নফল/ তাহাজ্জুদ সালাতের রুকু ও সিজদায় নিজ মাতৃভাষায় (বাংলা ভাষায়) দুয়া করা।

Salah-Prayer · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 648
Questioner: Rased Hasan
Question Asked: 24 May 2026, 03:58 AM
Reviewed & Published: 24 May 2026, 04:59 AM
Views: 86
Tokens: 3,711
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাহ সালাত ব্যতীত নফল/ তাহাজ্জুদ সালাতের রুকু ও সিজদায় আমার নিজ মাতৃভাষা বাংলায় দুয়া করতে পারব কিনা? এই দুটি যায়গায় আমি ঋন মুক্তির আরবি দুয়া, মা বাবার জন্য কুরআনের আরবি দুয়া, সহ যে যাবতীয় দুয়া গুলো আরবিতে পাঠ করে থাকি সেগুলো নফল/ তাহাজ্জুদ সালাতের রুকু ও সিজদায় পড়তে পারব কিনা? আমি এখানে ঐ সকল বিষয়ের কথা বলছিনা যেগুলো আমরা ফরজ ওয়াজিব ও সুন্নাহ সালাত এর রুকু সিজদায় পাঠ করে থাকি। আমি কি নফল/ তাহাজ্জুদ সালাতের রুকু সিজদায় এভাবে বাংলা ভাষার দুয়া করতে পারব "হে আমার রব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমার পিতা মাতাকে ক্ষমা করে দিন, আমার আত্মীয় স্বজনদের ক্ষমা করে দিন, আমাকে সুস্থতা দান করুন। আমার মৃত্যু ভাইকে ক্ষমা করে দিন, তার জীবনের যাবতীয় ভুল ত্রুটি অপরাধ সমূহ ক্ষমা করে দিন। আপনি আমাকে পর্যাপ্ত রিযিক দান করুন, হালাল রুজির ব্যবস্থা করে দিন ইত্যাদি"

Answer

উত্তর Summary

নফল/তাহাজ্জুদ সালাতের রুকু ও সিজদায় আরবি দুয়া (যেমন কুরআন বা সুন্নাহ থেকে) পড়া জায়েয এবং এটি উত্তম। আর নিজ মাতৃভাষায় (বাংলায়) দুয়া করা শুধুমাত্র নফল সালাতের সিজদায় এবং প্রয়োজনে রুকুতেও জায়েয—তবে আরবি উত্তম। ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাত (মুআক্কাদা) সালাতে রুকু ও সিজদায় শুধু নির্ধারিত আরবি তাসবীহ ও দুয়াই পড়তে হবে, বাংলা বা অন্য ভাষা নয়।

নিচে বিস্তারিত দলীল ও শর্তসহ উত্তর দেওয়া হলো।


১. নফল সালাতের রুকু ও সিজদায় আরবি দুয়া পড়া

রুকু ও সিজদায় আল্লাহর প্রশংসা (তাসবীহ) এবং দুয়া উভয়ই করা সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ ﷺ রুকুতে বলতেন:
"سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ" এবং সিজদায়: "سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى"। এছাড়া তিনি রুকু ও সিজদায় বিভিন্ন দুয়াও পড়তেন, যেমন:
"اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي" (হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন) — (সহীহ বুখারী, ৭৯৪; মুসলিম, ৪৮৪)

অতএব, নফল সালাতের রুকু ও সিজদায় আপনি যে আরবি দুয়াগুলো (ঋণ মুক্তির দুয়া, মা-বাবার জন্য দুয়া ইত্যাদি) কুরআন ও সুন্নাহ থেকে পড়তে অভ্যস্ত, সেগুলো পড়া জায়েয এবং মুস্তাহাব

শর্ত:

  • এই দুয়াগুলো যেন কুরআনের আয়াত না হয় (কেননা রুকু-সিজদায় কুরআন তিলাওয়াত নিষিদ্ধ)। তবে যদি দুয়া হিসেবে পড়া হয়, যেমন "رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً" (সূরা আল-বাকারা, ২০১) — তাহলে তা দুয়ার নিয়তে পড়া জায়েয। (শাইখ ইবনু উসাইমীন, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দ্বারব)

২. নফল সালাতের রুকু ও সিজদায় নিজ মাতৃভাষায় (বাংলায়) দুয়া করা

এ বিষয়ে সালাফি উলামাগণের মতামত নিম্নরূপ:

ক. অনুমতি:

শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:

"নফল সালাতে যদি কেউ নিজ ভাষায় দুয়া করে, তাতে কোনো অসুবিধা নেই, বিশেষ করে যখন সে আরবি না জানে। তবে আরবি শিখলে আরবিতেই পড়া উত্তম।" (মাজমুউল ফাতাওয়া, ২২/৫০৬)

