ইসলামে হালাল ব্যবসা, ধন-সম্পদ অর্জন, ব্যক্তিগত শখ পূরণ, রিয়েল এস্টেট ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা এবং রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সম্পর্ক রাখার বিধান সম্পর্কে জানতে চাই?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 6161
Questioner: Lokman Hossain
Question Asked: 30 Sep 2026, 08:41 PM
Reviewed & Published: 30 Sep 2026, 08:51 PM
Views: 37
Tokens: 7,842
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম

১. বর্তমানে হালাল উপার্জন করার অন্যতম মাধ্যম বড় ব্যবসায়ী হওয়া বা শিল্পপতি হওয়া। এর ফলে অনেক ধন-সম্পদের মালিক হওয়া যায়।ইসলামের দৃষ্টিতে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হওয়া এবং এর জন্য চেষ্টা করা কেমন? এটি করা উচিত কী? কীভাবে তা করা উচিত? ধন-সম্পদের মালিক হবার পর ইসলাম সেই সম্পদের মালিককে কীভাবে জীবন-যাপন করতে বলে?

২. নিজের শখ পূরণ সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? অনেকের বিভিন্ন শখ থাকে যা ব্যক্তিভেদে পার্থক্য তৈরি করে। অনেকের শখ থাকে দামী গাড়ি কেনার, আবার অনেকের দামী বাইক কেনার। আবার অনেকের দামী পোশাক পড়ার। ইসলাম নিজের ব্যক্তিগত শখ পূরণ সম্পর্কে কী বলে? আমার ব্যক্তিগত শখ দামী গাড়ি কেনা, তবে তা করাটা কী একজন মুসলমান হিসেবে যুক্তিসঙ্গত হবে?

৩. রিয়েল এস্টেট ব্যবসা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? বড় রেস্টুরেন্টের ব্যবসা ও জমিজমার ব্যবসা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

৪. বর্তমানে বড় কোনো প্রতিষ্ঠান দিতে হলে রাজনৈতিক নেতাদের সাথে কমবেশী সম্পর্ক রাখতে হয়। এ ব্যপারে ইসলাম কী বলে? কেননা এসব নেতারা তো পরিপূর্ণ ইসলাম মানে না, বরং গণতন্ত্রের মতো মতবাদে বিশ্বাসী!

Answer

ব্যবসা-বাণিজ্য, ধন-সম্পদ, শখ ও রাজনৈতিক সম্পর্ক: ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

উত্তর (বাংলা):

بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد

ভূমিকা

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ব্যবসা-বাণিজ্য, ধন-সম্পদ অর্জন, ব্যক্তিগত শখ পূরণ এবং সামাজিক-রাজনৈতিক সম্পর্ক—সব ক্ষেত্রেই ইসলামের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। নিম্নে আপনার প্রশ্নগুলোর ধারাবাহিক উত্তর প্রদান করা হলো।


১. প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হওয়া ও তার জন্য চেষ্টা করা

ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

ইসলামে ধন-সম্পদ অর্জন নিষিদ্ধ নয়; বরং হালাল পন্থায় সম্পদ অর্জনকে উৎসাহিত করা হয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আর আল্লাহ তোমাদের জন্য যা হালাল করেছেন তা থেকে আহার করো এবং আল্লাহর নিয়ামতের শোকর আদায় করো।" (সূরা নাহল: ১১৪)

আরও ইরশাদ হয়েছে:

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; তবে ব্যবসার মাধ্যমে সন্তুষ্টচিত্তে (গ্রহণ-প্রদান) করা ভিন্ন।" (সূরা নিসা: ২৯)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"সৎ ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও সালিহদের সাথে থাকবে।" (সুনানে তিরমিজি: ১২০৯; ইবনে মাজাহ: ২১৩৯)

ধন-সম্পদ অর্জনের উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত?

