জামায়াতে ইসলামী: ১৯৭১ সালের ভূমিকা, বর্তমান রাজনীতি ও ইসলামের বিধান কী?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 6543
Questioner: Md. Nuhan Tahery
Question Asked: 07 Oct 2026, 09:51 PM
Reviewed & Published: 08 Oct 2026, 04:44 AM
Views: 12
Tokens: 8,804
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। ইসলামের দৃষ্টিতে জানতে চাই:

১. কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের অন্যায় কর্মকাণ্ডের কারণে সেই দলকে ঘৃণা করা কি জায়েজ?

২. জামায়াতে ইসলামীর ১৯৭১ সালের ভূমিকার কারণে দলটিকে ঘৃণা বা বিরোধিতা করা কি শরিয়াহসম্মত?

৩. ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হয়েছে। এর ভিত্তিতে পুরো দলকে রাজাকার বলা কি শরিয়াহসম্মত?

৪. বর্তমান জামায়াতের এমন কোনো সদস্য, যার ১৯৭১ সালের অপরাধের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই, তাকে শুধু দলীয় পরিচয়ের কারণে রাজাকার বলা কি জায়েজ?

৫. কোনো ব্যক্তির অন্যায় কাজকে ঘৃণা করা এবং সেই ব্যক্তিকে ঘৃণা করার মধ্যে ইসলামের দৃষ্টিতে কী পার্থক্য রয়েছে?

৬. জামায়াতে ইসলামীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে তাদের রাজনৈতিক আদর্শ ও রাজনীতির বিরোধিতা করা কি জায়েজ?

৭. যে রাজনৈতিক সংগঠনের তৎকালীন নেতৃত্ব বা সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার বিচারিক রেকর্ড রয়েছে, সেই সংগঠনের নামে বর্তমান সময়ে রাজনীতি করা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ কি না?

৮. কোনো সংগঠনের অতীতের গুরুতর অপরাধের দায় বর্তমান সংগঠন ও তার সদস্যদের ওপর কতটুকু বর্তায়?

কুরআন, সহিহ হাদিস ও নির্ভরযোগ্য ফিকহের দলিলসহ সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট উত্তর দেওয়ার অনুরোধ করছি।

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- আবূ হারূন আল-আবদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। عَنْ أَبِي هَارُونَ الْعَبْدِيِّ، قَالَ كُنَّا إِذَا أَتَيْنَا أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ قَالَ مَرْحَبًا بِوَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ لَنَا ‏ "‏ إِنَّ النَّاسَ لَكُمْ تَبَعٌ وَإِنَّهُمْ سَيَأْتُونَكُمْ مِنْ أَقْطَارِ الأَرْضِ يَتَفَقَّهُونَ فِي الدِّينِ فَإِذَا جَاءُوكُمْ فَاسْتَوْصُوا بِهِمْ خَيْرًا ‏"‏

তিনি বলেন, আমরা আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) -এর কাছে এলেই তিনি বলতেনঃ তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওসিয়ত অনুযায়ী স্বাগতম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলতেনঃ লোকেরা অবশ্যই তোমাদের অনুগামী। অচিরেই পৃথিবীর দিকদিগন্ত থেকে লোকেরা তোমাদের নিকট দ্বীনি ইলম অর্জনের জন্য আসবে। তারা যখন তোমাদের নিকট আসবে,তখন তোমরা তাদেরকে ভালো ও উত্তম উপদেশ দিবে।(সুনানু তিরমিযি-২৪৯,তিরমিযী ২৬৫০-৫১, মুওয়াত্ত্বা মালিক ২৪৭।)

সু-প্রিয় পাঠকবর্গ ও প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন! অতীব জরুরী ও সাধারণ মাস'আলা মাসাঈল আয়ত্বে না থাকার কারণে দৈনন্দিন জীবনে দ্বীন-ইসলাম পালন করতে, যে সমস্ত দ্বীনি ভাই-বোন থমকে দাড়ান,এবং যাদের দ্বীনি ইলম অর্জনের কাছাকাছি কোনো নির্ভরযোগ্য মাধ্যম নেই, মূলত তাদেরকে দিকনির্দেশনা দিতেই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস .....

মুহতারাম/মুহতারামাহ! দ্বীনের পরিধি অনেক ব্যাপক, সকল বিষয়ে আলোচনা করা বা দিকনির্দেশনা দেওয়া স্বল্প পরিসরের এই ভার্চুয়ালি মাধ্যম দ্বারা আমাদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। চেষ্টা করলেও প্রশ্নকারীর পিপাসা মিটানো সম্ভব হবে না। প্রত্যেক বিষয়ে আমরা শুধুমাত্র সামান্য আলোকপাত করে থাকি।

উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তরের জন্য আপনার এলাকার সংশ্লিষ্ট উলামায় কেরামের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা আপনার জন্য কল্যাণকর হবে বলেই আমাদের ধারণা।

তাছাড়া ইলম অর্জনের জন্য সফর করা অত্যান্ত জরুরী। এবং কষ্ট করে ইলম অর্জন করাই আমাদের আকাবির আসলাফদের রীতি ও নীতি। এদিকেই কুরআনের এই আয়াত ইঙ্গিত দিচ্ছে, ۚفَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَائِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হলো না, যাতে দ্বীনের জ্ঞান লাভ করে এবং সংবাদ দান করে স্ব-জাতিকে, যখন তারা তাদের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে, যেন তারা বাঁচতে পারে।(সূরা তাওবাহ-১২২)

সুতরাং আপনাকে বলবো, আপনি বিস্তারিত জানতে স্ব-শরীরে কোনো দারুল ইফতায় যোগাযোগ করবেন। প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।আল্লাহ তা'আলা আপনার ইলম অর্জনের স্পৃহাকে আরো বাড়িয়ে দিক, আমীন।

প্রত্যেকটা বিষয়ের সাথে নিম্নের হাদীসকে লক্ষ্য রাখবেন। হাসান ইবনে আলী রাযি থেকে বর্ণিত রয়েছে। ﻭﻋﻦ ﺍﻟﺤَﺴَﻦِ ﺑﻦ ﻋَﻠﻲٍّ ﺭﺿﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗَﺎﻝَ : ﺣَﻔِﻈْﺖُ ﻣِﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﷺ : « ﺩَﻉْ ﻣَﺎ ﻳَﺮِﻳﺒُﻚَ ﺇِﻟﻰ ﻣَﺎ ﻻ ﻳﺮِﻳﺒُﻚ » ﺭﻭﺍﻩُ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﻭﻗﺎﻝ : ﺣﺪﻳﺚٌ ﺣﺴﻦٌ ﺻﺤﻴﺢٌ তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে বলতে শুনেছি।তিনি বলেন,সন্দেহ যুক্ত জিনিষকে পরিহার করে সন্দেহমুক্ত জিনিষকে গ্রহণ করো।(সুনানু তিরমিযি-২৪৪২)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.