ইনফেকশনের কারণে আঙুলে পানি লাগানো নিষিদ্ধ হলে কীভাবে ওজু করতে হবে? তায়াম্মুম করা যাবে কি না?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
জবাব,
১. তায়াম্মুম করা যাবে কি না?
না, শুধু একটি আঙুলে ইনফেকশন থাকার কারণে পুরো অযুর পরিবর্তে তায়াম্মুম করা যাবে না।
ইসলামি শরীআতের নিয়ম হলো—অযুর অঙ্গগুলোর অধিকাংশ স্থান যদি সুস্থ থাকে, তবে সুস্থ অঙ্গগুলো পানি দিয়ে ধোয়া ফরয। কেবল সামান্য অংশ বা একটি আঙুল আক্রান্ত হওয়ার কারণে পুরো অযু বাদ দিয়ে তায়াম্মুম করার শরয়ী সুযোগ নেই [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৮১; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৯৫; দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৯০]।
২. এই অবস্থায় অযু করার সঠিক শরয়ী পদ্ধতি:
আঙুলে ইনফেকশন এবং ডাক্তার পানি লাগাতে নিষেধ করার কারণে নিচের ধাপ অনুযায়ী অযু সম্পন্ন করতে হবে:
১. সুস্থ অঙ্গসমূহ ধোয়া: অযুর অন্যান্য সমস্ত সুস্থ অংশ (মুখমণ্ডল, দুই হাত, মাথা মাসেহ ও পা) স্বাভাবিকভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নেবেন [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৮১; দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩ ৯০]। ২. আক্রান্ত আঙুলের বিধান (মাসেহ):
- ব্যান্ডেজ বা পট্টি থাকলে: আঙুলে যদি ব্যান্ডেজ বা পট্টি বাঁধা থাকে, তবে অযু করার সময় হালকা ভেজা হাত দিয়ে সেই ব্যান্ডেজ বা পট্টির ওপর মাসেহ (হাত বুলিয়ে দেওয়া) করে নেবেন [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৮৫; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৮৯; দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৮৯, ৩৯০]।
- খোলা থাকলে বা মাসেহ করা ক্ষতিকর হলে: যদি আঙুলটি খোলা থাকে এবং পানি দিয়ে ধোয়া ক্ষতিকর হয়, তবে ভেজা হাত দিয়ে আঙুলের ওপর আলতো করে মাসেহ করবেন। কিন্তু যদি ভেজা হাত দিয়ে মাসেহ করাও ক্ষতিকর হয় বা ইনফেকশন বাড়ার আশঙ্কা থাকে (ডাক্তার শুষ্ক রাখতে বলেছেন), তবে মাসেহ করার হুকুমও রহিত বা মাফ হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে আঙুলটি সম্পূর্ণ শুকনো রেখে ধোয়া ও মাসেহ ছাড়াই বাকি সুস্থ অঙ্গ ধুয়ে অযু সম্পন্ন করবেন [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৮৫; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৮৯; দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৯৫]।
৩. পুঁজ নির্গত হওয়ার মাসআলা (অযু ভাঙার বিধান):
- যদি ইনফেকশনের স্থান থেকে পুঁজ বের হয়ে আঙুলের গায়ের ওপর বা নিচে গড়িয়ে পড়ে, তবে এতে অযু ভেঙে যাবে। তাই অযু শেষ করার পর যদি গড়িয়ে পড়া পুঁজ দেখা যায়, তবে ক্ষত স্থানটুকু পরিষ্কার করে পুনরায় অযু করে নিতে হবে [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৩৭; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৫৫; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৮৮]।
- আর পুঁজ যদি কেবল ক্ষতের মুখে জমে থাকে, গড়িয়ে না পড়ে, তবে অযু ভাঙবে না [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৩৭; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৫৫]।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৩৮৯–৩৯০: (অধ্যায়: ব্যান্ডেজ অবস্থায় অযু — অযুর অঙ্গের কিছু অংশ জখম হলে সুস্থ অংশ ধোয়া এবং আক্রান্ত অংশে মাসেহ করার বিধান) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৮৯, ৩৯০]।
- পৃষ্ঠা: ৩৯৫: (অধ্যায়: ব্যান্ডেজ ও অপারেশনের রোগীর পবিত্রতা — মাসেহ করাও ক্ষতিকর হলে মাসেহের হুকুমও রহিত হয়ে যাওয়ার ফতোয়া) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৯৫]।
২. নূরুল ঈযাহ:
- পৃষ্ঠা: ৩৭: (অনুচ্ছেদ: অযু ভঙ্গের কারণসমূহ — প্রবহমান রক্ত বা পুঁজ নির্গত হলে অযু ভাঙার মাসআলা) [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৩৭]।
- পৃষ্ঠা: ৮১: (পরিচ্ছেদ: তায়াম্মুম — অধিকাংশ অঙ্গ সুস্থ থাকলে সুস্থ অংশ ধোয়া এবং তায়াম্মুম না করার নিয়ম) [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৮১]।
- পৃষ্ঠা: ৮৫: (অনুচ্ছেদ: পট্টি ইত্যাদির উপর মাসেহ করা — ধোয়া ও মাসেহ দুটোই ক্ষতিকর হলে তা বর্জন করার মাসআলা) [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৮৫]।
৩. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৫৫: (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ২য় অনুচ্ছেদ: অযু ভঙ্গের কারণ — ক্ষত থেকে পুঁজ গড়িয়ে পড়লে অযু ভাঙার বিবরণ) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৫৫]।
- পৃষ্ঠা: ৮৯: (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ২য় অনুচ্ছেদ: মাসেহ ভঙ্গ হওয়া — ক্ষতস্থানে ধোয়া ও মাসেহ ক্ষতিকর হলে তা মাফ হওয়া সংক্রান্ত বিধান) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৮৯]।
- পৃষ্ঠা: ৯৫: (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, তায়াম্মুম অনুচ্ছেদ — শরীরে বেশি অংশ ভালো থাকলে তায়াম্মুম না হওয়ার ফতোয়া) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৯৫]।
৪. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৮৮: (অধ্যায়: বাবুল ওজু, পরিচ্ছেদ: নাওয়াকেযুল ওজু — পিন্ডলী বা হাত থেকে পুঁজ গড়িয়ে পড়লে অযু ভেঙে যাওয়ার ফতোয়া) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৮৮]।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।