ইসলামে সম্পদ অর্জনের মূল উদ্দেশ্য হবে:

  1. নিজের ও পরিবারের হালাল ভরণপোষণ নিশ্চিত করা।
  2. দীনের খেদমত করা (যাকাত, সদকা, দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে দান)।
  3. অভাবীদের সাহায্য করা।
  4. ঋণ পরিশোধ করা।
  5. হজ ও অন্যান্য ইবাদত পালনের সুযোগ তৈরি করা।

ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন: "সম্পদ নিজে উদ্দেশ্য নয়; বরং তা ইবাদত ও আখিরাতের সফলতার الوسيلة (মাধ্যম)।" (ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন)

সম্পদের মালিক হওয়ার পর ইসলাম কী বলে?

আল্লাহ তাআলা বলেন:

"তোমাদের সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতের হক রয়েছে।" (সূরা যারিয়াত: ১৯)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"প্রতিটি মুসলিমের উপর সদকা ফরজ (অর্থাৎ ওয়াজিব)... যদি সামর্থ্য না থাকে, তবে সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে।" (সহিহ বুখারি: ১৪৪৫)

ধন-সম্পদের মালিকের জন্য ইসলামের নির্দেশনা:

  • যাকাত আদায় করা (নিসাব পরিমাণ সম্পদে বছরান্তে ২.৫%)।
  • সদকা ও দান করা।
  • ইসরাফ (অপচয়) ও অপব্যয় থেকে বিরত থাকা।
  • অহংকার ও গর্ব না করা।
  • সম্পদকে আল্লাহর পথে ব্যয় করা।
  • উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সম্পদ বণ্টন করা।

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) বলেন: "সম্পদ আল্লাহর আমানত। মানুষ তার মালিক নয়, বরং খলিফা (প্রতিনিধি)। তাই আমানতের হিসাব দিতে হবে।" (ইসলাম ও আধুনিক অর্থনীতি)

উপসংহার (১ম প্রশ্ন)

✅ প্রচুর হালাল সম্পদের মালিক হওয়া জায়েজ ও উৎসাহিত—যদি উদ্দেশ্য সঠিক হয়। ✅ এর জন্য চেষ্টা করা জায়েজ—তবে হালাল পন্থায়। ✅ কীভাবে করবেন: সৎ ব্যবসা, কৃষি, শিল্প, হালাল বিনিয়োগ ইত্যাদির মাধ্যমে; সুদ, ঘুষ, প্রতারণা, মজুতদারি, ভেজাল পণ্য থেকে বিরত থেকে। ✅ জীবন-যাপন: মধ্যপন্থী, যাকাত-সদকা আদায়কারী, অপচয়মুক্ত, বিনয়ী।


২. ব্যক্তিগত শখ পূরণ (দামী গাড়ি, বাইক, পোশাক)

ইসলামের মূলনীতি

ইসলামে ব্যক্তিগত শখ পূরণ নিষিদ্ধ নয়, তবে শর্তসাপেক্ষে অনুমোদিত। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"হে আদম সন্তান! প্রতিটি নামাজের সময় তোমরা সুন্দর পোশাক পরিধান করো, আহার করো ও পান করো; কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।" (সূরা আরাফ: ৩১)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন।" (সহিহ মুসলিম: ৯১)

শখ পূরণের শর্তসমূহ

  1. হালাল হতে হবে — হারাম বস্তু (যেমন: মদ, জুয়া, হারাম মিউজিক) কেন্দ্রিক শখ নিষিদ্ধ।
  2. অপচয় (ইসরাফ) না হওয়া — অপচয় হারাম। আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।" (সূরা বনী ইসরাইল: ২৭)
  3. অহংকার ও প্রদর্শনী (রিয়া) না হওয়া — রাসূল ﷺ বলেন: "যে ব্যক্তি দুনিয়াতে প্রদর্শনীর জন্য পোশাক পরবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন অপমানের পোশাক পরাবেন।" (সুনানে আবু দাউদ: ৪০২৯)
  4. ঋণ বা অভাবী আত্মীয়দের হক নষ্ট না করা।
  5. যাকাত ও সদকা যথাযথভাবে আদায় করা।
  6. নিয়ত সঠিক হওয়া — শখ পূরণের মাধ্যমে আল্লাহর নিয়ামতের শোকর আদায় করা।

