শুদ্ধভাবে সালামের উচ্চারণ এবং পাক সংক্রান্ত বিষয়ে

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 6406
Questioner: Jihadur Rahman Noyon
Question Asked: 05 Oct 2026, 09:24 AM
Reviewed & Published: 05 Oct 2026, 06:43 PM
Views: 9
Tokens: 6,294
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম, আমি শুদ্ধভাবে কোরআন পড়তে পারিনা। সালাম ও শুদ্ধভাবে দিতে পারিনা। আমি শিক্ষকতার পাশাপাশি ইউটিউবে ভিডিও ক্লাস আপলোড দেই। তখন আমি ভিডিও এর শুরুতে সালাম দেই না। যেহেতু আমার সালাম শুদ্ধ নয়। আমি যদি ভিডিও এর শুরুতে সালাম দেয় এবং তা শুদ্ধ না হলে কি আমার গুনাহ হবে? কারণ, ভিডিওগুলো ভিউ হয় এবং এগুলো থেকে যায়। একটি ভিডিও কয়েকবছর পর্যন্ত চলতে পারে।

২। আমার পরিবার পাক নাপাকির ব্যাপারে সচেতন নয়। এখন বাড়ির গেইট, ট্যাপ, বিভিন্ন আসবাবপত্র - এগুলো স্পর্শ করার ব্যাপারে ইসলাম কি বলে?

Answer

ভূমিকা

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আপনার প্রশ্ন দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবধর্মী। নিচে কুরআন, হাদীস ও হানাফী ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবের আলোকে বিস্তারিত উত্তর প্রদান করা হলো।


প্রথম প্রশ্ন: শুদ্ধভাবে সালাম দিতে না পারলে ভিডিওর শুরুতে সালাম দেওয়া কি জায়েয? এতে গুনাহ হবে কি?

১. সালামের বিধান ও ফযীলত

সালাম ইসলামের একটি মহান সুন্নত ও শিআর (নিদর্শন)। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

لَا تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا، وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أَوَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ؟ أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ

"তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না ঈমান আনো, আর তোমরা পূর্ণ মুমিন হবে না যতক্ষণ না পরস্পরকে ভালোবাসো। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজ বলে দেব না, যা করলে তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসবে? তোমাদের মধ্যে সালামের ব্যাপক প্রচলন করো।"

— সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৫১৯৮

অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُسْلِمُوا

"যার হাতে আমার প্রাণ, তার কসম! তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না যতন্ত না (পূর্ণভাবে) আত্মসমর্পণ করো।"

— সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৮৯

২. সালামের শুদ্ধ উচ্চারণ (তালাফফুয) কি শর্ত?

হানাফী ফিকহের মূলনীতি হলো: সালামের ক্ষেত্রে শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ (তাজবীদ/মাখরাজ) শর্ত নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো সালামের অর্থ ও মর্ম পৌঁছানো। ইমাম ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেন:

وَلَا يُشْتَرَطُ فِي السَّلَامِ الْإِعْرَابُ وَلَا التَّجْوِيدُ، بَلْ الْمَقْصُودُ إِفْهَامُ الْمَعْنَى

"সালামে ই'রাব বা তাজবীদের শুদ্ধতা শর্ত নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো অর্থ বোধগম্য করা।"

— রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃ. ৪১৭ (দারুল মা'রিফা সংস্করণ)

আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:

لَوْ قَالَ: سَلَامٌ عَلَيْكُمْ، أَوْ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، أَوْ سَلَامًا عَلَيْكُمْ، أَجْزَأَهُ

"যদি কেউ বলে 'সালামুন আলাইকুম' বা 'আসসালামু আলাইকুম' বা 'সালামান আলাইকুম' — সবই যথেষ্ট হবে।"

— রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃ. ৪১৭

অর্থাৎ, আরবীতে সালাম বলার সময় যদি উচ্চারণে সামান্য ত্রুটি থাকে, কিন্তু শ্রোতা সালামের অর্থ বুঝে যায়, তাহলে তা শুদ্ধ সালাম হিসেবেই গণ্য হবে। এমনকি বাংলায় "আসসালামু আলাইকুম" বললেও তা সালাম হিসেবে আদায় হবে।

৩. আপনার নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর

আপনি বলেছেন: "আমি শুদ্ধভাবে কোরআন পড়তে পারি না, শুদ্ধভাবে সালাম দিতে পারি না। তাই ভিডিওর শুরুতে সালাম দেই না।"

এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয়:

(ক) শুদ্ধ উচ্চারণ না পারা গুনাহ নয়, বরং ওযর।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

الْمَاهِرُ بِالْقُرْآنِ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ، وَالَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيَتَتَعْتَعُ فِيهِ وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌّ لَهُ أَجْرَانِ

"কুরআনে দক্ষ ব্যক্তি সম্মানিত ও নেককার ফেরেশতাদের সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পড়তে পড়তে আটকে যায় এবং তা তার জন্য কষ্টকর হয়, তার জন্য দুটি প্রতিদান রয়েছে।"

— সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯৩৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৯৮

সুতরাং, শুদ্ধ উচ্চারণ না পারা আপনার জন্য ওযর (অজুহাত) হিসেবে গণ্য হবে, গুনাহ নয়। বরং আপনি চেষ্টা করলে দ্বিগুণ সওয়াব পাবেন।

(খ) ভিডিওর শুরুতে সালাম দেওয়া কি জরুরি?

