বাজারের কৃত্রিম ক্রীম বা লোশন ব্যবহার করে ফর্সা হওয়া কি জায়েজ?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
বাজারের কৃত্রিম ক্রীম বা লোশন ব্যবহার করে ফর্সা হওয়া কি জায়েজ?
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন—বাজারে পাওয়া কৃত্রিম ক্রীম বা লোশন ব্যবহার করে গায়ের রং ফর্সা করা কি জায়েজ? আর যদি বিয়ের প্রস্তাব বা বিয়ের উদ্দেশ্যে সেটা করা হয়, তাহলে বিধান কী?
উত্তর
মূলত দুটি দিক বিবেচনা করতে হবে:
১. **যদি ক্রীম/লোশন এর ব্যবহার এর ফলে ত্বকের ক্ষতি হয়, সেক্ষেত্রে কোনক্রমেই উক্ত ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা জায়েজ হবে না।
উক্ত ক্রীম/লোশন যদি হারাম বা নাজিস (অপবিত্র) উপাদান যেমন—শূকরের চর্বি, অ্যালকোহল, নাজিস মিশ্রণ ইত্যাদি দ্বারা তৈরি হয়**, তাহলে তা ব্যবহার করা জায়েজ নয়।
কেননা রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا» — সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১০১৫
২. যদি ক্রীম/লোশনটি পাক (পবিত্র) ও হালাল উপাদানে তৈরি হয় এবং তা শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হয়, তাহলে মূলত তা ব্যবহার করা জায়েজ। তবে শর্ত হলো—
- তাতে কোনো প্রতারণা বা মিথ্যা দাবি না থাকা।
- শরীরের কোনো ক্ষতি না হওয়া।
- আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন (তাগইয়িরে খালকিল্লাহ) এর অন্তর্ভুক্ত না হওয়া।
১. হালাল-হারামের দিক
ইসলামে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা নিষিদ্ধ নয়; বরং পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর থাকা সুন্নত। কিন্তু সেটা হতে হবে হালাল পন্থায়। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
«يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ» — সূরা আল-আ'রাফ: ৩১
তবে যে ক্রীম বা লোশনে শূকরের চর্বি (gelatin/pork fat), অ্যালকোহল, বা নাজিস উপাদান থাকে, তা ব্যবহার করা হারাম। কারণ নাজিস বস্তু দিয়ে চিকিৎসা বা সৌন্দর্য—কোনো কাজেই ব্যবহার করা জায়েজ নয় (তবে জীবন রক্ষার প্রয়োজনে ভিন্ন বিধান)।
ফতোয়ায়ে আলমগিরি-তে আছে:
"নাজিস বস্তু দ্বারা তৈরি ঔষধ বা প্রসাধনী ব্যবহার করা জায়েজ নয়, যদি না তা জীবন রক্ষার জন্য অপরিহার্য হয়।" — ফতোয়ায়ে আলমগিরি, কিতাবুল কারাহিয়্যাহ
২. ফর্সা হওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহার
যদি ক্রীমটি হালাল হয় এবং শুধু রং ফর্সা করার জন্য ব্যবহার করা হয়, তবে তা জায়েজ। তবে মনে রাখতে হবে—
- এটি আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন (তাগইয়ির) নয়; কারণ রং পরিবর্তন সাময়িক ও বাহ্যিক।
- কিন্তু যদি কেউ স্থায়ীভাবে রং পরিবর্তন করে বা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করে, তবে তা নিষিদ্ধ।
রাদ্দুল মুহতার-এ ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন:
"সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য হালাল প্রসাধনী ব্যবহার করা জায়েজ, যদি তা নাজিস না হয় এবং ক্ষতিকর না হয়।" — রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃ. ৩৬৭