হায়েয হওয়ার সম্ভাব্য তারিখে কয়েক দফায়ই রঙিন স্রাব আসছে আর পর 2 কি 3 দফায় প্রায় ৭ দিন ধরে

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 6205
Questioner: Anika Shuborna
Question Asked: 01 Oct 2026, 03:28 PM
Reviewed & Published: 01 Oct 2026, 03:46 PM
Views: 18
Tokens: 5,715
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

হায়েয হওয়ার সম্ভাব্য তারিখে কয়েক দফায়ই রঙিন স্রাব আসছে আর পর 2 কি 3 দফায় প্রায় ৭ দিন ধরে অল্প অল্প করে কালচে, কমলা, হলুদ, সবুজ ও বাদামি রঙের স্রাব আসছিল। এরপর প্রায় দেড় দিন স্বচ্ছ স্রাব দেখা যায়। তারপর আবার প্রবলভাবে পিরিয়ডের মতো রক্তপাত শুরু হয়—এবার রক্তটি একেবারে হায়েযের রক্তের মতো, এমনকি কালো/খয়রি রক্তের চাকা পর্যন্ত বের হচ্ছে, প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হলো: প্রথম ৭ দিনের বিভিন্ন রঙের স্রাবকে হায়েয ধরা হবে, নাকি দেড় দিন স্বচ্ছ থাকার পর যে প্রবল রক্তপাত ও রক্তের চাকা শুরু হয়েছে, সেটাকেই প্রকৃত হায়েয ধরা হবে?

Answer

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

স্পষ্ট শরয়ী ফায়সালা:

১. প্রথম ৭ দিনের রঙিন/ঘোলাটে স্রাবটিই ছিল আপনার এ মাসের মূল 'হায়েজ' (ঋতুস্রাব) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৫, ১৩৮; নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৪৭; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৯৯]। ২. দেড় দিন স্বচ্ছ থাকার পর বর্তমানে যে প্রবল রক্তপাত ও চাকা চাকা রক্ত আসছে, তা দেখতে বা লক্ষণে যতই হায়েজের মতো মনে হোক না কেন—শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি হায়েজ নয়; বরং এটি 'ইস্তেহাজা' (অসুস্থতাজনিত বা হরমোনজনিত রক্তপাত) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৮; নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৪৭]।


ফিকহী বিশ্লেষণ ও কারণ:

  • স্রাবের রঙ ও হায়েজ গণ্য হওয়া: ফিকহে হানাফীর সর্বসম্মত মূলনীতি অনুযায়ী, হায়েজের সম্ভাব্য দিনগুলোতে নির্গত যেকোনো রঙের স্রাব—তা কালচে, কমলা, হলুদ, সবুজ, বাদামি, কফি বা ময়লা যে রঙেরই হোক না কেন—যতক্ষণ না তা পুরোপুরি স্বচ্ছ বা সাদা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তা হায়েজের রক্ত বলেই বিবেচিত হয় [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৫; নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৪৭]।
  • ১০ দিনের সীমা অতিক্রম করা: হানাফী মাযহাবে হায়েজের সর্বোচ্চ সময়সীমা হলো ১০ দিন ও ১০ রাত [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৫; নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৪৭]। প্রথম দিনের কালচে/রঙিন স্রাব শুরু হওয়া থেকে নিয়ে বর্তমানের প্রবল রক্তপাত পর্যন্ত মোট সময় হিসাব করলে তা ১০ দিনের সীমা পার হয়ে গেছে। ফিকহের মূলনীতি হলো—রক্তপ্রবাহের মোট সময়কাল ১০ দিন পার হয়ে গেলে মহিলাকে তার পূর্বের অভ্যাসে (আদাতে) ফেরত নেওয়া হয় [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৮; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৯৯]। যেহেতু আপনার আগের অভ্যাস ৭ দিন, তাই প্রারম্ভের ৭ দিনের বিভিন্ন রঙের স্রাবেই আপনার এ মাসের হায়েজ পূর্ণ হয়ে গেছে।
  • দুই হায়েজের মধ্যবর্তী তুহর (পবিত্রতা): শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী একটি হায়েজ শেষ হয়ে পরবর্তী হায়েজ শুরু হতে হলে মাঝখানে কমপক্ষে ১৫ দিনের পূর্ণ পবিত্রতা (তুহর) থাকা আবশ্যক [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৫; নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৪৭]। যেহেতু ১ম সপ্তাহের পর আপনার মাঝে মাত্র দেড় দিন স্বচ্ছ ছিল (১৫ দিন পার হয়নি), তাই দ্বিতীয়বারের প্রবল রক্তপাতকে নতুন কোনো হায়েজ ধরার শরয়ী সুযোগ নেই। ফলে ১ম সপ্তাহের ৭ দিনের পরের সমস্ত রক্তপাত ইস্তেহাজা হিসেবে গণ্য হবে।

