মাসবুকের নামাজে তাশাহহুদের পর দুআ পড়া ও ছুটে যাওয়া রাকাত আদায়ের সঠিক নিয়ম।
Salah-Prayer · Hanafi
Question
, আমার নামাজে কি কোনো সমস্যা হয়েছে?
Answer
মাসবুকের নামাজে দুআ পড়া ও ছুটে যাওয়া রাকাত আদায়ের বিধান
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
প্রশ্নকারী জামাতে নামাজে মাসবুক হয়েছেন (প্রথম রাকাত ছুটে গেছে)। ইমামের সঙ্গে শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর তিনি "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির" দুআটি এক-দুইবার পড়ে ফেলেন। এরপর ইমাম সালাম ফেরানোর পর উঠে ছুটে যাওয়া এক রাকাত আদায় করেন। জানতে চান—নামাজে কোনো সমস্যা হয়েছে কি?
উত্তর
১. মাসবুক কে?
যে ব্যক্তি জামাতে ইমামের সঙ্গে প্রথম রাকাত (বা একাধিক রাকাত) না পেয়ে পরে শরিক হয়, তাকে মাসবুক বলা হয়। মাসবুক ইমামের সঙ্গে যতটুকু পেয়েছেন, তা আদায় করবেন; অতঃপর ইমামের সালাম ফেরানোর পর দাঁড়িয়ে ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো একা আদায় করবেন।
দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
«فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا، وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا»
"তোমরা যা পেয়েছ তা পড়, আর যা ছুটে গেছে তা পূর্ণ কর।"
— সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৩৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬০২
২. মাসবুকের জন্য ইমামের শেষ বৈঠকে করণীয়
মাসবুক ইমামের সঙ্গে শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়বেন। তাশাহহুদ শেষে তিনি চুপ করে বসে থাকবেন এবং ইমামের সালাম ফেরানোর অপেক্ষা করবেন।
৩. "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু..." দুআটি পড়া
প্রশ্নে উল্লিখিত দুআটি হলো—
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
এটি একটি মাসনুন দুআ। হাদীসে এই দুআর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। তবে এটি তাশাহহুদের পরের নির্ধারিত দুআ মাসুরা নয়; বরং এটি যিকির ও দুআর অন্তর্ভুক্ত।
হাদীস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
«مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، عَشْرَ مَرَّاتٍ...»
"যে ব্যক্তি এই দুআ দশবার পড়বে..."
— সহীহ বুখারী, হাদীস ৩২৯৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬৯১
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী: নামাজের বৈঠকে তাশাহহুদের পর এই ধরনের দুআ পড়া জায়েজ। তবে দুআ মাসুরা পড়া সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। মাসবুক যদি তাশাহহুদের পর এই দুআ পড়েন, তাহলে নামাজ সহীহ হবে; কোনো সমস্যা নেই।
সূত্র:
- রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৩২
- ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৪৫
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪১২
والله أعلم بالصواب