শাইখ ইবনু বায (রহ.) বলেন:

"সিজদায় দুয়া করার সময় যদি কেউ আরবি না জানে, তবে নিজ ভাষায় দুয়া করতে পারে, কারণ মূল লক্ষ্য হলো বিনয় ও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা।" (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দ্বারব)

শাইখ আল-আলবানী (রহ.) বলেন:

"সালাতে দুয়া শুধু আরবিতে সীমাবদ্ধ নয়। বরং যে কোনো ভাষায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা জায়েয, যদি তা সালাতের বাইরেও জায়েয হয়।" (সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর, ২৮৭)

খ. সতর্কতা:

  • ফরজ সালাতে কখনো নিজ ভাষায় দুয়া করা জায়েয নয়, কারণ এতে আরবি শব্দ পরিবর্তন হয় এবং সালাতের ধারা ভঙ্গ হয়। (শাইখ সালেহ আল-ফওযান, আল-মুনতাকা মিন ফাতাওয়া)
  • নফল সালাতের রুকুতে দুয়ার চেয়ে তাসবীহ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই রুকুতে বাংলায় দুয়া করা থেকে বিরত থাকাই উত্তম, তবে প্রয়োজনে জায়েয। শাইখ ইবনু উসাইমীন বলেন: "রুকুতে দুয়া করা সুন্নাত থেকে প্রমাণিত, কিন্তু তা আরবিতে হওয়া ভালো।" (শারহুল মুমতি', ৩/৪৫৬)

৩. আপনার উল্লেখিত বাংলা দুয়া পড়া জায়েয কি না

"হে আমার রব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমার পিতা মাতাকে ক্ষমা করে দিন... আমাকে পর্যাপ্ত রিযিক দান করুন..."

উত্তর: নফল (বিশেষত তাহাজ্জুদ) সালাতের সিজদায় এই জাতীয় বাংলা দুয়া পড়া জায়েয এবং এতে কোনো গুনাহ নেই। তবে আরবি দুয়া পড়া অনেক বেশি ফজিলতপূর্ণ ও সুন্নাতের কাছাকাছি।

শাইখ ইবনু বায (রহ.) এক ফতোয়ায় বলেন:

"সিজদায় দুয়া করার সময় বান্দা যা চায় তা আরবিতে বা তার নিজ ভাষায়ই বলুক না কেন, আল্লাহ তা শোনেন। তবে উত্তম হলো আরবি, কারণ তা নবী ﷺ এর পদ্ধতি।" (মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনু বায, ১১/১৫৪)


৪. গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও শর্তসমূহ

  1. রুকু ও সিজদায় কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করবেন না — এটি নিষিদ্ধ (সহীহ মুসলিম, ৪৭৯)। তবে যদি কুরআনের কোনো আয়াত দুয়া হিসেবে পড়েন (যেমন رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا), তাহলে তা জায়েয।
  2. সিজদায় বেশি বেশি দুয়া করুন — নবী ﷺ বলেছেন: "সিজদার সময় বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। তাই সিজদায় বেশি বেশি দুয়া করো।" (সহীহ মুসলিম, ৪৮২)
  3. নফল ও তাহাজ্জুদে অধিক স্বাধীনতা — ফরজের তুলনায় নফল ও তাহাজ্জুদে দুয়ার ব্যাপারে শিথিলতা রয়েছে।
  4. বাংলা দুয়া পড়লে সিজদায় আরবি তাসবীহ কমপক্ষে একবার পড়া সুন্নাত — যেমন "সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা"। তারপর অতিরিক্ত দুয়া বাংলায় করলে ক্ষতি নেই।

চূড়ান্ত ফতোয়া

  • নফল/তাহাজ্জুদ সালাতের সিজদায় আপনি আরবি দুয়ার পাশাপাশি বাংলায় দুয়া করতে পারেন। তবে আরবি উত্তম।
  • নফল সালাতের রুকুতে বাংলা দুয়ার চেয়ে আরবি তাসবীহ ও দুয়াকে অগ্রাধিকার দিন। প্রয়োজনে বাংলা বলা জায়েয।
  • ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাত (মুআক্কাদা) সালাতে রুকু-সিজদায় শুধু নির্ধারিত আরবি তাসবীহ ও দুয়া পড়তে হবে। বাংলা বলা যাবে না।

দলীল:

"وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ" - "আর তোমরা আল্লাহর উপর শুধু সত্যই বলো।" (সূরা আল-বাকারা: ১৬৯)
রাসূল ﷺ বলেছেন: "তোমরা তোমাদের রবের নিকট সিজদায় দুয়া করো।" (সহীহ মুসলিম, ৪৭৯)

আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.