقِ، إِلَّا أَنْ تَكُونَ صَائِمًا» — সুনানে আবু দাউদ: ১৪২; তিরমিজি: ৭৮৮; নাসাঈ: ৮৭; ইবনু মাজাহ: ৪০৭ — হাদিসটি হাসান/সহিহ।
(২) উল্লিখিত দুআর পূর্ণাঙ্গ রূপ
আপনি যে দুআর কথা বলেছেন, সেটি ইমাম ইবনু মাজাহ (৩৮৭১) ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত একটি দীর্ঘ দুআর অংশ। পূর্ণ দুআটি হলো:
اَللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي، وَآمِنْ رَوْعَاتِي، وَاحْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي، وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মাসতুর ‘আওরাতি, ওয়া আমিন রাও‘আতি, ওয়াহফাযনি মিন বাইনা ইয়াদাইয়্যা ওয়া মিন খালফি, ওয়া ‘আন ইয়ামিনি ওয়া ‘আন শিমালি, ওয়া মিন ফাওকি, ওয়া আ‘উযু বিকা আন উগতালা মিন তাহতি।
অর্থ:
"হে আল্লাহ! আপনি আমার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখুন, আমার ভয়-ভীতি দূর করুন, আমার সামনে-পেছনে, ডানে-বামে ও উপরে থেকে আমাকে হেফাজত করুন। আর আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই নিচ থেকে (হঠাৎ ধ্বংস/পতন থেকে)।"
রেফারেন্স:
- ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৮৭১
- আবু দাউদ: ৫০৭৪ (অনুরূপ)
- সহিহ ইবনু হিব্বান: ৯৬১
- আল-আযকার (ইমাম নববি), পৃ. ১০৭
- ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ৩, পৃ. ৪৬০ (দুআ অধ্যায়)
নোট: এই দুআটি সকাল-সন্ধ্যার যিকিরের অংশ হিসেবে পড়া যায়। হাদিসটি সহিহ।
(৩) পূর্বের কাজা সালাত আদায়ের সময় ইশার সাথে বিতর ও কাজা আদায়
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী:
- বিতর সালাত ওয়াজিব, তাই তার কাজা আদায়ও ওয়াজিব।
সুতরাং পূর্বের কাজা সালাত আদায়ের সময় ইশার সাথে বিতর ও কাজা আদায় করতে হবে।