ভিডিওর শুরুতে সালাম দেওয়া সুন্নত ও মুস্তাহাব। এটি একটি ইসলামী শিআর। তবে এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়। যদি আপনি সালাম না দেন, তাহলে কোনো গুনাহ হবে না। কিন্তু যদি দেন, তাহলে সওয়াব পাবেন — এমনকি উচ্চারণে সামান্য ত্রুটি থাকলেও, কারণ সালামের মূল উদ্দেশ্য হলো দুআ ও শুভেচ্ছা পৌঁছানো।

(গ) যদি ভুল উচ্চারণে সালাম দেন, তাহলে গুনাহ হবে কি?

না, গুনাহ হবে না। কারণ:

  1. ভুল উচ্চারণ আপনার ইচ্ছাধীন নয় — এটি আপনার সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা।

  2. সালামের মূল উদ্দেশ্য হলো অর্থ পৌঁছানো — যা আপনার ক্ষেত্রে পৌঁছাবে।

  3. আল্লাহ তাআলা বলেন:

    لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا "আল্লাহ কারো উপর তার সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপান না।" — সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৮৬

  4. রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

    إِذَا حَكَمَ الْحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ فَأَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ، وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ فَأَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ "যখন বিচারক ইজতিহাদ করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, তার জন্য দুটি প্রতিদান; আর যখন ইজতিহাদ করে ভুল করে, তার জন্য একটি প্রতিদান।" — সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৩৫২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭১৬

    যদিও এটি বিচারকের হাদীস, তবে এর মূলনীতি হলো: সৎ উদ্দেশ্যে চেষ্টা করলে ভুল হলেও গুনাহ হয় না, বরং সওয়াব হয়।

(ঘ) ভিডিও থেকে যাওয়া ও দীর্ঘদিন চলার বিষয়টি:

আপনার উদ্বেগ হলো — ভিডিও যদি বছরের পর বছর চলে এবং তাতে ভুল উচ্চারণে সালাম থাকে, তাহলে কি বারবার গুনাহ হবে?

উত্তর: না, গুনাহ হবে না। কারণ:

  1. ভুল উচ্চারণ আপনার সামর্থ্যের বাইরে — এটি ওযর।
  2. আপনি জেনেশুনে ভুল করছেন না — বরং শুদ্ধভাবে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
  3. ভিডিও থেকে যাওয়া আপনার ইচ্ছাধীন নয় — এটি প্রযুক্তিগত বিষয়।
  4. হানাফী ফিকহের মূলনীতি: «الْأُمُورُ بِمَقَاصِدِهَا» — "কাজগুলো তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিবেচিত হয়।" আপনার উদ্দেশ্য সালামের সুন্নত আদায় করা, ভুল করা নয়।

তবে উত্তম হলো: আপনি হয়তো "আসসালামু আলাইকুম" এর পরিবর্তে বাংলায় "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ" বলে শুরু করতে পারেন, অথবা লিখিতভাবে স্ক্রিনে দেখাতে পারেন। অথবা আরবীতে না বলে বাংলায় সালামের অর্থ বলে শুরু করতে পারেন — যেমন "সবাইকে ইসলামের সালাম জানাই" — এটাও জায়েয।

মুফতি তাকি উসমানী (দা.বা.) «ফাতাওয়া উসমানী»-তে বলেন:

"সালামের ক্ষেত্রে শব্দের শুদ্ধতা শর্ত নয়; বরং সালামের অর্থ ও মর্ম পৌঁছানো শর্ত। যদি কেউ অশুদ্ধ উচ্চারণে সালাম দেয় কিন্তু শ্রোতা বুঝে যায়, তাহলে সালাম আদায় হবে এবং কোনো গুনাহ নেই।"

— ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ৩, পৃ. ৫৬৭ (মাকতাবা মা'আরিফুল কুরআন)

৪. উপসংহার (প্রথম প্রশ্ন)

| বিষয় | বিধান | |------|--------| | শুদ্ধ উচ্চারণ না পারা | ওযর, গুনাহ নয় | | ভিডিওর শুরুতে সালাম দেওয়া | সুন্নত/মুস্তাহাব, ফরজ নয় | | ভুল উচ্চারণে সালাম দিলে | গুনাহ নেই, সওয়াব আছে (যদি সৎ উদ্দেশ্য হয়) | | ভিডিও দীর্ঘদিন চললে | বারবার গুনাহ হবে না | | সালাম না দিলে | কোনো গুনাহ নেই |

