বাংলাদেশে আরাফার দিন কবে?
Hajj and Umrah · Hanafi
Question
Answer
উত্তর
আরাফার রোজা: তারিখ নির্ধারণ ও নিয়ত
প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর:
হানাফি মাযহাব মতে, আপনি আপনার দেশের (বাংলাদেশ) স্থানীয় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ৯ই জিলহজ্জ তারিখ নির্ধারণ করবেন। যদি বাংলাদেশে ৯ই জিলহজ্জ সৌদির ১০ই জিলহজ্জের সাথে মিলে যায়, তাহলে আপনাকে বাংলাদেশের ৯ই জিলহজ্জ তারিখেই আরাফার রোজা রাখতে হবে। সৌদির তারিখ অনুসরণ করা জরুরি নয়। আর যদি আপনি উভয় দিনই (৮ই ও ৯ই) রোজা রাখেন, তবে শুধু একদিন নিয়ত করবেন—সেটি হবে আপনার স্থানীয় গণনা অনুযায়ী ৯ই জিলহজ্জের দিন।
বিস্তারিত দলিল ও মতামত
১. হানাফি মাযহাবের মূলনীতি:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, আরাফার রোজা ও ঈদের দিন নির্ধারণে স্থানীয় চাঁদ দেখা বা স্থানীয় গণনা অনুসরণ করতে হবে। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে ইফতার করো।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯০৯)
ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, প্রতিটি অঞ্চলের জন্য নিজস্ব চাঁদ দেখা বা গণনা প্রযোজ্য। (রদ্দুল মুহতার, ২/৩৮২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৯৫)
২. "দুদিন রোজা রাখলে কোনদিন নিয়ত করব?"
আপনি যদি সৌদির ৯ই জিলহজ্জ এবং বাংলাদেশের ৯ই জিলহজ্জ (যা আলাদা দিন) উভয় দিনই রোজা রাখেন, তাহলে আপনাকে স্পষ্টভাবে নিয়ত করতে হবে যে, কোন দিনটি আপনি আরাফার রোজা হিসেবে গণ্য করছেন। সাধারণত স্থানীয় ৯ই জিলহজ্জকেই আরাফার রোজা ধরা হয়। যদি আপনি স্থানীয় ৯ই জিলহজ্জে রোজা রাখেন, তাহলে সেটিই আরাফার রোজা হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি সৌদির ৯ই জিলহজ্জ (যা আপনার দেশে ৮ই) রোজা রাখেন, তাহলে সেটি নফল রোজা হবে, আরাফার রোজা নয়।
সারসংক্ষেপ ও পরামর্শ
- স্থানীয় ৯ই জিলহজ্জে আরাফার রোজা রাখুন (বাংলাদেশের গণনা অনুযায়ী)।
- দুদিন রোজা রাখলে: শুধু স্থানীয় ৯ই জিলহজ্জে আরাফার রোজার নিয়ত করুন। দ্বিতীয় দিনটি সাধারণ নফল রোজা হিসেবে গণ্য হবে।
শেষ সিদ্ধান্ত:
বাংলাদেশে চাঁদ দেখা বা গণনা অনুযায়ী ৯ই জিলহজ্জ যেই দিন হবে, সেদিনই আরাফার রোজা রাখবেন। সৌদির তারিখের সাথে মিল না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক ইবাদত করার তাওফিক দিন। (আমিন)