বিয়ের আগে ছবি দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলা, পর্দা রক্ষা, জাদু থেকে মুক্তি সহ বিবিধ প্রশ্ন।
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
আমার বিয়ে ঠিক করে রাখা হয়েছে,১বছর ৭ মাস হয়ে গেছে। বিয়ে ঠিক করে রাখা হয়েছে আমার আপন খালাতো ভাইয়ের সাথে, সে সৌদি থাকে।
এতোদিন হয়ে যাওয়ার পরও তার মা বাবা তাকে দেশে আসার জন্য তাগিদ দেয়না। তার পরিবারে তার আরো ২ ভাই আছে। ১জন কিছুই করেননা, আরেকজন চাকরি করে কিন্তু ঘরে টাকা দেয়না।
২ জনই বিবাহিত অথচ খরচ চালায় আমার হবু স্বামী।
হবু শশুর ও চাকরি করেন , উনার বেতন দিয়ে ও চলে ।
তার পরিবারে তার ছোট ভাই বিয়ে করেছে , গত মাসে তার(হবু স্বামীর) ছোট ভাইর বাচ্চা হয়েছে, এজন্য হবু স্বামী প্রায় যাবতীয় খরচের টাকা দিয়েছে। এভাবে বলার কারন হলো: আমার বাবার বাসার পাশের মসজিদের ইমাম , হবু স্বামীকে কল করে বলেছে দেশে আসার জন্য, তখন সে বলেছিল "দেশে আসলে অনেক টাকা খরচ হয়ে যাবে, ইত্যাদি"।
এইদিকে আমার আগে আরেক জায়গায় বিয়ে হয়েছিল, সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠানের দিন; বিভিন্ন জামেলা হয়ে , ৭/৮ দিন পর ডিভোর্স হয়ে যায়।
এজন্য আমার বাবা মা অনেক পেরেশানির মাঝে আছেন। সমাজের মানুষ ও বিভিন্ন কথা বলে , বাবা মাকে আরো হতাশায় নিমজ্জিত করে ফেলে। আমার মা হবু স্বামীকে যে কত বার দেশে আসার কথা বলছেন তার হিসেব নেই।
আমি রুকইয়া বিষয়ে কোর্স করেছি, আলহামদুলিল্লাহ। ভুক্তভোগী হওয়ার পরে, রুকইয়া কোর্স করেছিলাম। বর্তমানে আইওমের রুকইয়া কোর্স করতেছি । আমার ইচ্ছে রুকইয়া কোর্স টা শেষ করে , বিয়েটা হোক কিন্তু ২ পরীবারের মাঝে হিংসা ঢুকে গেছে । আমার মা আর হবু শাশুড়ি আপন ২ বোন হওয়া সত্ত্বেও এখন আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নের পর্যায়ে এসে পৌছেছে। যেমন আমার মা খালাকে সহ্য করতে পারছেননা, ইদানিং। তেমন খালা ও আম্মাকে সহ্য করতে পারেননা। আল্লাহ হেফাজত করুন।
সংসার জীবন শুরু হওয়ার আগেই আমাকে ও জাদু করা হয়েছে অনেকবার, কয়েকমাস আগে আমাকে এমন জাদু করা হয়েছিল যে "আমি জোরে শ্বাস নিতে পারছিলামনা, পরবর্তীতে রুকইয়ার আয়াত পড়তে পড়তে , এবং আয়াতুল হারক শুনে শুনে আল্লাহর রহমতে কমেছিল । "
হবু স্বামী দেশে না আসা, এবং আরো বিভিন্ন আলামত দেখে বুঝতে পারছি যে " তাকে ও যাদু করা হয়।" যার কারনে তার বিয়ের প্রতি আগ্রহ পায়না।
⭕আমার প্রশ্ন হলো :- (১) রুকইয়া কোর্স শেষ করে ,আমি বিয়ের জন্যে চেষ্টা+ দোআ করব ? নাকি এখনই চেষ্টা+ দোআ করবো?
