পর্তুগালে অস্থায়ীভাবে টাকা কামানোর জন্য যাওয়া জায়েজ কি?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
পর্তুগালে অস্থায়ীভাবে টাকা কামানোর উদ্দেশ্যে যাওয়া: ফিকহি বিশ্লেষণ
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন—পর্তুগালে বোরকা/হিজাব নিষিদ্ধ হলেও ইসলাম পালনে বাধা নেই। তিনি পুরুষ হওয়ায় হিজাব-বোরকার বিধান তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এখন শুধু অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে অস্থায়ীভাবে পর্তুগালে যাওয়া জায়েজ হবে কি?
কাফির দেশে গমনের শর্তসমূহ
হানাফি ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, কাফির দেশে (দারুল কুফর) গমনের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত রয়েছে:
শর্ত ১: দ্বীন পালনের স্বাধীনতা থাকতে হবে
ইমাম সারাখসি (রহ.) বলেন:
وَلَا يَخْرُجُ إِلَى دَارِ الْحَرْبِ إِلَّا بِشَرْطِ أَنْ يَكُونَ آمِنًا عَلَى دِينِهِ "দারুল হারব-এ কেউ যাবে না, তবে এই শর্তে যে, সে নিজের দ্বীনের ব্যাপারে নিরাপদ থাকবে।" (আল-মাবসুত, সারাখসি)
শর্ত ২: হারাম কাজে লিপ্ত না হওয়া
শর্ত ৩: স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়ত না করা (যদি দ্বীন পালনে বাধা থাকে)
৩. পর্তুগালের বর্তমান অবস্থা
পর্তুগালে ইসলাম ধর্ম পালনে বাধা নেই, মসজিদ রয়েছে, মুসলিমরা স্বাধীনভাবে ইবাদত করতে পারে। বোরকা/হিজাব নিষেধাজ্ঞা শুধু নারীদের জন্য প্রযোজ্য এবং তা নির্দিষ্ট কিছু পাবলিক স্থানে। পুরুষদের জন্য এ বিধান প্রযোজ্য নয়।
ফিকহি সিদ্ধান্ত
যদি শুধু অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে যান:
শর্তসাপেক্ষে জায়েজ হবে, যদি নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ হয়:
| শর্ত | বিবরণ | |------|--------| | ১ | হালাল উপায়ে উপার্জন করতে হবে (সুদ, জুয়া, হারাম ব্যবসা নয়) | | ২ | নামাজ, রোজা, অন্যান্য ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করতে হবে | | ৩ | হারাম কাজ (যিনা, মদ, সুদ ইত্যাদি) থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে | | ৪ | স্থায়ীভাবে সেখানে বসবাসের নিয়ত থাকলে এবং সন্তান-সন্ততির দ্বীন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলে—তাহলে নিষিদ্ধ | | ৫ | অস্থায়ীভাবে (কয়েক বছর) থাকার নিয়ত থাকলে এবং দ্বীন পালনে সক্ষম হলে—জায়েজ |
মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.)-এর ফতোয়া:
"কাফির দেশে বসবাস করা জায়েজ, তবে শর্ত হলো—সেখানে দ্বীন পালনে বাধা না থাকা, হারাম কাজে লিপ্ত না হওয়া, এবং সন্তানদের ইসলামি শিক্ষার ব্যবস্থা থাকা। যদি এসব শর্ত পূরণ হয়, তবে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে যাওয়া জায়েজ।" (ফতোয়ায়ে উসমানি, ৩/৪৫০-৪৫৫)
ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন:
وَيَجُوزُ السَّفَرُ إِلَى دَارِ الْحَرْبِ لِلتِّجَارَةِ إِذَا كَانَ آمِنًا عَلَى دِينِهِ "দারুল হারবে ব্যবসার জন্য সফর করা জায়েজ, যদি সে নিজের দ্বীনের ব্যাপারে নিরাপদ থাকে।" (রাদ্দুল মুহতার, ৪/১৩৪)
বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ
১. হিজাব-বোরকা নিষেধাজ্ঞা আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণ আপনি পুরুষ। তবে আপনার পরিবারের নারী সদস্যরা সাথে থাকলে তাদের দ্বীন পালনে সমস্যা হতে পারে—এটি বিবেচনায় রাখুন।
২. অস্থায়ীভাবে যাওয়া যদি হয় এবং দ্বীন পালনে কোনো বাধা না থাকে, তবে জায়েজ।
৩. স্থায়ীভাবে বসবাস যদি হয় এবং সন্তানদের দ্বীন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে মাকরুহে তাহরিমি বা নিষিদ্ধ।
৪. উদ্দেশ্য শুধু টাকা কামানো হলে—যদি হালাল পথে হয় এবং দ্বীন পালনে বাধা না থাকে, তবে জায়েজ। তবে দুনিয়ার মোহে পড়ে দ্বীন বিসর্জন দেওয়া কখনোই জায়েজ নয়।