ঈসালে সওয়াবের নিয়তে বা নবীজী সা: এর নামে কুরবানি দিলে কি তা আলাদা অংশ হিসেবে দিতে হবে?

Qurbani-Slaughtering · Hanafi

Question No: 649
Questioner: Yunus
Question Asked: 24 May 2026, 03:59 AM
Reviewed & Published: 24 May 2026, 05:02 AM
Views: 48
Tokens: 3,565
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১) মৃত ব্যক্তির নামে বা ঈসালে সওয়াবের নিয়তে বা নবীজী সা: এর নামে কুরবানি দিলে কি তা আলাদা অংশ হিসেবে দিতে হবে? যেমন একজন ব্যক্তির উপর কুরবানি ওয়াজিব হয়েছে ওই ব্যক্তি যদি ঈসালে সওয়াবের নিয়তে কুরবানি করতে চায় তবে কি এক ভাগ ওয়াজিব আরেক ভাগ ইসালে সওয়াব এভাবে পৃথক ভাগ দিতে হবে?

২) ইসালে সওয়াবের নিয়ত করলে তা কি শুধু একজনের নামেই করা যাবে নাকি একাধিক জনের নামে করা যাবে।

Answer

প্রশ্নের উত্তর

১) মৃত ব্যক্তি, ঈসালে সওয়াব বা নবী (সা.)-এর নামে কুরবানি ও ওয়াজিব কুরবানির সম্পর্ক

সংক্ষিপ্ত উত্তর:
যদি কোনো ব্যক্তির ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয়, তাহলে তিনি নিজের ওয়াজিব কুরবানির মাধ্যমেই ঈসালে সওয়াবের নিয়ত করতে পারেন। অর্থাৎ, একই পশু বা ভাগে ওয়াজিব আদায় করলেও সওয়াব মৃত ব্যক্তি, নবী (সা.) বা অন্য কারো নামে দান করা যায়। তবে আলাদাভাবে কুরবানি করা উত্তম, কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
হানাফি ফিকহ অনুসারে, ওয়াজিব কুরবানি হলো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর আরোপিত ইবাদত। এর নিয়ত নিজের জন্য করতে হয়। তবে এই ইবাদতের সওয়াব অন্যকে দান করা জায়েজ। যেমন, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতানুসারে, কেউ নিজের ফরজ (ওয়াজিব) কুরবানি করে এর সওয়াব মৃতের কাছে পৌঁছানোর নিয়ত করলে তা আদায় হবে এবং মৃত ব্যক্তি সওয়াব পাবে। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩২৬; ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪২৭)

প্রমাণ:

  • ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন: “إذا ضحى عن نفسه وأهدى ثوابها لغيره جاز” (যদি কেউ নিজের পক্ষ থেকে কুরবানি করে এবং এর সওয়াব অন্যকে হাদিয়া দেয়, তাহলে জায়েজ।) – রদ্দুল মুহতার, ৬/৩২৬
  • ফাতাওয়া আলমগিরিতে আছে: “ولو ضحى عن الميت بأمره أو بغير أمره جاز” (যদি কেউ মৃতের পক্ষ থেকে তার অনুমতি ছাড়াও কুরবানি করে, তবে তা জায়েজ।) – ফাতাওয়া আলমগিরি, ৫/২৯৯

নবী (সা.)-এর নামে কুরবানি:
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামে আলাদা কুরবানি করা সুন্নত ও মোস্তাহাব। তবে যার ওপর কুরবানি ওয়াজিব, তিনি নিজের ওয়াজিব কুরবানির সওয়াব নবী (সা.)-কে দান করলেও তা আদায় হবে। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৫/২২২; বেহেশতি জেওর, ৩/১৭)

পৃথক ভাগের প্রয়োজন নেই:
প্রশ্নোক্ত ব্যক্তি যদি মনে করেন, ‘এক ভাগ ওয়াজিব আরেক ভাগ ঈসালে সওয়াব’—এভাবে আলাদা করা জরুরি, তাহলে তা নয়। বরং একই ভাগে ওয়াজিব আদায় করে সওয়াব অন্যকে দান করলেই যথেষ্ট। তবে কেউ যদি নবী (সা.) বা মৃত ব্যক্তির জন্য পৃথক পশু বা ভাগ নির্ধারণ করে, তাহলে সেটি আরো ফজিলতপূর্ণ।

২) ঈসালে সওয়াব একাধিক ব্যক্তির নামে করা যায় কি?

উত্তর: হ্যাঁ, এক কুরবানির সওয়াব একাধিক ব্যক্তি বা মৃত ব্যক্তির নামে দান করা জায়েজ। কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যার বাধ্যবাধকতা নেই। যেমন, কেউ একটি ভেড়া কুরবানি করে এর সওয়াব তার মৃত মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন বা সব মুসলিমের জন্য দান করতে পারেন।

প্রমাণ:

  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (৫/২২৫)-এ আছে: “এক কুরবানির সওয়াব অনেক মৃত ব্যক্তির নামে পাঠানো যায়।”
  • ফাতাওয়া উসমানি (২/৪২৯): “ঈসালে সওয়াবের নিয়তে একাধিক ব্যক্তির নাম একত্র করা বৈধ।”

সতর্কতা:
যদি কুরবানি গরু, মহিষ বা উটের হয় এবং তাতে একাধিক শরিক থাকে, তাহলে প্রতিটি ভাগ নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত করতে হবে। এক ভাগের সওয়াব একাধিক জীবিত ব্যক্তির জন্য দেওয়া যায় না (যেহেতু প্রতিটি ভাগ একটি স্বতন্ত্র ইবাদত)। তবে মৃত ব্যক্তির জন্য এক ভাগের সওয়াব একাধিক মৃতকে দেওয়া জায়েজ। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩২৮)

সারসংক্ষেপ

  • প্রথম প্রশ্ন: নিজের ওয়াজিব কুরবানি দিয়ে ঈসালে সওয়াব করা যায়। আলাদা ভাগের প্রয়োজন নেই।
  • দ্বিতীয় প্রশ্ন: একাধিক ব্যক্তির নামে ঈসালে সওয়াব করা জায়েজ।

নির্ভরযোগ্য হানাফি কিতাব

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন)
  • ফাতাওয়া আলমগিরি
  • ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী)
  • বেহেশতি জেওর
  • মা‘আরিফুল কুরআন (মুফতি শফী)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.