আপনার বর্তমান করণীয়:

১. অনতিবিলম্বে নামায শুরু করা: ১০ দিন পূর্ণ হওয়া বা রক্ত বন্ধ হওয়ার অপেক্ষা না করে আজই গোসল বা ওযূ করে অনতিবিলম্বে নামায পড়া শুরু করা আপনার ওপর ফরয [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৮, ১৩৯]। ২. ছুটে যাওয়া নামাযের কাযা: দ্বিতীয়বারের রক্তপাতকে হায়েজ মনে করে যে কয়দিন আপনি ভুলবশত নামায পড়েননি, সেই ফরয নামাযগুলোর কাযা আদায় করে নিন [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১০ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৬৭; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৮]। ৩. ইস্তেহাজা অবস্থায় নামাযের নিয়ম: রক্তপ্রবাহ চলাকালীন আপনি শরয়ী 'মা'যূর' (ওজরগ্রস্ত) হিসেবে গণ্য হবেন। আপনার নিয়ম হলো—প্রতি ফরয নামাযের ওয়াক্ত প্রবেশ করলে একবার ওযূ করবেন এবং সেই ওযূ দিয়ে ওই ওয়াক্তের ফরয, সুন্নাত ও কাযা নামায পড়তে থাকবেন [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৮৬–৩৮৭]।


সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১৩৫: (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মহিলাদের খাস রক্তসমূহের বিবরণ — হায়েজের বিভিন্ন রঙসমূহ (হলুদ, সবুজ, বাদামি ইত্যাদি) এবং ১০ দিনের সর্বোচ্চ মেয়াদ) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৫]।
  • পৃষ্ঠা: ১৩৮–১৩৯: (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ইস্তেহাজার বিবরণ — ১০ দিন পার হলে অভ্যাসে ফেরত যাওয়া, দুই হায়েজের মাঝে ১৫ দিন পবিত্রতা থাকা এবং ইস্তেহাজাওয়ালীর নামায ফরয হওয়া ও কাযা করার মাসআলা) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৮, ১৩৯]।

২. নূরুল ঈযাহ:

  • পৃষ্ঠা: ৪৭: (পরিচ্ছেদ: হায়েজ ও ইস্তেহাজা — হায়েজের সর্বোচ্চ ১০ দিনের সময়সীমা, ইস্তেহাজার সংজ্ঞা ও মধ্যবর্তী ১৫ দিনের তুহর/পবিত্রতার বিধান) [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৪৭]।

৩. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া:

  • ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৯৯–২০০: (অধ্যায়: বাবুল হায়েজ ওয়ানিফাস — রক্ত ১০ দিনের বেশি হলে পূর্বের অভ্যাস অনুযায়ী হিসাব করা) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৯৯, ২০০]।
  • ১০ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৬৭: (অধ্যায়: কিতাবুস সাওম ও সালাত — ইস্তেহাজাকালী ছুটিয়ে দেওয়া নামাযের কাযা আদায়ের বাধ্যবাধকতা) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১০ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৬৭]।

৪. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৩৮৬–৩৮৭: (অধ্যায়: মা'যূর ও ইস্তেহাজাওয়ালীর সালাত ও পবিত্রতার ফিকহী রূপরেখা) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৮৬, ৩৮৭]।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.