স্বামী-স্ত্রীর কথোপকথনে বেখেয়ালি গানের লাইন উচ্চারণ ও স্ত্রীর শিরকের অভিযোগ—এতে কি ঈমান বা বিবাহ ভঙ্গ হয়?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 6438
Questioner: koly akhi
Question Asked: 05 Oct 2026, 06:49 PM
Reviewed & Published: 05 Oct 2026, 06:53 PM
Views: 27
Tokens: 3,426
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ। স্বামী স্ত্রীর কথপোকথনে স্ত্রী বলে তুমি আমাকে ভালোবাস না।সবসময় কষ্ট দাও।আমি আল্লাহকে বিচার দিলাম বলে কান্না করে।তারপর হাসতে হাসতে বেখেয়ালে হয়ত গায় স্বামী স্ত্রী বানাইছে কোন মিস্তিরি। এমন একটা গান আছে সে লাইন।তারপর স্ত্রী বলে তুমি শিরক করছ।তারপর স্বামীর খেয়ালে এলে সাথে সাথে আসতাগফিরুল্লাহ বলে উঠে।তারপর বলে আল্লাহ মাফ কর আল্লাহ। মানে বুঝাতে চাচ্ছে ভুলে এমন হয়ে গেছে।এতে কি কোন সমস্যা হবে ঈমানে বা বৈবাহিক?

Answer

উত্তর (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী)

সংক্ষিপ্ত উত্তর: ইনশাআল্লাহ, এতে ঈমান বা বিবাহে কোনো সমস্যা হবে না। তবে ভবিষ্যতে এমন বেখেয়ালি মন্তব্য থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

বিস্তারিত:

প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনায় স্ত্রী রাগের বশে "তুমি আমাকে ভালোবাস না, সবসময় কষ্ট দাও" বলে আল্লাহকে বিচার দিয়েছে—এটি দাম্পত্য অভিযোগ, কুফর বা শিরক নয়। এরপর স্বামী বেখেয়ালে একটি গানের লাইন ("স্বামী-স্ত্রী বানাইছে কোন মিস্তিরি") উচ্চারণ করেছে, যা সে ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অবমাননার নিয়তে বলেনি; বরং সাথে সাথে "আস্তাগফিরুল্লাহ" বলে তাওবা করেছে এবং "আল্লাহ মাফ কর" বলে ভুল স্বীকার করেছে।

১. ঈমানের বিষয়ে: ঈমান ভঙ্গ হয় কেবল ইচ্ছাকৃত কুফর, শিরক, ইসলামের অপরিহার্য বিষয়কে অস্বীকার বা অবমাননার মাধ্যমে। বেখেয়ালি (ভুলবশত) বলা বা কাজের দ্বারা ঈমান যায় না। আল্লাহ তাআলা বলেন:

رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا "হে আমাদের রব! আমরা ভুলে গেলে বা ভুল করলে আমাদের পাকড়াও করবেন না।" (সূরা বাকারা: ২৮৬)

হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি ও জোরপূর্বক কাজ থেকে (শাস্তি) উঠিয়ে নিয়েছেন।" (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২০৪৩; মুসনাদে আহমাদ)

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) "রাদ্দুল মুহতার"-এ উল্লেখ করেন, কুফরের শব্দ ইচ্ছাকৃতভাবে উচ্চারণ করলে কুফর হয়; কিন্তু ভুলবশত বা বেখেয়ালে হলে নয়। (রাদ্দুল মুহতার: ৪/২২৪-২২৫, কিতাবুল জিহাদ)

২. বিবাহের বিষয়ে: কুফর সাব্যস্ত না হলে নিকাহ ভঙ্গ হয় না। যেহেতু এখানে ইচ্ছাকৃত শিরক বা কুফর হয়নি, বরং বেখেয়ালি মন্তব্য হয়েছে এবং সাথে সাথে তাওবা করা হয়েছে—সুতরাং নিকাহ বহাল আছে। (আল-হিদায়া: ২/৩২৮; ফাতাওয়া আলমগিরি: ১/২৮৩)

৩. স্ত্রীর "তুমি শিরক করছ" বলা: স্ত্রীর এই মন্তব্য স্বামীর প্রতি সতর্কতামূলক ছিল। তবে স্বামী যেহেতু ইচ্ছাকৃত শিরক করেনি, তাই প্রকৃতপক্ষে শিরক হয়নি। উভয়ের উচিত একে অপরকে ক্ষমা করা এবং দাম্পত্য কলহ দূর করা।

৪. করণীয়:

  • উভয়ে আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা করুন।
  • ভবিষ্যতে গান-বাজনা ও বেখেয়ালি মন্তব্য পরিহার করুন।
  • দাম্পত্য সম্পর্কে ধৈর্য ও সদাচরণ বজায় রাখুন। আল্লাহ বলেন: "তোমরা নিজেদের মধ্যে সদ্ভাব বজায় রাখো।" (সূরা নিসা: ১২৮)
  • প্রয়োজনে পারস্পরিক বোঝাপড়ার জন্য পরামর্শ করুন।

উপসংহার: এ ঘটনায় ঈমান বা নিকাহর কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে সতর্কতা ও তাওবা জরুরি।


আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.