মানেকুইন ব্যবহার ইসলামে জায়েজ কি না?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
মানেকুইন (Mannequin) ব্যবহারের শরয়ি বিধান
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
অনলাইনে বোরকা, জামা বা হিজাব বিক্রয়ের সময় কাস্টমারকে পণ্য বুঝানোর জন্য যে মানেকুইন (চোখ-মুখবিহীন পুতুল) ব্যবহার করা হয়, তা ইসলামে জায়েজ কি না?
উত্তর
এটি জায়েজ নয় — কারণ এতে প্রাণীর মূর্তি/আকৃতি তৈরি বা ব্যবহারের অন্তর্ভুক্তি ঘটে, যা হাদিসে নিষিদ্ধ।
কুরআনের দলিল
আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَعْمَلُونَ لَهُ مَا يَشَاءُ مِن مَّحَارِيبَ وَتَمَاثِيلَ "তারা তার জন্য তৈরি করত যা সে চাইত — মিহরাব ও মূর্তিসমূহ।" — সূরা সাবা: ১৩
এখানে "তামাসিল" (মূর্তি/আকৃতি) শব্দটি এসেছে। তবে উলামায়ে কেরাম বলেন, নবী সুলাইমান (আ.)-এর জন্য যা তৈরি হতো তা ছিল প্রাণী-আকৃতিমুক্ত বা সেসময়ের শরিয়তে বৈধ ছিল; আমাদের শরিয়তে প্রাণীর আকৃতি নিষিদ্ধ।
হাদিসের দলিল
প্রাণীর আকৃতি তৈরি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَدِمَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مِنْ سَفَرٍ وَقَدْ سَتَرْتُ سَهْوَةً لِي بِقِرَامٍ فِيهِ تَمَاثِيلُ، فَلَمَّا رَآهُ رَسُولُ اللهِ ﷺ هَتَكَهُ وَقَالَ: إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الَّذِينَ يُشَبِّهُونَ بِخَلْقِ اللهِ "আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ সফর থেকে ফিরে এসে দেখলেন আমি একটি পর্দা দিয়ে আমার ঘরের অংশ ঢেকেছি, যাতে ছবি/আকৃতি ছিল। তিনি তা ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেন: কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি তাদের হবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির অনুকরণ করে।" — সহিহ বুখারি: ৫৯৫৪; সহিহ মুসলিম: ২১০৭
ছবি ও আকৃতি প্রসঙ্গে কঠোর সতর্কতা
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا عِنْدَ اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُصَوِّرُونَ "আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি পাবে সেই ব্যক্তিরা, যারা ছবি/আকৃতি নির্মাণ করে।" — সহিহ বুখারি: ৫৯৫০; সহিহ মুসলিম: ২১০৯
ফেরেশতা ছবিযুক্ত ঘরে প্রবেশ করেন না
عَنْ أَبِي طَلْحَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلَا تَمَاثِيلُ "আবু তালহা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন: যে ঘরে কুকুর বা মূর্তি/আকৃতি থাকে, সেখানে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করেন না।" — সহিহ বুখারি: ৩২২৫; সহিহ মুসলিম: ২১০৪
والله أعلم بالصواب