নামাজে লাহনে খফি বিষয়ক

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 6121
Questioner: guraba5792
Question Asked: 29 Sep 2026, 07:02 PM
Reviewed & Published: 29 Sep 2026, 07:15 PM
Views: 9
Tokens: 3,517
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

নামাজে তিলাওয়াত করার সময় قُلْ يٰۤاَيُّهَا الْكٰفِرُوْنَ এই আয়াতে" يٰۤاَيُّهَا" উচ্চারণ করার সময় "يٰۤاَيْيُهَا" উচ্চারণ করা হলে নামাজে কোনো সমস্যা হবে? নামাজ কি বাতিল হয়ে যাবে?

Answer

নামাজে "يٰۤاَيُّهَا" এর পরিবর্তে "يٰۤاَيْيُهَا" উচ্চারণ করার বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

নামাজে সূরা কাফিরুন তিলাওয়াত করার সময় "يٰۤاَيُّهَا" (ইয়া-আইয়ুহা) এর স্থলে যদি "يٰۤاَيْيُهَا" (ইয়া-আই-ইউহা) উচ্চারণ করা হয় — অর্থাৎ "أَيّ" এর মধ্যস্থ শাদ্দাহযুক্ত ইয়াকে দুইবার উচ্চারণ করা হয় — তাহলে নামাজের কী হুকুম?


ফিকহি বিশ্লেষণ

১. মূল বিষয়: শাদ্দাহযুক্ত হরফের উচ্চারণ

আরবি ভাষায় "أَيُّهَا" শব্দে ইয়ায় শাদ্দাহ (ّ) রয়েছে। শাদ্দাহযুক্ত হরফ আসলে দুটি হরফের সমন্বয় — প্রথমটি সাকিন, দ্বিতীয়টি হরকতযুক্ত। তাই সঠিক উচ্চারণ হলো: আই-ইউহা (إِدْغَام সহ), অর্থাৎ একটি ইয়া সাকিন ও একটি ইয়া হরকতযুক্ত — যা একসাথে মিলে শাদ্দাহরূপে উচ্চারিত হয়।

কিন্তু যদি কেউ শাদ্দাহকে ভেঙে "আই-ইউহা" এর পরিবর্তে "আই-ই-ইউহা" (أَيْيُهَا) উচ্চারণ করে — অর্থাৎ ইয়াকে স্পষ্টভাবে দুইবার আলাদা করে পড়ে — তাহলে তা আরবি ভাষার নিয়ম অনুযায়ী লাহন (ভুল) হবে।

২. নামাজে লাহনের প্রকারভেদ ও প্রভাব

হানাফি ফিকহে নামাজে কিরাআতের ভুলকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:

(ক) লাহন-ই-খাফি (সূক্ষ্ম ভুল): যা আরবি ব্যাকরণ বা উচ্চারণের সূক্ষ্ম নিয়ম ভঙ্গ করে, কিন্তু অর্থের পরিবর্তন হয় না। যেমন — শাদ্দাহ পুরোপুরি আদায় না করা, মাদ-এর পরিমাণ কম-বেশি হওয়া ইত্যাদি। এ ধরনের ভুলে নামাজ বাতিল হয় না, তবে সিজদা-সাহু বা তাওবা জরুরি।

(খ) লাহন-ই-জালি (স্পষ্ট ভুল): যা অর্থের সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দেয় বা কুরআনের শব্দকে অন্য শব্দে রূপান্তরিত করে। যেমন — হরফ বদলে ফেলা, ইরাব পরিবর্তন করে অর্থ পাল্টে দেওয়া ইত্যাদি। এ ধরনের ভুলে নামাজ বাতিল হয়ে যায় (যদি ইচ্ছাকৃত হয় বা গুরুতর হয়)।