দামী গাড়ি কেনার বিধান

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) "রাদ্দুল মুহতার"-এ বলেন: "প্রয়োজন ও শোভার জন্য উত্তম বাহন ব্যবহার করা জায়েজ; তবে তা অহংকার ও প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে হলে মাকরুহ তাহরিমি।" (রাদ্দুল মুহতার: ৬/৩৪৮)

ফতোয়ায়ে উসমানি-তে উল্লেখ আছে: "প্রয়োজন ও স্বাভাবিক শোভার জন্য দামী গাড়ি কেনা জায়েজ; তবে যদি তা অভাবী আত্মীয়-প্রতিবেশীর হক নষ্ট করে বা অহংকারের উদ্দেশ্যে হয়, তবে নাজায়েজ।" (ফতোয়ায়ে উসমানি: ৩/৪২৫)

আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর

"আমার ব্যক্তিগত শখ দামী গাড়ি কেনা, তবে তা করাটা কী একজন মুসলমান হিসেবে যুক্তিসঙ্গত হবে?"

উত্তর: যদি নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ হয়, তবে জায়েজ ও যুক্তিসঙ্গত:

  • ✅ হালাল উপার্জন থেকে কেনা।
  • ✅ যাকাত, সদকা, ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের হক আদায়ের পর।
  • ✅ অহংকার ও প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য না থাকা।
  • ✅ অপচয়ের সীমায় না পৌঁছানো।
  • ✅ অভাবী আত্মীয়-প্রতিবেশীর হক নষ্ট না করা।

অন্যথায় তা মাকরুহ বা নাজায়েজ হতে পারে।

বেহেশতি জেওর-এ হাকিমুল উম্মত থানভি (রহ.) বলেন: "প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিলাসিতা ইসলামে নিন্দনীয়; তবে প্রয়োজন ও স্বাভাবিক শোভা জায়েজ।" (বেহেশতি জেওর: ৭ম অংশ)


৩. রিয়েল এস্টেট, রেস্টুরেন্ট ও জমিজমার ব্যবসা

রিয়েল এস্টেট ব্যবসা

ইসলামে জায়েজ, তবে শর্ত:

  • ✅ হালাল পন্থায় জমি ক্রয়-বিক্রয়।
  • ✅ সুদভিত্তিক ব্যাংক লোন (সুদি ঋণ) পরিহার।
  • ✅ প্রতারণা, ধোঁকা, মিথ্যা দলিল পরিহার।
  • ✅ ক্রেতাকে প্রকৃত তথ্য প্রদান।
  • ✅ হাউজিং সোসাইটিতে শরীয়তসম্মত চুক্তি।

ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া-তে আছে: "জমি ক্রয়-বিক্রয় ও ভাড়া প্রদান জায়েজ; তবে সুদ, জুয়া ও প্রতারণামূলক চুক্তি নাজায়েজ।" (ফতোয়ায়ে আলমগিরি: ৩/১১২)

বড় রেস্টুরেন্ট ব্যবসা

শর্তসাপেক্ষে জায়েজ:

  • ✅ হালাল খাদ্য ও পানীয় বিক্রয়।
  • ❌ হারাম খাদ্য (শূকর, মদ, হারাম মাংস) বিক্রয় নাজায়েজ।
  • ❌ হারাম মিউজিক, নাচ-গান, বিনোদনের ব্যবস্থা নাজায়েজ।
  • ❌ অবৈধ আয়ের সাথে সম্পৃক্ততা নাজায়েজ।

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) "মাআরিফুল কুরআন"-এ বলেন: "হারাম বস্তুর ব্যবসা নাজায়েজ; তবে হালাল রেস্টুরেন্ট জায়েজ।" (মাআরিফুল কুরআন: ২/৩৪৫)