পরামর্শ: আপনি নির্ভয়ে ভিডিওর শুরুতে সালাম দিন। আল্লাহ আপনার চেষ্টা কবুল করুন। আর যদি আরবীতে উচ্চারণ কঠিন হয়, তাহলে বাংলায় সালামের অর্থ বলে শুরু করুন — যেমন "আসসালামু আলাইকুম" বাংলা উচ্চারণে বলুন, অথবা "সবাইকে ইসলামের পবিত্র সালাম জানাই।" এটাও জায়েয ও সওয়াবের কাজ।


দ্বিতীয় প্রশ্ন: পরিবার পাক-নাপাকির ব্যাপারে সচেতন না হলে গেইট, ট্যাপ, আসবাবপত্র স্পর্শ করার বিধান কী?

১. পাক-নাপাকির মূলনীতি

ইসলামে মূলনীতি হলো: «الْأَصْلُ فِي الْأَشْيَاءِ الطَّهَارَةُ» — "প্রত্যেক বস্তুর মূল অবস্থা হলো পবিত্রতা।" অর্থাৎ, কোনো বস্তু সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে পাক ধরা হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا

"তিনি আকাশ থেকে পবিত্র পানি নাযিল করেন।"

— সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ৪৮

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِنَّ الْمُسْلِمَ لَا يَنْجُسُ

"নিশ্চয়ই মুসলিম নাপাক হয় না।"

— সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৭৩

২. নাপাকির প্রকারভেদ

হানাফী ফিকহ অনুযায়ী নাপাকি দুই প্রকার:

(ক) হুকমী নাপাকি (অপবিত্রতা): যেমন — জানাবাত, হায়েজ, নিফাস। এগুলো ওযু/গোসল দ্বারা পবিত্র হতে হয়। তবে নাপাক ব্যক্তির শরীর নিজে নাপাক নয় — বরং তার উপর গোসল ফরজ। সে কোনো বস্তু স্পর্শ করলে বস্তু নাপাক হয় না।

(খ) হাকীকী নাপাকি (দৃশ্যমান অপবিত্রতা): যেমন — প্রস্রাব, পায়খানা, রক্ত, মদ, কুকুরের লালা ইত্যাদি। এগুলো যদি কোনো বস্তুতে লেগে থাকে এবং দৃশ্যমান হয়, তাহলে সেই বস্তু নাপাক হয়।

৩. আপনার নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর

(ক) গেইট, ট্যাপ, আসবাবপত্র স্পর্শ করা:

মূলনীতি: যদি এই বস্তুগুলোতে দৃশ্যমান নাপাকি (যেমন প্রস্রাব, পায়খানা, রক্ত) লেগে না থাকে, তাহলে এগুলো স্পর্শ করা জায়েয। এগুলো পাক হিসেবে গণ্য হবে।

যদি দৃশ্যমান নাপাকি লেগে থাকে, তাহলে:

  • সেই নাপাকি ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
  • ধোয়ার পর সেই বস্তু পাক হয়ে যাবে।
  • ধোয়ার আগে তা স্পর্শ করা জায়েয নয় (যদি হাতে নাপাকি লাগার আশঙ্কা থাকে)।

ইমাম ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন:

الْأَصْلُ فِي كُلِّ شَيْءٍ الطَّهَارَةُ حَتَّى يَتَيَقَّنَ بِالنَّجَاسَةِ

"প্রত্যেক বস্তুর মূল অবস্থা পবিত্রতা, যতক্ষণ না নাপাকির ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়।"

— রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ৩১৭

(খ) পরিবার সচেতন না হলে কী করবেন?

আপনার পরিবার যদি পাক-নাপাকির ব্যাপারে সচেতন না হয়, তাহলে:

  1. আপনি সন্দেহ করবেন না — যতক্ষণ না আপনি নিশ্চিতভাবে জানেন যে কোনো বস্তুতে নাপাকি লেগেছে।
  2. সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো বস্তুকে নাপাক বলা যাবে না — কারণ মূলনীতি হলো পবিত্রতা।
  3. আপনি নিজে সচেতন থাকুন — নিজের হাত, কাপড়, জায়নামায ইত্যাদি পাক রাখুন।
  4. পরিবারকে হিকমতের সাথে বুঝান — কঠোরতা না করে ভালোবাসার সাথে পাক-নাপাকির গুরুত্ব বোঝান।

হাদীসে এসেছে:

إِنَّ الْحَلَالَ بَيِّنٌ وَإِنَّ الْحَرَامَ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا مُشْتَبِهَاتٌ لَا يَعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ، فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ فَقَدِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ

"নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এর মাঝে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়, যা অনেক মানুষ জানে না। যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকে, সে তার দ্বীন ও সম্মান রক্ষা করে।"

— সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৫৯৫

তবে **সন্দেহের ভিত্তিতে সব কিছু নাপাক ধরা যাবে না।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.