হবু স্বামী তার ২ ভাইয়ের বউদের সাথে সে কথা বলে । এটা হবু স্বামীর মায়ের কাছে খুব ভালো লাগে, উনি যেহেতু খালা তাই সরাসরি দেখেছি অনেক দিন। আমি হবু স্বামীর সাথে কথা বলিনা, অথচ আমার সামনেই বসে ২ ভাইয়ের বউ কথা বলে , ছোট ভাইয়ের বউ এমন গোপন বিষয়ে কথা বলে যা শুনতে ও লজ্জা লাগে। আমি খুব কষ্ট করে পরিস্থিতি গুলা সবর করি। তবে আমার পরিবারের লোকজন বিশেষত মা রেগে যান, পরে আমিই কিছু সবরের কথা বলে বুঝ দেই। এখন আমার কাছে ও সহ্যের সীমার বাহিরে চলে যাচ্ছে মনে হয়, আর মা বাবার পেরেশানি দেখে আর ভালো লাগছেনা।
কয়েকমাস আগে, দেশে এসে বিয়ে করার জন্য, হবু স্বামীর কিছু টাকা এক লোকের মাধ্যমে তার মার (আমার খালা) কাছে পাঠাইছিলো । ঐ টাকা গুলো থেকে ও তারা খরচ করে ফেলছে। অল্প মনে হয় আছে , তাও খরচ করে ফেলতে পারে।
তার ২ ভাই + ভাইয়ের বউদের অন্তরে প্রচুর হিংসা জমে গেছে। তারা প্রকাশ্যে ও একথা বলেছিল বিয়ে ঠিক করার আগে , আমি তখন শুনছিলাম "হবু স্বামী বিয়ে করার আগে যত পারে তাদের ২ ভাইয়ের সংসারের জন্য যত পারে খরচ করবে , বিয়ের পরে তো সবকিছু বউয়ের হয়ে যাবে। "
আরেকটা কারনে ও তারা খুব হিংসা করছে ,কারনটা হলো_ গত বছর খালা আমাকে তাদের বাসায় একরাত থাকার জন্য নিতে আসছিলেন, যেহেতু হবু স্বামী বাড়িতে নাই, তো আমি খালার সাথে চলে গেছলাম ১ দিনের জন্য। গিয়ে দেখি তাদের একটা বাথরুম ২ বউ যায় + দেবর , ভাসুর তারা ও যায় । ১ টা দিনই পর্দা করে চলতে হিমশিম খেয়ে গেছিলাম আমি। এজন্য আসার দিনে আমি খালাকে বলে আসছিলাম যে আমার রুমের সাথে লাগিয়ে একটা বাথরুম তৈরি করে দিতে। এই কথা যখন আমার হবু স্বামীর কানে যায় সে ও সম্মিতি দিয়েছে বাথরুম করবে , এমনকি টাকা ও দিয়েছে কিন্তু তারা করছে না।
হবু স্বামী কয়েক মাস সৌদিতে মাদ্রাসায় পড়েছিল , বিয়ে ঠিকের সময় শুনেছিলাম , এজন্যই বিয়েতে রাজি হয়েছিলাম। খুব সম্ভবত সে তার পরিবারের লোকদের বলেছে যে আমি ৫ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি এজন্য+ পর্দা রক্ষার জন্য বাথরুমের কথা বলছিলাম।
তার ২ ভাই ও সেইম , তারা ও চায় তাদের ভাই বিদেশে থাকুক, আর শুধু তাদের সংসারের জন্য খরচ করুক। তাদের ভাইয়ের(হবু স্বামীর ) সংসার হলে তাদের কাজ করতে হবে , ঘরে টাকা দিতে হবে।
আমার পরিবারে ও একি অবস্থা শুরু হয়েছে । আমার বড়বোনের ও ডিভোর্স হয়েছিল একটা মেয়ে আছে , বড় বোন চাকরি করবেন সামনে ।
তো উনি চান যে আমি ওনার মেয়েকে দেখে রাখি।
আবার আমার বড় ভাই , ছোট ভাই ওরা ওদের নিজেদের ভবিষ্যৎ সংসার নিয়ে চিন্তিত।
মা বাবা ছাড়া কেউ আমার বিয়ের জন্য কথা বলবেনা। ওনারা অসুস্থ অবস্থায় আছেন, আমাকে নিয়ে খুব চিন্তিত।
এমন পরিস্থিতিতে,
⭕ প্রশ্ন হলো (২): আমার এভাবে নিজের জন্য আলাদা করে বাথরুম তৈরি করে দেওয়ার কথা বলাটা কি অবিচার হয়ে গেল নাকি? যেহেতু হবু স্বামীর ২ ভাই+ বউয়েরা ১টাই বাথরুম ব্যবহার করে ।
