রহমতের ফেরেশতা কোন কোন ছুরতে ঘরে ঢুকে না?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 6797
Questioner: tahia islam samaira 1032
Question Asked: 12 Oct 2026, 04:17 PM
Reviewed & Published: 12 Oct 2026, 06:43 PM
Views: 11
Tokens: 3,438
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কি কি কারণে ফেরেশতা ঘরে ঢুকে না

Answer

ফেরেশতা ঘরে প্রবেশ না করার কারণসমূহ

প্রশ্ন: কী কী কারণে ফেরেশতা ঘরে ঢুকে না?

উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، أما بعد

ফেরেশতাগণ নূরের তৈরি পবিত্র মাখলুক। তাঁরা সর্বদা আল্লাহর ইবাদত ও তাসবিহে মগ্ন থাকেন এবং আল্লাহর হুকুমেই বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। শরিয়তের দৃষ্টিতে কিছু কারণ রয়েছে, যেগুলোর উপস্থিতিতে রহমতের ফেরেশতাগণ ঘরে বা স্থানে প্রবেশ করেন না। নিম্নে কুরআন-হাদিস ও হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।


১. ছবি (প্রাণীর মূর্তি/ছবি) থাকা

হাদিসে এসেছে, হযরত আবু তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

«لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلَا تَمَاثِيلُ»

"যে ঘরে কুকুর আছে এবং (প্রাণীর) মূর্তি/ছবি আছে, সেই ঘরে (রহমতের) ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না।"

— সহিহ বুখারি: ৩২২৫; সহিহ মুসলিম: ২১০৬

ব্যাখ্যা: এখানে "তামাসিল" (تماثيل) দ্বারা প্রাণীর মূর্তি ও ছবি উদ্দেশ্য। তবে যে ছবি অপমানিত/মুছে ফেলা অবস্থায় থাকে বা যা দৃশ্যমান নয়, তা ভিন্ন। (রাদ্দুল মুহতার: ১/৬৪৭)


২. কুকুর থাকা

উপরোক্ত হাদিসেই কুকুরের উল্লেখ আছে। তবে শিকার, পাহারা ও কৃষিকাজের প্রয়োজনে পালিত কুকুর ভিন্ন। হযরত ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

«مَنِ اقْتَنَى كَلْبًا إِلَّا كَلْبَ صَيْدٍ أَوْ مَاشِيَةٍ نَقَصَ مِنْ أَجْرِهِ كُلَّ يَوْمٍ قِيرَاطَانِ»

"যে ব্যক্তি শিকার বা পশুপালনের কুকুর ছাড়া অন্য কুকুর পালন করে, তার আমল থেকে প্রতিদিন দুই কিরাত সওয়াব কমতে থাকে।"

— সহিহ বুখারি: ৫৪৮০; সহিহ মুসলিম: ১৫৭৪


৩. ঘণ্টা/নাকুস থাকা

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

«الْجَرَسُ مَزَامِيرُ الشَّيْطَانِ»

"ঘণ্টা শয়তানের বাঁশি।"

— সহিহ মুসলিম: ২১১৪

আর যে ঘরে শয়তানের সংশ্লিষ্ট বস্তু থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না।


৪. নাপাক অবস্থায় থাকা (জুনুবি/হায়েজ/নিফাস)

হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

«لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ صُورَةٌ وَلَا جُنُبٌ»

"যে ঘরে ছবি থাকে এবং যে ঘরে জুনুবি (নাপাক) ব্যক্তি থাকে, সেখানে ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না।"

— সুনানে আবু দাউদ: ২২৭; মুসনাদে আহমাদ

হানাফি ফিকহের ব্যাখ্যা: ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন, এখানে জুনুবি অবস্থায় ঘুমানো বা অবস্থান করা উদ্দেশ্য; গোসল করা পর্যন্ত। (রাদ্দুল মুহতার: ১/১৭৪)

গান-বাজনা ও অশ্লীলতা

যে ঘরে গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র, অশ্লীল ছবি-ভিডিও ইত্যাদি চলে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। ইমাম কুরতুবি (রহ.) ও ইবনে তাইমিয়া (রহ.) এ বিষয়ে উল্লেখ করেছেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.