কালো মেহেদি বা কলব নখে দেওয়া জায়েজ কি?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
কালো মেহেদি বা কলব নখে দেওয়া জায়েজ কি?
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন—নখে কালো মেহেদি বা "কলব" (নখে লাগানোর কালো রঙ) দেওয়া ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ কি না।
সংক্ষিপ্ত উত্তর
পুরুষের জন্য: নখে কালো মেহেদি বা কলব লাগানো জায়েজ নয়; কারণ এটি নারীর সাদৃশ্য অবলম্বন এবং সাধারণত তামাশা/ফ্যাশনের উদ্দেশ্যে করা হয়, যা পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ।
নারীর জন্য: স্বামী বা মাহরামদের সামনে সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্দেশ্যে নখে কালো মেহেদি বা কলব লাগানো মূলত জায়েজ; তবে দুটি শর্ত:
- নামাজের আগে নখের উপর যে স্তর জমে তা অপসারণ করতে হবে, নইলে অযু-গোসল পানি নখ পর্যন্ত পৌঁছাবে না এবং নামাজ হবে না।
তবে যদি এটি নখে পানি পৌঁছাতে প্রতিবন্ধকতা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে,সেক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। 2. বেগানা পুরুষের সামনে প্রদর্শন করা যাবে না (পর্দার বিধান প্রযোজ্য)।
তবে কালো রঙ ব্যবহারে সতর্কতা: এটি সাধারণত ফ্যাশন/তামাশার অংশ হয়ে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে নখে এমন পুরু স্তর জমে যা পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়। তাই সতর্কতামূলকভাবে এড়িয়ে চলাই উত্তম, বিশেষত যদি তা নামাজে বিঘ্ন ঘটায়।
--
১. মূলনীতি: নখে রঙ লাগানো ও পবিত্রতা
ইসলামে নখে মেহেদি লাগানো নিষিদ্ধ নয়; বরং নারীর জন্য এটি সৌন্দর্য ও স্বামীর নিকট প্রিয় হওয়ার একটি বৈধ উপায়। হাদিসে নারীরা মেহেদি ব্যবহার করতেন বলে বর্ণনা রয়েছে।
তবে মূল সমস্যা হলো নখের উপর পুরু স্তর জমে যাওয়া, যা অযু-গোসলের সময় পানিকে নখ পর্যন্ত পৌঁছাতে বাধা দেয়। ফিকহের মূলনীতি হলো:
"যে বস্তু ত্বকের উপর এমন স্তর তৈরি করে যা পানিকে ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দেয়, তা অপসারণ করা ওযুর জন্য জরুরি।"
ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেন:
"যদি নখের উপর এমন কিছু লাগানো হয় যা পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তবে তা অপসারণ করা ওযুর শুদ্ধতার জন্য শর্ত।"
(রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুত তাহারাত, অযুর ফরজসমূহ)
২. কালো রঙের বিধান
কালো মেহেদি বা কালো রঙের নখের পলিশ (কলব) সম্পর্কে:
- নারীর জন্য: স্বামী/মাহরামের সামনে সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্দেশ্যে জায়েজ, তবে নামাজের আগে অবশ্যই অপসারণ করতে হবে যদি তা পুরু স্তর হয়।
- পুরুষের জন্য: নিষিদ্ধ। কারণ:
- এটি নারীর সাদৃশ্য (তাশাব্বুহ বিন-নিসা), যা হাদিসে নিষিদ্ধ।
- রাসূলুল্লাহ ﷺ পুরুষদের নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে নিষেধ করেছেন।
হাদিস:
"রাসূলুল্লাহ ﷺ নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষদের এবং পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন।"
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৮৮৫)
৩. ফ্যাশন ও তামাশার উদ্দেশ্য
যদি কালো মেহেদি বা কলব শুধু ফ্যাশন, তামাশা বা অহংকার/প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে লাগানো হয়, তবে তা মাকরুহে তাহরিমি বা নিষিদ্ধের কাছাকাছি। ইসলামে সৌন্দর্য গ্রহণ বৈধ, কিন্তু তা হতে হবে সংযম ও শরিয়তের সীমার মধ্যে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
"হে আদম সন্তান! প্রত্যেক নামাজের সময় তোমরা সুন্দর পোশাক পরিধান করো।"
(সূরা আল-আরাফ: ৩১)
৪. হানাফি ফিকহের সিদ্ধান্ত
ফাতাওয়া উসমানি-তে উল্লেখ আছে:
"নখে যদি এমন রঙ বা পলিশ লাগানো হয় যা পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তবে তা অপসারণ করা ওযুর জন্য জরুরি। আর যদি তা না হয়, তবে জায়েজ। তবে পুরুষের জন্য নারীর সাদৃশ্য অবলম্বন করা নিষিদ্ধ।"
(ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩০-২৩১)