গতকাল আমার মায়ের সাথে হবু স্বামী কথা বলেছে, সে কিছু টাকা বিয়ের খরচের জন্য দেশে পাঠাতে চাচ্ছে, এখন তার ব্যাংক একাউন্টে যদি টাকা রাখে , তাহলে সে দেশে আসার পর অনেকদিন চলে যাবে টাকাটা তুলতে , তাই হবু স্বামী চাচ্ছে আমার নামে একটা একাউন্ট খুলে , আমার একাউন্টে টাকা রাখতে চাচ্ছে।
আরেকটা বিষয় হলো সে কয়েক মাস আগে আমাকে একটা মোবাইল ফোন দিয়েছে , যাতে আমি তার সাথে কথা বলি। কিন্তু আমি তার সাথে কথা বলি না। মেসেজ ও কথা বলি না। আলহামদুলিল্লাহ।
বিয়ে ঠিক যেদিন হয় আখতের মত হয়েছিল , ভিডিও কলের মাধ্যমে।
কিন্তু তখন আমার ইদ্দত চলছিল। তাই সে মনে করে আমি স্ত্রী হয়ে গেছি। প্রথমদিকে আমি মেসেজের মাধ্যমে তাকে জানিয়েছিলাম , আমাদের বিয়ে সহিহ হয়নি।
এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে,_ (৩)আমার একাউন্টে যে টাকা রাখতে চাচ্ছে, একাউন্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে তো ছবি প্রয়োজন, ছবি দিয়ে একাউন্ট তৈরি করা কি জায়েজ হবে?
(৪) যদি ছবি দেওয়া যায়, জায়েজ হয় তাহলে, আমার মাথায় চিন্তা আসতেছে যে , তার সাথে আমি কথা বলি না পর্দা নষ্ট হয়ে যাবে বলে, অথচ আবার টাকা রাখার জন্য ছবি দেওয়া হলে ; আমার সম্পর্কে তার অন্তরে খারাপ ধারনা হতে পারে কি?
৫) আবার চিন্তা করি,
বিয়ে সহজ হওয়ার জন্য , আমারও তো কিছু চেষ্টা করার দায়িত্ব আছে মনে হয়।
ছোট বেলার অর্থাৎ বালেগ হওয়ার আগের ছবি দেওয়া যাবে? আমি ১৫ বছরের দিকে বালেগ হয়েছিলাম ।
Answer
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। আপনার পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। আমি কুরআন, হাদিস এবং হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবের আলোকে আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি।
প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া প্রয়োজন:
আপনি উল্লেখ করেছেন যে, বিয়ের দিন ভিডিও কলে আখত (ইজাব-কবুল) হয়েছিল, কিন্তু তখন আপনার ইদ্দত চলছিল। ইদ্দত চলাকালীন সময়ে কোনো নারীর বিয়ে হওয়া ইসলামী শরীয়তে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ এবং বাতিল। (সূরা বাকারা: ২২৮, সূরা নিসা: ২২)। ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে যে বিয়ে হবে, তা সহিহ হবে না। তাই আপনার প্রথম বিয়েটি সহিহ হয়নি—এটি সঠিক। আপনার হবু স্বামীকে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়া জরুরি। তবে সরাসরি কথা বলা আপনার জন্য পর্দার কারণে নাজায়েজ। আপনি আপনার মা বা কোনো মাহরামের মাধ্যমে তাকে এই বিষয়টি লিখিতভাবে বা মৌখিকভাবে জানিয়ে দিতে পারেন।
এখন আপনার মূল প্রশ্নগুলোর উত্তর:
(১) রুকইয়া কোর্স শেষ করে বিয়ের জন্য চেষ্টা ও দোআ করব, নাকি এখনই?
