মাসিকের আগে কালো-লাল ময়লা দেখা দিলে নামাজের হুকুম কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 6814
Questioner: فتاح
Question Asked: 12 Oct 2026, 08:45 PM
Reviewed & Published: 13 Oct 2026, 01:41 AM
Views: 10
Tokens: 4,688
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার প্রতি মাসের মাসিক নিয়মিত হয় আলহামদুলিল্লাহ যেমন আগের বার সেপ্টেম্বর মাসের ১৯ তারিখে মাসিক হয়েছিল অক্টোবর মাসে আমার ২৫ তারিখে এ মাসিক হওয়ার কথা আমার ৩০ দিন অন্তর অন্তর মাসিক হয় এমনটাই স্বাভাবিকভাবে চলে আসছে কিন্তু হঠাৎ করে আজকে আমার এই ১২ তারিখে মাসিকের মতো ময়লা যাচ্ছে কালো লাল কালারের মাসিকের সময় যেমন ময়লা যায় কিন্তু পুরোপুরি রক্ত না এমনটা আগে কখনোই হয়নি এখন এটাকে কি হায়েজ ধরব নাকি নেফাস হিসেবে ধরে নিব যেহেতু আমার আগে কখনোই এমনটা হয়নি তুমি আসলে বুঝতে পারছি না আমার ইশার সালাত এখন আদায় করা উচিত কিনা আমাকে একটু অনুগ্রহ করে তাড়াতাড়ি প্রশ্নের উত্তরটি দিবেন আমার এই মুহূর্তে কি করণীয়।

Answer

হায়েজ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

আপনার মাসিক নিয়মিত ৩০ দিন অন্তর হয়। সর্বশেষ সেপ্টেম্বরের ১৯ তারিখে হয়েছিল, পরবর্তী অক্টোবরের ২৫ তারিখে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ ১২ তারিখে কালো-লাল রঙের ময়লা (পুরোপুরি রক্ত নয়) দেখা যাচ্ছে। আপনি জানতে চান—এটি হায়েজ না নেফাস? নামাজ আদায় করবেন কি?


ফিকহি বিশ্লেষণ

১. নেফাস কী?

নেফাস হলো সন্তান জন্মদানের পর জরায়ু থেকে নির্গত রক্ত। আপনি যেহেতু সন্তান জন্ম দেননি, তাই এটি নেফাস নয়। নেফাসের সাথে এই ময়লার কোনো সম্পর্ক নেই।

রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯৮; আল-হিদায়া, কিতাবুত তাহারাত।

২. হায়েজের সর্বনিম্ন সময়

হানাফি মাযহাবে হায়েজের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন ৩ রাত (৭২ ঘণ্টা)। এর কম সময় রক্ত বা ময়লা আসলে তা হায়েজ নয়, বরং ইস্তিহাযা (অসুস্থতার রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে।

দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন— «أَقَلُّ الْحَيْضِ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ وَأَكْثَرُهُ عَشْرَةُ أَيَّامٍ» "হায়েজের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন এবং সর্বোচ্চ ১০ দিন।" — সুনানে দারাকুতনী, হাদিস ৫৮৭; শরহু মাআনিল আসার (ইমাম তাহাবি)।

রেফারেন্স: আল-হিদায়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৩; ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪১; বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪১।

৩. হায়েজের সর্বনিম্ন বয়স ও নিয়মিত অভ্যাস

  • হায়েজের সর্বনিম্ন বয়স ৯ বছর (চান্দ্র মাস হিসেবে)।
  • আপনার ক্ষেত্রে বয়সের সমস্যা নেই।
  • আপনার নিয়মিত অভ্যাস ৩০ দিন অন্তর। এখন ১২ তারিখে এসেছে—অর্থাৎ মাত্র ২৩ দিনের মাথায়। এটি আপনার স্বাভাবিক চক্রের চেয়ে ৭ দিন আগে।

৪. এই ময়লার হুকুম

যেহেতু এটি:

  • পুরোপুরি রক্ত নয়, বরং কালো-লাল ময়লা
  • আপনার স্বাভাবিক চক্রের চেয়ে আগে এসেছে
  • এখনো ৩ দিন পূর্ণ হয়নি

এখনই হায়েজ বলা যাবে না। তবে যদি টানা ৩ দিন ৩ রাত এই ময়লা/রক্ত চলতে থাকে, তাহলে হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে এবং তখন থেকে নামাজ ছেড়ে দিতে হবে।

আর যদি ৩ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এটি ইস্তিহাযা (অসুস্থতার রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে—তখন নামাজ-রোজা সবই চালিয়ে যেতে হবে, শুধু ওজুর জন্য প্রতিবার নামাজের সময় ওজু করে নিতে হবে।

রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৫-২৮৬; ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০৭।


আপনার করণীয় (এখনই)

| অবস্থা | করণীয় | |--------|--------| | এখন (১২ তারিখ, ময়লা দেখা যাচ্ছে) | নামাজ আদায় করবেন। কারণ এখনো ৩ দিন পূর্ণ হয়নি, তাই এটি হায়েজ নয়। | | যদি টানা ৩ দিন ৩ রাত (৭২ ঘণ্টা) চলতে থাকে | ৭২ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার পর থেকে হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে—নামাজ ছেড়ে দেবেন। | | যদি ৩ দিনের আগেই বন্ধ হয়ে যায় | এটি ইস্তিহাযা—নামাজ চালিয়ে যাবেন, প্রতিবার নামাজের জন্য নতুন ওজু করবেন। | | যদি ১০ দিনের বেশি চলতে থাকে | ১০ দিন পর্যন্ত হায়েজ, এরপর ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে। |

বিশেষ নির্দেশনা

  1. এখন থেকে নামাজ আদায় করুন—কারণ এখনো হায়েজের শর্ত পূর্ণ হয়নি।
  2. প্রতিদিন হিসাব রাখুন—কত তারিখ, কত সময় থেকে শুরু হয়েছে লিখে রাখুন।
  3. ৩ দিন পূর্ণ হলে নামাজ বন্ধ করবেন এবং হায়েজের বিধান পালন করবেন।
  4. সন্দেহ হলে স্থানীয় বিশ্বস্ত মুফতির সাথে সরাসরি পরামর্শ করুন।

সতর্কতা: হায়েজ ও ইস্তিহাযার পার্থক্য নির্ণয়ে ৩ দিন ৩ রাত পূর্ণ হওয়া অপরিহার্য। এর আগে নামাজ ছেড়ে দেওয়া যাবে না।


সারসংক্ষেপ

  • এটি নেফাস নয় (সন্তান জন্মদান হয়নি)।
  • এটি এখনো হায়েজ নয় (৩ দিন পূর্ণ হয়নি)।
  • এখন নামাজ আদায় করুন।
  • ৩ দিন ৩ রাত পূর্ণ হলে হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে, তখন নামাজ ছাড়বেন।
  • ৩ দিনের আগে বন্ধ হলে ইস্তিহাযা—নামাজ চালিয়ে যাবেন।

মূল রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৫-২৯৮
  • আল-হিদায়া, কিতাবুত তাহারাত
  • ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪১
  • ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০৭
  • শরহু মাআনিল আসার (ইমাম তাহাবি)
  • বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪১

واللہ أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.