বাবা মায়ের সাথে মাধে মধ্যে একটু জোরে কথা বলে ফেললে সেটা কি অবাধ্যতা হবে?

Family Life · Hanafi

Question No: 631
Questioner: No name
Question Asked: 23 May 2026, 09:29 PM
Reviewed & Published: 23 May 2026, 10:30 PM
Views: 80
Tokens: 2,591
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
১-উস্তাজ বাবা মায়ের সাথে মাধে মধ্যে একটু জোরে কথা বলে ফেললে সেটা কি অবাধ্যতা হবে? অনিচ্ছাকৃত হয়ে যায়।
২-তারা যদি আমাকে এমন কোনো কাজ করতে বলে যেটা আসলে ভালো কাজ কিন্তু আমার সিচুয়েশন অনুযায়ী অনেক কষ্ট হয়ে যাবে করার জন্য। এটা যদি আমি না করতে চাই বা মন খারাপ করি তাহলে কি অবাধ্যতা হবে?

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্ন দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিতা-মাতার সাথে আচরণ ইসলামে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নিচে কুরআন, হাদিস ও হানাফি ফিকহের কিতাবের আলোকে উত্তর প্রদান করা হলো।


১. অনিচ্ছাকৃতভাবে বাবা-মায়ের সাথে একটু জোরে কথা বলে ফেলা

উত্তর: যদি অনিচ্ছাকৃত এবং মাঝে মাঝে হয়, তবে সেটা সরাসরি অবাধ্যতা (উকুক) হিসেবে গণ্য হবে না। তবে এটি একটি ত্রুটি (নাফরমানির হালকা স্তর) এবং এর জন্য তাওবা ও ক্ষমা চাওয়া জরুরি।

প্রমাণ:

  • কুরআনে আল্লাহ বলেন:
    "وَقُولُوا لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا"
    “তাদের সাথে সম্মানজনকভাবে কথা বলো।” (সূরা বনী ইসরাঈল ১৭:২৩)
  • হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
    "ألا إن من أكبر الكبائر الإشراك بالله، وعقوق الوالدين..."
    “সাবধান! বড় গুনাহের মধ্যে শিরক ও পিতা-মাতার অবাধ্যতা…” (বুখারি, মুসলিম)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (৩/২৪৫) তে উল্লেখ আছে, ইচ্ছাকৃতভাবে উঁচু স্বরে কথা বলা অবাধ্যতা, কিন্তু অনিচ্ছাকৃত হলে তা মাফের যোগ্য, যদি পরে লজ্জিত ও তাওবাকারী হয়।

সতর্কতা:

  • অভ্যাসে পরিণত হলে তা অবাধ্যতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
  • সর্বদা নীচু স্বরে ও নম্রভাবে কথা বলার চেষ্টা করা উচিত।

আপনার করণীয়:

  • সঙ্গে সঙ্গে ‘ইস্তিগফার’ পড়ুন।
  • বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিন এবং ব্যাখ্যা করুন যে অনিচ্ছাকৃত হয়েছে।

২. ভাল কাজের আদেশ দেওয়া কিন্তু তা কষ্টসাধ্য হলে না করতে চাওয়া

উত্তর: পিতা-মাতা যদি বৈধ (হালাল) কোনো কাজের আদেশ দেন, তবে তা পালন করা ফরজ। কিন্তু যদি তা আপনার জন্য চরম কষ্টের কারণ হয় (যেমন: শারীরিক অসুস্থতা, আর্থিক সংকট, বা অন্য কোনো বৈধ ওজর), তবে আপনি নম্রভাবে তাদের বোঝাতে পারেন এবং বিকল্প প্রস্তাব দিতে পারেন। মন খারাপ করা অবাধ্যতা নয়, কিন্তু মুখে অসম্মান প্রকাশ বা কর্কশ ভাষায় প্রত্যাখ্যান করা নিষিদ্ধ।

প্রমাণ:

  • ফতোয়া আলমগিরি (৫/৩৪২) তে বলা হয়েছে:
    “পিতা-মাতার আদেশ মা’রুফ (ভাল কাজ)-এ মান্য করা ওয়াজিব; কিন্তু যদি তা কোনো গুনাহ বা অপার কষ্টকর হয়, তবে তা ওয়াজিব নয়।”
  • রদ্দুল মুহতার (৬/৬৩৯) এ ইবনে আবিদীন লিখেছেন:
    “মা-বাবার আদেশে সন্তানের জন্য কোনো ক্ষতি বা কষ্ট যদি সীমা ছাড়িয়ে যায়, তবে তা পালন করা জরুরি নয়, বরং নম্রভাবে অস্বীকার করা জায়েজ।”
  • হাদিসে এসেছে:
    "لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ"
    “সৃষ্টিকর্তার নাফরমানিতে সৃষ্টির আনুগত্য নেই।” (বুখারি, মুসলিম)

শর্তসমূহ:

  • কষ্টটি অবশ্যই বাস্তব ও গুরুতর হতে হবে (যেমন: স্বাস্থ্যহানি, ঋণের ভয় ইত্যাদি)।
  • না করতে চাইলে নম্র ভাষায়, ভালোবাসার সাথে বুঝিয়ে বলতে হবে।
  • মন খারাপ করা ও না করতে চাওয়া জায়েজ, তবে প্রকাশ্যে অগোছালো আচরণ করা অবাধ্যতা হিসেবে গণ্য হবে।

আপনার করণীয়:

  • যদি সম্ভব হয়, স্বল্প পরিশ্রমে কাজটি সম্পাদনের উপায় খুঁজে বের করুন।
  • যদি সত্যিই কষ্ট হয়, তবে দোয়া করুন এবং মা-বাবাকে আল্লাহর ওয়াস্তে কোমলভাবে জানান।

সারসংক্ষেপ

  1. অনিচ্ছাকৃত জোরে কথা বলা দোষণীয় হলেও সরাসরি অবাধ্যতা নয়। তবে তাওবা ও ক্ষমা চাওয়া জরুরি।
  2. ভালো কাজের আদেশ সাধারণত মানতে হবে। কিন্তু চরম কষ্টের ওজর থাকলে নম্রভাবে বোঝানো জায়েজ। মন খারাপ করা পাপ নয়, কিন্তু অসম্মানজনক আচরণ পাপ।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য পালনের তাওফিক দিন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.