সালাত, দুআ ও জিকিরে মাদ-এর নিয়ম মানা কি বাধ্যতামূলক? তিন বা চার আলিফ টান না দিলে অর্থের পরিবর্তন হয় কি?
Salah-Prayer · Hanafi
Question No:
6166
Questioner:
nasa
Question Asked:
30 Sep 2026, 10:28 PM
Reviewed & Published:
30 Sep 2026, 11:44 PM
Views:
34
Tokens:
5,310
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামুআ'লাইকুম
কুরআন তিলওয়াতের সময় বাদে - সালাত, দুআ বা জিকিরের সময় কি মাদ এর নিয়ম মেনে পড়া বাধ্যতামুলক? যেসকল জায়গায় তিন আলিফ বা চার আলিফ টান সেগুলোতে টান না দিলে কি অর্থের পরিবর্তন হয় যাবে?
কুরআন তিলওয়াতের সময় বাদে - সালাত, দুআ বা জিকিরের সময় কি মাদ এর নিয়ম মেনে পড়া বাধ্যতামুলক? যেসকল জায়গায় তিন আলিফ বা চার আলিফ টান সেগুলোতে টান না দিলে কি অর্থের পরিবর্তন হয় যাবে?
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
সংক্ষিপ্ত শরয়ী সিদ্ধান্ত:
১. দুআ ও জিকিরের সময়: নামায বা কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া সাধারণ দুআ, দরূদ শরীফ, তাসবীহ বা জিকির-আজকারের সময় তাজবীদের ৩ বা ৪ আলিফ মাদের (টানের) নিয়ম হুবহু অনুসরণ করে পড়া বাধ্যতামূলক নয় [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৫, ১১৪]।
২. অর্থের পরিবর্তন হওয়ার বিষয়: যেসকল জায়গায় তিন আলিফ বা চার আলিফ টান (মাদ-এ-মুনফাসিল বা মাদ-এ-মুত্তাসিল) থাকে, সেগুলোতে তিন/চার আলিফ না টেনে যদি কেউ কম টানে বা টান সংক্ষেপ করে, তবে শব্দের মূল অর্থের কোনো পরিবর্তন ঘটে না [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১১৪–১১৫; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২০৯]।
বিস্তারিত ফিকহী বিশ্লেষণ:
১. সালাত, দুআ ও জিকিরে মাদের বিধান:
- কুরআন তিলাওয়াত ও সালাতে: নামাযে বা নামাযের বাইরে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের সময় তাজবীদের নিয়ম রক্ষা করে ধীরস্থিরভাবে পড়া উত্তম ও মাসনূন [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৫]। তবে কেউ যদি নামাযের ক্বিরাআতে ভুলবশত বা অভ্যাসবশত ৩/৪ আলিফ টানের জায়গায় কম টানে (যেমন: ইন্না আ'তাইনাকা -
إِنَّا أَعْطَيْنَاكَপড়ার সময় ৪ আলিফ না টেনে ১ আলিফ টানল), তবে এর কারণে নামায ফাসিদ বা বাতিল হয় না এবং কোনো গুনাহও হয় না [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১১৪]। - দুআ ও জিকিরে: দুআ, দরূদ ও জিকির-আজকার হলো যিকির ও মুনাজাতের অন্তর্ভুক্ত, তা তিলাওয়াতে কুরআন নয়। তাই এতে তাজবীদের কারিগরি নিয়মাবলী (যেমন ৩ বা ৪ আলিফ টেনে পড়া) কঠোরভাবে মেনে চলা আবশ্যক নয় [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৫]। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্পষ্ট ও সঠিক উচ্চারণে পড়লেই জিকির ও দুআ পুরোপুরি আদায় হয়ে যাবে।
২. ৩ বা ৪ আলিফ টান না দিলে কি অর্থের পরিবর্তন হয়?