জমিজমার ব্যবসা

জায়েজ, তবে:

  • ✅ হালাল পন্থায় ক্রয়-বিক্রয়।
  • ✅ জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই।
  • ✅ ওয়াকফ, সরকারি বা অন্যের জমি দখল না করা।
  • ✅ কৃষি জমি হলে উৎপাদনশীল ব্যবহার।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত: "জমি ক্রয়-বিক্রয় ও ভাড়া জায়েজ; তবে গরিব-দুঃখীর হক নষ্ট করা নাজায়েজ।" (আল-হিদায়া: ৩/২৮৯)


৪. রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সম্পর্ক

ইসলামের মূলনীতি

ইসলামে রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সম্পর্ক রাখা প্রয়োজনের ভিত্তিতে জায়েজ, তবে শর্তসাপেক্ষে:

  1. দ্বীনি স্বার্থ রক্ষা — যদি সম্পর্ক রাখার মাধ্যমে দ্বীনের খেদমত হয়।
  2. হারাম কাজে সহযোগিতা না করা — আল্লাহ বলেন: "পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।" (সূরা মায়িদা: ২)
  3. সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা — অন্যায়ের সমর্থন না করা।
  4. ঘুষ, সুদ, দুর্নীতিতে লিপ্ত না হওয়া।
  5. নিজের ঈমান-আমল রক্ষা করা।

ফকীহদের মত

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন: "জালিম শাসকের সাথে সম্পর্ক রাখা জায়েজ, যদি তা মুসলমানদের উপকারে আসে এবং নিজের দ্বীন রক্ষা হয়; তবে তার জুলুমে সহযোগিতা করা নাজায়েজ।" (রাদ্দুল মুহতার: ৫/৪৩২)

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) বলেন: "রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সম্পর্ক রাখা জায়েজ, যদি তা শরীয়তের সীমার মধ্যে থাকে এবং দ্বীনের স্বার্থে হয়। তবে তাদের ভ্রান্ত মতবাদকে সমর্থন করা নাজায়েজ।" (ফতোয়ায়ে উসমানি: ৩/৫৬৭)

আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর

"এসব নেতারা পরিপূর্ণ ইসলাম মানে না, বরং গণতন্ত্রের মতো মতবাদে বিশ্বাসী!"

উত্তর:

  • ✅ প্রয়োজনের ভিত্তিতে সম্পর্ক রাখা জায়েজ — যদি তা দ্বীনের স্বার্থে হয়।
  • ❌ তাদের ভ্রান্ত মতবাদকে সমর্থন করা নাজায়েজ।
  • ❌ তাদের হারাম কাজে সহযোগিতা করা নাজায়েজ।
  • ✅ নিজের ঈমান-আমল রক্ষা করে সম্পর্ক রাখা যাবে।
  • ✅ সত্য কথা বলা ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা কর্তব্য।

মনে রাখবেন: সম্পর্ক রাখা মানে তাদের মতবাদকে সমর্থন করা নয়; বরং দ্বীনের স্বার্থে কৌশলগত সম্পর্ক।


সারসংক্ষেপ

| বিষয় | বিধান | |------|--------| | হালাল সম্পদ অর্জন | জায়েজ ও উৎসাহিত | | অপচয় ও অহংকার | নাজায়েজ | | দামী গাড়ি/বাইক/পোশাক | শর্তসাপেক্ষে জায়েজ | | রিয়েল এস্টেট ব্যবসা | জায়েজ (শর্তসহ) | | হালাল রেস্টুরেন্ট | জায়েজ | | হারাম রেস্টুরেন্ট | নাজায়েজ | | জমিজমার ব্যবসা | জায়েজ | | রাজনৈতিক সম্পর্ক | প্রয়োজনে জায়েজ, হারামে সহযোগিতা নাজায়েজ |


দুআ

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল উপার্জন, সঠিক নিয়ত, অপচয়মুক্ত জীবন ও দ্বীনের স্বার্থে কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

والله أعلم بالصواب



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.