এলাকার অধিকাংশ মানুষ আহলে হাদিস মত অনুসরণ করলেও হানাফি মাযহাব অনুসরণ করা কি বৈধ?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 6531
Questioner: Muhammad Tanvir Molla
Question Asked: 07 Oct 2026, 06:49 PM
Reviewed & Published: 07 Oct 2026, 06:54 PM
Views: 24
Tokens: 5,317
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি যতটুক জেনেছি বিভিন্ন ইখতিলাফি বিষয়ে আমার এলাকায় যেই মতটা/মাযহাব সবাই মেনে চলেন বা যেই মতের আলেমরা আছেন সেইটা মানা। কিন্তু আমার বিবেক-বিবচনা অনুযায়ী আমার কাছে হানাফি মাযহাবটা বেশী গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে তাই আমি হানাফী মাযহাব মেনে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে এই মাযহাবটায় প্রচলতি।এখন, আমার এলকার বেশীরভাগ মানুষই মতভেদপুর্ণ বিষয়গুলো এই মত অর্থাৎ আহলে হাদিস অনুসারে আমল করেন। কয়েকজন ছাড়া এইক্ষেত্রে আমার হানাফি মাযহাব মেনে চলা কি ঠিক আছে?

Answer

হানাফি মাযহাব মেনে চলা কি ঠিক? — একটি বিস্তারিত ফিকহি বিশ্লেষণ

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন—তিনি হানাফি মাযহাব অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কিন্তু তাঁর এলাকার অধিকাংশ মানুষ আহলে হাদিস মত অনুসারে আমল করেন। এই পরিস্থিতিতে হানাফি মাযহাব মেনে চলা কি ঠিক আছে?


উত্তর: সংক্ষেপে

হ্যাঁ, হানাফি মাযহাব মেনে চলা সম্পূর্ণ ঠিক এবং শরীয়তসম্মত। কোনো নির্দিষ্ট এলাকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতের সাথে মিল না থাকলেও, যে কেউ চারটি সুপ্রতিষ্ঠিত মাযহাবের যেকোনো একটি গ্রহণ করে আমল করতে পারে। বরং আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো—একজন সাধারণ মুসলিমের জন্য চার মাযহাবের যেকোনো একটি নির্দিষ্টভাবে অনুসরণ করা (তাকলিদ) কর্তব্য।


বিস্তারিত আলোচনা

১. তাকলিদ বা মাযহাব অনুসরণের বিধান

আল্লাহ তা'আলা কুরআনে ইরশাদ করেন:

فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ "সুতরাং তোমরা জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞাসা করো, যদি তোমরা না জানো।" —(সূরা আন-নাহল: ৪৩)

এই আয়াতের ভিত্তিতে ফকিহগণ বলেন—যে ব্যক্তি নিজে ইজতিহাদের যোগ্যতা রাখে না, তার জন্য মুজতাহিদ ইমামের অনুসরণ করা ওয়াজিব।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর উক্তি:

"যে ব্যক্তি নিজে ইজতিহাদ করতে সক্ষম নয়, তার জন্য আমাদের মত অনুসরণ করা উত্তম।"

ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন:

"আমাদের যুগে যে ব্যক্তি ইজতিহাদের যোগ্যতা রাখে না, তার জন্য কোনো নির্দিষ্ট মুজতাহিদের তাকলিদ করা অপরিহার্য।" —(রাদ্দুল মুহতার: ১/৪৯)

২. চার মাযহাবের বৈধতা

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:

عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো।" —(সুনানে আবু দাউদ: ৪৬০৭, তিরমিজি: ২৬৭৬)

ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) —এই চারজনই ছিলেন আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত মুজতাহিদ ইমাম। তাঁদের প্রত্যেকের মাযহাব অনুসরণ করা বৈধ।

শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহ.) «হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা»-য় বলেন:

"চার মাযহাবের যেকোনো একটি অনুসরণ করা জায়েজ, বরং সাধারণ মানুষের জন্য তা কর্তব্য।"

৩. এলাকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতের সাথে ভিন্নতা—কোনো সমস্যা নয়

ইসলামে সংখ্যাগরিষ্ঠতা (আকসারিয়াত) কখনোই হকের মানদণ্ড নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَإِن تُطِعْ أَكْثَرَ مَن فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ "যদি তুমি পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের আনুগত্য করো, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে।" —(সূরা আল-আনআম: ১১৬)

ইমাম আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি (রহ.) «ফয়জুল বারী»-তে বলেন:

"হকের মানদণ্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়, বরং দলিল-প্রমাণ।"

তাই আপনার এলাকার অধিকাংশ মানুষ আহলে হাদিস মত অনুসরণ করলেও, আপনি হানাফি মাযহাব অনুসরণ করতে পারেন—এতে কোনো দোষ নেই।

৪. ভারতীয় উপমহাদেশে হানাফি মাযহাবের প্রচলন

আপনি সঠিক বলেছেন—ভারতীয় উপমহাদেশে (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান) হানাফি মাযহাবই সর্বাধিক প্রচলিত। মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) «মা'আরিফুল কুরআন»-এ এবং মুফতি তাকি উসমানি «ফাতাওয়া উসমানি»-তে উল্লেখ করেছেন যে, এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য হানাফি মাযহাব অনুসরণ করা সর্বাধিক সুবিধাজনক ও নিরাপদ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.