৩. প্রশ্নোক্ত ভুলের প্রকৃতি

"يٰۤاَيُّهَا" → "يٰۤاَيْيُهَا" — এখানে শাদ্দাহ ভেঙে ইয়াকে দুইবার উচ্চারণ করা হচ্ছে। এতে শব্দের অর্থের মূল পরিবর্তন হয় না; "ইয়া আইয়ুহা" (হে!) এর অর্থই বহাল থাকে। এটি লাহন-ই-খাফি এর অন্তর্ভুক্ত, লাহন-ই-জালি নয়।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো — যদি উচ্চারণটি এতটাই বিকৃত হয় যে শব্দটি আর "أَيّ" হিসেবে চেনা না যায়, বা অন্য কোনো অর্থবোধক শব্দ হয়ে যায়, তাহলে তা লাহন-ই-জালি হিসেবে গণ্য হবে।

৪. হানাফি ফুকাহায়ে কেরামের বক্তব্য

ইমাম ইবন আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেন:

«وَاللَّحْنُ الْخَفِيُّ لَا يُفْسِدُ الصَّلَاةَ، وَالْجَلِيُّ يُفْسِدُهَا إِنْ غَيَّرَ الْمَعْنَى»

অর্থ: "লাহন-ই-খাফি নামাজ নষ্ট করে না, আর লাহন-ই-জালি যদি অর্থ পরিবর্তন করে তবে নামাজ নষ্ট করে।"
(রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুস সালাত, বাবু মা ইয়ুফসিদুস সালাত)

ফাতাওয়া আলমগিরিতে এসেছে:

«إِنْ أَخْطَأَ فِي الْحُرُوفِ وَلَمْ يَتَغَيَّرِ الْمَعْنَى لَمْ تَفْسُدْ صَلَاتُهُ»

অর্থ: "যদি হরফে ভুল করে কিন্তু অর্থ পরিবর্তিত না হয়, তবে তার নামাজ নষ্ট হয় না।"
(ফাতাওয়া আলমগিরি, কিতাবুস সালাত, ফাসলুন ফি কিরাআত)

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) «ফাতাওয়া উসমানি»-তে বলেন:

"নামাজে কিরাআতে এমন ভুল যা অর্থ পরিবর্তন করে না, তা নামাজ বাতিল করে না; তবে তা সংশোধন করা কর্তব্য।"

৫. সিদ্ধান্ত

উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে:

| বিষয় | হুকুম | |------|------| | শাদ্দাহ ভেঙে "আই-ই-ইউহা" উচ্চারণ (অর্থ অপরিবর্তিত) | নামাজ বাতিল হবে না — লাহন-ই-খাফি | | যদি উচ্চারণ এতটাই বিকৃত হয় যে শব্দটি অন্য অর্থবোধক শব্দ হয়ে যায় | নামাজ বাতিল হবে — লাহন-ই-জালি | | ইচ্ছাকৃতভাবে বারবার এমন ভুল করা | গুনাহগার হবে, নামাজ পুনরায় পড়া উত্তম |

তবে উত্তম ও নিরাপদ পথ হলো: সঠিকভাবে "يٰۤاَيُّهَا" (শাদ্দাহসহ, ইদগাম বজায় রেখে) উচ্চারণ করা। শাদ্দাহযুক্ত হরফকে ভেঙে দুইবার উচ্চারণ করা আরবি ভাষার নিয়মবিরুদ্ধ। তাই নামাজে সঠিক তাজবীদ অনুসরণ করা কর্তব্য।


সারসংক্ষেপ

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় যদি "يٰۤاَيْيُهَا" উচ্চারণে শব্দের অর্থ পরিবর্তিত না হয় এবং শব্দটি "أَيّ" হিসেবেই চেনা যায়, তাহলে নামাজ বাতিল হবে না; এটি লাহন-ই-খাফি হিসেবে গণ্য হবে। তবে সঠিক উচ্চারণ শিখে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে শাদ্দাহসহ "يٰۤاَيُّهَا" পড়া কর্তব্য। আর যদি উচ্চারণ এতটাই বিকৃত হয় যে অর্থই পাল্টে যায়, তাহলে নামাজ বাতিল হবে এবং পুনরায় পড়তে হবে।

তথ্যসূত্র:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবন আবিদিন), কিতাবুস সালাত
  • ফাতাওয়া আলমগিরি, কিতাবুস সালাত
  • ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভি)
  • আল-হিদায়া (মারগিনানি)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.