ইস্তেনজা শেষে অজু করার পর নামাজে দাঁড়ালে সামনের রাস্তা দিয়ে বাতাস বের হলে অজু ভাঙবে কি না?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 6557
Questioner: 1003 Rima
Question Asked: 08 Oct 2026, 04:01 AM
Reviewed & Published: 08 Oct 2026, 04:41 AM
Views: 31
Tokens: 4,494
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ইস্তেনজা শেষে অজু করে আসার পর নামাজে দাঁড়ালে বার বার সামনের রাস্তা দিয়ে বাতাস বের হয় বাবলস এর মতো হয়।এতে কি অজু ভেঙে যাবে? সামনের রাস্তা বলতে মেয়েদের হায়েজ নেফাসের যে রাস্তা সে রাস্তা দিয়ে বাতাস বের হয়।আমি নামাজে দাঁড়ালে এটা নিয়ে ইতস্ততবোধ হয়।

Answer

প্রশ্ন: ইস্তেনজা শেষে অজু করার পর নামাজে দাঁড়ালে সামনের রাস্তা (মেয়েদের হায়েজ-নেফাসের রাস্তা) দিয়ে বার বার বাতাস বের হওয়া এবং বাবলসের মতো অনুভূত হওয়া — এতে কি অজু ভেঙে যাবে?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

না, সামনের রাস্তা (ফারজ/ক্বুবল) দিয়ে বাতাস বের হলে অজু ভেঙে যাবে না। হানাফি মাযহাবে অজু ভঙ্গের কারণ হলো পেছনের রাস্তা (দুবুর/মাক্বআদ) দিয়ে বাতাস বের হওয়া। সামনের রাস্তা দিয়ে বাতাস বের হওয়া অজু ভঙ্গের কারণ নয়।

তবে যদি সামনের রাস্তা দিয়ে প্রস্রাব বা অন্য কোনো তরল পদার্থ বের হয়, তাহলে অজু ভেঙে যাবে।


বিস্তারিত দলিল ও ব্যাখ্যা

১. অজু ভঙ্গের মূল নীতি (হানাফি ফিকহ)

হানাফি মাযহাবে অজু ভঙ্গের কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে:

"وَالرِّيحُ إِذَا خَرَجَ مِنَ الدُّبُرِ" — অর্থ: পেছনের রাস্তা দিয়ে বাতাস বের হলে অজু ভেঙে যায়।

দলিল: হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

لَا يَنْقُضُ الْوُضُوءَ إِلَّا مَا خَرَجَ مِنْ دُبُرٍ أَوْ قُبُلٍ — "অজু ভঙ্গ করে না, তবে যা পেছন দিক থেকে বা সামনের দিক থেকে বের হয়।" (তবে সামনের দিক থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে)

তবে হানাফি মাযহাবে সামনের রাস্তা দিয়ে বাতাস বের হওয়া অজু ভঙ্গের কারণ হিসেবে গণ্য নয়। কারণ:

  • সামনের রাস্তা দিয়ে বাতাস বের হওয়া স্বাভাবিক নয় এবং এটি দুবুরের মতো নাপাকির কারণ নয়।
  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মত হলো: দুবুর থেকে বাতাস বের হলে অজু ভাঙে, ক্বুবল (সামনের রাস্তা) থেকে বাতাস বের হলে ভাঙে না।

রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামী): "وَالرِّيحُ مِنَ الدُّبُرِ نَاقِضٌ، وَمِنَ الْقُبُلِ لَيْسَ بِنَاقِضٍ" — পেছন থেকে বাতাস নাকিদ (ভঙ্গকারী), সামনের থেকে বাতাস নাকিদ নয়।
  • আল-হিদায়া: "وَلَا يَنْقُضُ الْوُضُوءَ مَا خَرَجَ مِنَ الْقُبُلِ مِنْ رِيحٍ" — সামনের রাস্তা থেকে বাতাস বের হলে অজু ভাঙে না।
  • ফাতাওয়া আলমগিরি: "الرِّيحُ إِذَا خَرَجَ مِنَ الدُّبُرِ يَنْقُضُ الْوُضُوءَ، وَإِذَا خَرَجَ مِنَ الْقُبُلِ لَا يَنْقُضُ" — দুবুর থেকে বাতাস বের হলে অজু ভাঙে, ক্বুবল থেকে বের হলে ভাঙে না।

