"লা'নাতুল্লাহিল কাহহার" নামে বিশেষ লা'নাতের দাবি কি সত্য?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 6754
Questioner: Al Amin Ahmed Mobin
Question Asked: 11 Oct 2026, 07:01 PM
Reviewed & Published: 11 Oct 2026, 07:56 PM
Views: 34
Tokens: 2,992
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

লানাতুল্লাহিল কাহহার নিয়ে গুগলে পেলাম এই ধরনের লানত সর্বোচ্চ পর্যায়ের লানত যেহেতু কাহহার নাম আছে...আসলেই কতটুক বাস্তব

Answer

লা'নাতুল্লাহিল কাহহার: একটি পর্যালোচনা

প্রশ্ন: "লা'নাতুল্লাহিল কাহহার" নামে একটি লা'নাত গুগলে পাওয়া যায়। বলা হয়, এতে আল্লাহর "কাহহার" নাম থাকায় এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের লা'নাত। আসলে এটি কতটুকু বাস্তব?


সংক্ষিপ্ত উত্তর

"লা'নাতুল্লাহিল কাহহার" নামে কোনো নির্দিষ্ট লা'নাত কুরআন, হাদীস বা ফিকহের কোনো নির্ভরযোগ্য কিতাবে বর্ণিত নেই। এটি কোনো প্রতিষ্ঠিত দুআ বা লা'নাতের সূত্র নয়। আল্লাহর নাম "আল-কাহহার" (القَهَّار) কুরআনে এসেছে, কিন্তু এই নাম যোগ করে বিশেষ কোনো লা'নাতের সূত্র কুরআন-সুন্নাহয় নেই। তাই এটিকে "সর্বোচ্চ পর্যায়ের লা'নাত" বলা বা বিশেষ ফযীলত মনে করা ভিত্তিহীন।


বিস্তারিত আলোচনা

১. আল্লাহর নাম "আল-কাহহার" সম্পর্কে

আল্লাহ তাআলার নামসমূহের মধ্যে "আল-কাহহার" (القَهَّار - মহাপরাক্রমশালী, সর্বোপরি বিজয়ী) একটি। কুরআনে এসেছে:

هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ ۖ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ "তিনিই আল্লাহ, সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবক, আকৃতি দানকারী; তাঁরই জন্য উত্তম নামসমূহ।" — (সূরা হাশর: ২৪)

قُلْ مَنْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ قُلِ اللَّهُ... وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ "বলুন, আসমান ও জমিনের রব কে? বলুন, আল্লাহ... আর তিনিই এক, মহাপরাক্রমশালী।" — (সূরা রা'দ: ১৬)

তবে আল্লাহর নাম ব্যবহার করে বিশেষ কোনো লা'নাতের সূত্র কুরআন-হাদীসে নেই।

২. লা'নাতের শরয়ী পদ্ধতি

শরীয়তে লা'নাত (অভিশাপ) করার বৈধ পদ্ধতি হলো:

  • যালিমের বিরুদ্ধে সাধারণভাবে দুআ করা — যেমন: "আল্লাহ যালিমকে লা'নাত করুন।"
  • কুরআনে যাদের প্রতি আল্লাহ লা'নাত করেছেন তাদের উল্লেখ করা — যেমন কাফির, মুনাফিক, ফাসিক ইত্যাদি।
  • নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি লা'নাত করা নিষিদ্ধ যদি সে মুসলিম হয় এবং নির্দিষ্টভাবে অভিশাপের যোগ্য না হয়।

হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

لَا تَلَاعَنُوا بِلَعْنَةِ اللَّهِ وَلَا بِغَضَبِ اللَّهِ وَلَا بِالنَّارِ "তোমরা আল্লাহর লা'নাত, আল্লাহর গযব ও জাহান্নাম দ্বারা একে অপরকে অভিশাপ দিও না।" — (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯০৬; সুনানে তিরমিযী: ১৯৭৬)

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেন, মুসলিমকে নির্দিষ্টভাবে লা'নাত করা জায়েয নয়, তবে সাধারণভাবে ফাসিক-যালিমের জন্য দুআ করা জায়েয। (রাদ্দুল মুহতার: ১/৫৬০)

৩. "সর্বোচ্চ পর্যায়ের লা'নাত" — এই ধারণার ভিত্তি নেই

ইসলামে ইবাদত-দুআ সবই তাওকীফি (কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা নির্ধারিত)। নিজে থেকে নতুন দুআ বা লা'নাতের পদ্ধতি বানানো বা তাতে বিশেষ ফযীলত আরোপ করা বিদআত।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُم مِّنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَن بِهِ اللَّهُ "নাকি তাদের এমন শরীক আছে, যারা আল্লাহর অনুমতি ছাড়া দ্বীনের মধ্যে এমন বিধান চালু করেছে?" — (সূরা শূরা: ২১)

ফাতাওয়া উসমানী ও ইমদাদুল ফাতাওয়া-তে স্পষ্ট করা হয়েছে, দুআ ও যিকিরে নতুন পদ্ধতি বা বিশেষ নাম-সংযোজন করে ফযীলত বর্ণনা করা শরীয়তসম্মত নয়। (ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৪/২৭০)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.