ফুফুর সাথে ফোনে মেয়েদের দোষ-ত্রুটির কথা শোনা কি গীবত?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 6891
Questioner: Faria Islam
Question Asked: 14 Oct 2026, 11:21 AM
Reviewed & Published: 14 Oct 2026, 11:40 AM
Views: 24
Tokens: 4,769
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আমার ফুফুর সাথে ফোন এ কথা বলার সময় প্রায়ই সে তার মেয়েদের নিয়ে একজন মা হিসেবে তার দুশ্চিন্তা, মানসিক কষ্ট গুলো শেয়ার করে। যেমন : তার বড় মেয়ে পড়াশোনা করে না, তার ফিউচার এ কি হবে, অনেক টাকা দিয়ে কোচিং এ এডমিট হয়েও ক্লাস করতে যায়না, মা বাবার কথা শুনে না। এসব কষ্টের কথা গুলো শেয়ার করে। এখন আমি না শুনেও পারি না। এই গুলো শুনা কি আমার গীবত হচ্ছে? আর যদি গীবত হয়ে যায় তাহলে এখন আমি কি করতে পারি?? বা এই রকম পরিস্থিতিতে পরলে কি করা উচিত?

Answer

উত্তর (সংক্ষিপ্ত):

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার ফুফু যখন তার মেয়েদের দোষ-ত্রুটি ও কষ্টের কথা আপনার কাছে শেয়ার করেন, তখন সেটি সাধারণভাবে গীবতের অন্তর্ভুক্ত।

তবে যদি যদি বিষয়টি এমন হয় যা আপনার ফুফু তার মেয়েদের কথা আপনাকে বলতেছে যাতে আপনি তার মেয়েদেরকে বুঝিয়ে শুনিয়ে এই সমস্ত কর্ম গুলি হতে বিরত রাখতে পারেন, তো সংশোধনের নিয়তে আপনাকে যদি বলে থাকে আর আপনি যদি তাদেরকে সংশোধন করার চেষ্টা করেন, সেক্ষেত্রে এটির বৈধতা হবে।

ইসলামে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গীবতের অনুমতি রয়েছে।


১. গীবত কী?

গীবত বলা হয়—কারো অনুপস্থিতিতে তার এমন দোষ আলোচনা করা, যা শুনলে সে অসন্তুষ্ট হবে—যদিও তা সত্য হয়। যদি মিথ্যা হয়, তবে তা অপবাদ (বুহতান), যা আরও ভয়াবহ।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ ۖ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাকো; নিশ্চয়ই কিছু ধারণা পাপ। আর গোয়েন্দাগিরি করো না এবং একে অন্যের গীবত করো না। তোমাদের কেউ কি নিজের মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? বরং তোমরা তা অপছন্দ করবে। আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।" (সূরা হুজুরাত: ১২)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

أَتَدْرُونَ مَا الْغِيبَةُ؟ قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ

"তোমরা কি জানো গীবত কী? সাহাবারা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: তোমার ভাইয়ের এমন বিষয় উল্লেখ করা, যা সে অপছন্দ করে।" (সহীহ মুসলিম: ২৫৮৯)


২. গীবতের অনুমতি আছে যেসব ক্ষেত্রে

ইসলামি ফিকহের কিতাবসমূহে গীবতের অনুমতি রয়েছে ছয়টি ক্ষেত্রে। ইমাম নববী (রহ.) উল্লেখ করেছেন:

  1. মাজলুম ব্যক্তি—নিজের ওপর জুলুমের কথা শাসক বা বিচারকের কাছে বলতে পারবে।
  2. সংশোধন ও পরামর্শের উদ্দেশ্যে—কোনো ব্যক্তির দোষ উল্লেখ করে উপযুক্ত পরামর্শ দিতে।
  3. ফতোয়া জিজ্ঞাসার ক্ষেত্রে—মুফতিকে প্রকৃত অবস্থা জানানো।
  4. মুসলমানদের সতর্ক করা—যেমন বিবাহ বা ব্যবসায় প্রতারণার আশঙ্কা থাকলে।
  5. প্রকাশ্য পাপী ব্যক্তি—যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে পাপ করে, তার সেই প্রকাশ্য পাপের আলোচনা।
  6. পরিচয়ের প্রয়োজনে—যেমন "কানা", "খোঁড়া" ইত্যাদি বিশেষণে পরিচয় দেওয়া (তবে সুন্দর বিকল্প থাকলে তা ব্যবহার করা উত্তম)।

(রিয়াদুস সালিহীন, হাদীস নং ১৫২৮-এর ব্যাখ্যা; ফাতহুল বারী: ১০/৪৫০; রাদ্দুল মুহতার: ৬/৪০৪)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.