উত্তর: ইসলামে বিয়ে করা সুন্নত এবং ইবাদত। বিয়ের জন্য চেষ্টা করা, দোআ করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের দায়িত্ব। রুকইয়া কোর্স করা একটি ভালো কাজ, তবে এটি বিয়ের চেষ্টাকে বিলম্বিত করার কারণ হওয়া উচিত নয়। বরং এখনই বিয়ের জন্য দোআ ও চেষ্টা শুরু করুন এবং পাশাপাশি রুকইয়া কোর্সও চালিয়ে যান। কারণ:
- বিয়ের দোআ: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "হে যুবকগণ! তোমাদের মধ্যে যারা সামর্থ্য রাখে, তারা বিয়ে করে ফেলুক।" (সহিহ বুখারি: ৫০৬৫)। বিয়ের জন্য দোআ করা এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- জাদু ও বাধা: আপনার প্রতি জাদু হয়েছে বলে আপনি সন্দেহ করছেন। জাদু থেকে মুক্তির জন্য রুকইয়া করা সুন্নত, তবে বিয়ের চেষ্টা বন্ধ রাখা যাবে না। বরং বিয়ের চেষ্টার সাথে সাথে রুকইয়ার আয়াত পড়া, আয়াতুল হারক শোনা এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা চালিয়ে যান।
- সময়ের গুরুত্ব: আপনার বয়স ১৫ বছরের দিকে বালেগ হয়েছিল, এখন আপনি প্রাপ্তবয়স্ক। বিয়ে বিলম্বিত করা আপনার জন্য ফিতনার কারণ হতে পারে। তাই এখনই চেষ্টা ও দোআ শুরু করুন।
দোআ:
- رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ (সূরা কাসাস: ২৪)
- اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ أَنْ تَغْفِرَ لِي ذُنُوبِي وَأَنْ تُيَسِّرَ لِي أَمْرِي وَأَنْ تَرْزُقَنِي الزَّوْجَ الصَّالِحَ
(২) নিজের জন্য আলাদা বাথরুম তৈরি করার কথা বলা কি অবিচার হয়েছে?
উত্তর: না, এটি অবিচার হয়নি। বরং এটি আপনার শরীয়তসম্মত অধিকার ও প্রয়োজন। কারণ:
- পর্দার বিধান: ইসলামে নারীর জন্য পর্দা রক্ষা করা ফরজ। আপনি উল্লেখ করেছেন যে, তাদের বাড়িতে একটি বাথরুম ২ ভাই ও তাদের স্ত্রীরা ব্যবহার করে, যেখানে দেবর-ভাসুরও রয়েছে। এই অবস্থায় আপনার জন্য পর্দা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আলাদা বাথরুমের ব্যবস্থা করা আপনার শরীয়তসম্মত অধিকার।
- স্বামীর সম্মতি: আপনার হবু স্বামী নিজেই বাথরুম তৈরির জন্য সম্মতি দিয়েছেন এবং টাকাও দিয়েছেন। সুতরাং এটি অবিচার নয়, বরং আপনার প্রয়োজন পূরণের জন্য একটি বৈধ ব্যবস্থা।
- হানাফি ফিকহ: ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে, স্ত্রীর জন্য এমন ব্যবস্থা করা স্বামীর দায়িত্ব যাতে সে পর্দা রক্ষা করতে পারে। (রাদ্দুল মুহতার: ৩/৫৯৮)।
তবে হ্যাঁ, আপনি যদি অতিরিক্ত দাবি করেন যা স্বামীর সামর্থ্যের বাইরে, তাহলে তা অবিচার হতে পারে। কিন্তু এখানে বিষয়টি পর্দার সাথে সম্পর্কিত, তাই এটি আপনার ন্যায্য অধিকার।
(৩) ছবি দিয়ে একাউন্ট তৈরি করা কি জায়েজ হবে?