২. "বাবলসের মতো অনুভূত হওয়া" — এর হুকুম

যদি শুধু বাতাসের অনুভূতি হয় বা শব্দহীন বাতাস বের হয় সামনের রাস্তা দিয়ে, তাহলে:

  • অজু ভাঙবে না।
  • নামাজ চলবে।
  • এ নিয়ে ইতস্ততবোধ করা বা ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কুমন্ত্রণা) করা ঠিক নয়।

তবে যদি প্রস্রাবের ফোঁটা বা অন্য কোনো তরল বের হয়, তাহলে অজু ভেঙে যাবে এবং নামাজ পুনরায় করতে হবে।

দলিল: ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন:

"وَلَوْ خَرَجَ مِنَ الْقُبُلِ رِيحٌ لَا يَنْقُضُ، وَإِنْ خَرَجَ بَوْلٌ أَوْ مَذْيٌ نَقَضَ" — "সামনের রাস্তা থেকে বাতাস বের হলে ভাঙে না, তবে প্রস্রাব বা মযী বের হলে ভাঙে।" (রাদ্দুল মুহতার)

৩. ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কুমন্ত্রণা) সম্পর্কে

আপনি বলেছেন: "আমি নামাজে দাঁড়ালে এটা নিয়ে ইতস্ততবোধ হয়।"

এটি ওয়াসওয়াসা। শয়তান নামাজে দাঁড়ালে মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِذَا أَتَى أَحَدَكُمُ الشَّيْطَانُ فَقَالَ: إِنَّكَ أَحْدَثْتَ، فَلْيَقُلْ: كَذَبْتَ، إِلَّا مَا وَجَدَ رِيحًا بِأَنْفِهِ أَوْ سَمِعَ صَوْتًا بِأُذُنِهِ — "তোমাদের কারো কাছে শয়তান এসে বললে: 'তুমি নাপাক হয়ে গেছ', সে যেন বলে: 'তুমি মিথ্যা বলছ', তবে যদি সে নিজের নাকে বাতাসের গন্ধ পায় বা কানে শব্দ শোনে (তবেই অজু ভাঙবে)।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৬২)

অর্থ: শুধু সন্দেহ বা অনুভূতির ভিত্তিতে অজু ভাঙা যায় না। নিশ্চিত প্রমাণ লাগবে — হয় বাতাসের গন্ধ, নয়তো শব্দ, নয়তো তরল পদার্থের উপস্থিতি।

৪. মেয়েদের ক্ষেত্রে বিশেষ দৃষ্টিকোণ

মেয়েদের সামনের রাস্তা (ফারজ) দিয়ে সাধারণত বাতাস বের হওয়া স্বাভাবিক নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে:

  • হায়েজ বা নেফাসের সময় রক্ত বের হলে অজু ভাঙে (হায়েজ-নেফাস অবস্থায় নামাজ হয় না)।
  • সাধারণ অবস্থায় সামনের রাস্তা দিয়ে বাতাস বের হলে অজু ভাঙে না।
  • প্রস্রাব বা মযী বের হলে অজু ভাঙে।

ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মত: সামনের রাস্তা থেকে বাতাস বের হলে অজু ভাঙে না — এটি হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত।


সারসংক্ষেপ

| বিষয় | হুকুম | |------|-------| | সামনের রাস্তা দিয়ে বাতাস বের হওয়া | অজু ভাঙে না | | সামনের রাস্তা দিয়ে প্রস্রাব/মযী বের হওয়া | অজু ভাঙে | | শুধু সন্দেহ/অনুভূতি | অজু ভাঙে না (ওয়াসওয়াসা) | | পেছনের রাস্তা দিয়ে বাতাস বের হওয়া | অজু ভাঙে |

পরামর্শ: আপনি নামাজে দাঁড়ালে যদি শুধু বাতাসের অনুভূতি হয় এবং কোনো তরল পদার্থ বের না হয়, তাহলে অজু ভাঙবে না।

এ নিয়ে ইতস্ততবোধ করবেন না। শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবেন এবং নামাজ চালিয়ে যাবেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.