- মাদ ফ্রয়ী (৩ বা ৪ আলিফ টান): ৩ বা ৪ আলিফ টান দেওয়া হয় মূলত উচ্চারণের সৌন্দর্য ও তিলাওয়াতের তারতীলের জন্য (যেমন: মাদ-এ-মুত্তাসিল বা মাদ-এ-মুনফাসিল)। এ ধরনের জায়গায় টানের পরিমাণ কম দিলে বা না টানলে আরবী শব্দের বানান বা অর্থ বিকৃত হয় না [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১১৪–১১৫]। উদাহরণস্বরূপ,
جَاءَ(জা-আ) বাإِنَّا أَعْطَيْنَاكَ(ইন্না আ'তাইনাকা)-তে ৩/৪ আলিফ না টেনে স্বাভাবিক ১ আলিফ টানলেও অর্থের কোনো ক্ষতিকর পরিবর্তন হয় না। - মাদ আসলী (১ আলিফ টান) বনাম মাদ ফ্রয়ী (৩/৪ আলিফ):
- ১ আলিফ টান (মাদ আসলী): যেখানে ১ আলিফ টান দেওয়া আবশ্যক (যেমন:
لاঅর্থ 'না' বনামلَঅর্থ 'অবশ্যই'), সেখানে টান একেবারেই ছেড়ে দিলে ক্ষেত্রবিশেষে অর্থ উল্টে যেতে পারে। তাই ১ আলিফ টানের জায়গায় সঠিক উচ্চারণ রক্ষা করা জরুরি [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২০৯]। - ৩ বা ৪ আলিফ টান: কিন্তু যেসব জায়গায় ৩ বা ৪ আলিফ টান দেওয়া হয়, সেগুলোতে টান কম হলে অর্থের কোনো বিকৃতি ঘটে না [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১১৪]।
- ১ আলিফ টান (মাদ আসলী): যেখানে ১ আলিফ টান দেওয়া আবশ্যক (যেমন:
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১১৪–১১৫: (অধ্যায়: বাব ফি মাসায়িলি যাল্লাতিল ক্বারী — "ইন্না আ'তাইনাকা" বা ৩/৪ আলিফ মাদের টান না দিয়ে বা কম দিয়ে পড়লে নামায ও ক্বিরাআত ফাসিদ না হওয়া সংক্রান্ত মাসআলা) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১১৪, ১১৫]।
- পৃষ্ঠা: ৩৫: (অধ্যায়: বাবুল ক্বিরাআত — তাজবীদের সাথে কুরআন পড়া ও সাধারণ তিলাওয়াতের ফিকহী হুকুম) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৫]।
- পৃষ্ঠা: ১১৩: (অধ্যায়: বাব ফি মাসায়িলি যাল্লাতিল ক্বারী — মাদের ক্ষেত্রে ভুল হলে সালাত ও ক্বিরাআতের ওপর তার প্রভাব) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১১৩]।
২. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ২০৯–২১০: (অধ্যায়: কিতাবুস সালাত, ৪র্থ পরিচ্ছেদ: ক্বিরাআতের বয়ান — ক্বিরাআত ও উচ্চারণে টান বা মাদের ক্ষেত্রে ভুলের ফিকহী বিধান এবং অর্থ পরিবর্তন না হওয়ার বিবরণ) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খন্ড), পৃষ্ঠা: ২০৯, ২১০]।
- পৃষ্ঠা: ২৬৭: (অধ্যায়: সালাত — ক্বিরাআতে মাদের সামান্য তারতম্যে শরয়ী ছাড়ের ফতোয়া) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খন্ড), পৃষ্ঠা: ২৬৭]।
৩. নূরুল ঈযাহ:
- পৃষ্ঠা: ৯৭–৯৯: (অধ্যায়: বাব মা ইউফসিদুস সালাত — ক্বিরাআতে উচ্চারণ ও মাদের ভুল এবং অর্থ পরিবর্তন হওয়া না হওয়ার নিয়মাবলী) [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৯৭, ৯৮, ৯৯]।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।