উত্তর: ছবি দিয়ে একাউন্ট তৈরি করা জায়েজ নয়। কারণ:
- ছবি তোলা ও রাখা: হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, প্রাণীর ছবি তোলা এবং রাখা নিষিদ্ধ (মাকরুহ তাহরিমি), যদি না তা অত্যন্ত প্রয়োজনের জন্য হয়। (রাদ্দুল মুহতার: ৬/৪৩৫, ফাতাওয়া উসমানি: ১/৩৪৫)।
- প্রয়োজনের সীমা: ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য যদি ছবি দেওয়া আবশ্যক হয়, তবে তা শরীয়তসম্মত প্রয়োজন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে এটি প্রয়োজন নয়। কারণ আপনি নিজেই বলেছেন যে, আপনি তার সাথে কথা বলেন না, পর্দা রক্ষা করেন। তাই টাকা রাখার জন্য আপনার নামে একাউন্ট খোলার প্রয়োজন নেই। বরং তার নিজের একাউন্টে টাকা রাখাই যথেষ্ট। অথবা আপনার মাহরাম (যেমন বাবা বা ভাই) এর নামে একাউন্ট খোলা যেতে পারে।
- বিকল্প: আপনি তাকে বলতে পারেন যে, ছবি ছাড়া একাউন্ট খোলা সম্ভব নয়, তাই তিনি যেন তার নিজের একাউন্টে টাকা রাখেন অথবা আপনার বাবার নামে টাকা পাঠান।
ফাতাওয়া উসমানি (১/৩৪৫) এ উল্লেখ আছে: "প্রাণীর ছবি তোলা নাজায়েজ। তবে যদি কোনো শরীয়তসম্মত প্রয়োজন হয়, যেমন পাসপোর্ট, ভিসা, বা পরিচয়পত্রের জন্য ছবি তোলা, তাহলে তা জায়েজ।" কিন্তু ব্যাংক একাউন্টের জন্য ছবি দেওয়া শরীয়তসম্মত প্রয়োজন নয়, যদি না সরকারি আইন বাধ্যতামূলক করে। আপনার ক্ষেত্রে এটি এড়িয়ে চলাই উত্তম।
(৪) ছবি দিলে তার অন্তরে খারাপ ধারণা হতে পারে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, সম্ভব। কারণ আপনি তাকে বিয়ের আগে ছবি দিলে সে আপনার সম্পর্কে খারাপ ধারণা করতে পারে, বিশেষ করে যেহেতু আপনি তাকে বলেননি যে আপনি পর্দা রক্ষা করেন। ইসলামে নারীর জন্য বেগানা পুরুষের কাছে নিজের ছবি পাঠানো নাজায়েজ। (রাদ্দুল মুহতার: ৬/৩৬৭)। তাই ছবি না দেওয়াই উত্তম। আপনি তাকে বোঝাতে পারেন যে, আপনি শরীয়তের বিধান মেনে চলেন এবং বিয়ের আগে তার সাথে কোনো ছবি বা কথা বিনিময় করা আপনার জন্য জায়েজ নয়।
(৫) বালেগ হওয়ার আগের ছবি দেওয়া যাবে?
উত্তর: না, বালেগ হওয়ার আগের ছবিও দেওয়া যাবে না। কারণ:
- ছবি তোলা: বালেগ হওয়ার আগে তোলা ছবিও যদি প্রাণীর ছবি হয়, তবে তা রাখা বা প্রদর্শন করা নাজায়েজ। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩৬৩)।
- পর্দা: বালেগ হওয়ার আগের ছবি হলেও তা যদি কোনো বেগানা পুরুষের কাছে পাঠানো হয়, তবে তা পর্দার বিধানের পরিপন্থী। কারণ নারীর ছবি দেখা বেগানা পুরুষের জন্য নাজায়েজ।
- সতর্কতা: আপনি ১৫ বছরের দিকে বালেগ হয়েছিলেন। তার আগের ছবি দিলেও তা আপনার বর্তমান অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং এটি বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে।
সুতরাং, ছবি দেওয়া থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকুন।
অতিরিক্ত পরামর্শ:
- পারিবারিক হিংসা: আপনার পরিবার ও হবু স্বামীর পরিবারের মধ্যে হিংসা ও সম্পর্ক ছিন্নের অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। আপনি আপনার মাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন যে, ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা কবিরা গুনাহ। (সূরা মুহাম্মদ: ২২-২৩)। তবে আপনার মা যদি খালার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন, তবে তা তার দায়িত্ব, আপনার নয়। আপনি আপনার কর্তব্য পালন করুন।
- বিয়ের সিদ্ধান্ত: আপনার হবু স্বামী যদি দেশে না আসে এবং বিয়ের প্রতি আগ্রহ না দেখায়, তবে এই বিয়ে নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা উচিত। কারণ ইসলামে বিয়ে হলো পারস্পরিক সম্মতি ও দায়িত্বের বিষয়। যদি সে তার পরিবারের চাপে বা জাদুর কারণে বিয়ে করতে না চায়, তবে আপনি অন্যত্র বিয়ের চেষ্টা করতে পারেন।
- জাদু থেকে মুক্তি: নিয়মিত সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস পড়ুন এবং সকাল-সন্ধ্যা ৩ বার করে পড়ুন। পাশাপাশি রুকইয়া কোর্স চালিয়ে যান।
- দোআ: আল্লাহর কাছে সাহায্য চান।
- اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ
- رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