নামাজে সূরা কাফিরুনের "আইয়্যুহা" এর স্থলে "আইইউহা" উচ্চারণ করলে নামাজ বাতিল হবে কি?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 6119
Questioner: guraba5792
Question Asked: 29 Sep 2026, 06:56 PM
Reviewed & Published: 29 Sep 2026, 07:10 PM
Views: 16
Tokens: 3,054
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

নামাজে তিলাওয়াত করার সময় قُلْ يٰۤاَيُّهَا الْكٰفِرُوْنَ এই আয়াতে "আইয়ুহা" উচ্চারণ করার সময় "আইইউহা" উচ্চারণ করা হল নামাজে কোনো সমস্যা হবে? নামাজ কি বাতিল হয়ে যাবে?

Answer

নামাজে "আইইউহা" উচ্চারণ করার বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

নামাজে সূরা কাফিরুনের قُلْ يٰۤاَيُّهَا الْكٰفِرُوْنَ আয়াতে "আইয়্যুহা"-এর স্থলে "আইইউহা" উচ্চারণ করলে নামাজ বাতিল হবে কি না।

সংক্ষিপ্ত উত্তর

না, শুধু "আইইউহা" উচ্চারণ করলে নামাজ বাতিল হবে না — যদি না তা দীর্ঘ হয় বা অর্থ বিকৃত হয়। তবে সতর্কতার সাথে সহীহ উচ্চারণ শেখা কর্তব্য, কারণ কুরআনের হরফ ও মাদ-এর পরিমাণ ঠিক রাখা তিলাওয়াতের হক।


বিস্তারিত আলোচনা

১. নামাজে ভুল উচ্চারণের মূলনীতি

ফিকহে হানাফির মূলনীতি হলো — নামাজে কুরআন পাঠে যদি ভুলটি অর্থ পরিবর্তন করে ফেলে বা এমন শব্দ তৈরি হয় যা কুরআনের শব্দ নয়, তাহলে নামাজ বাতিল হবে। আর যদি ভুলটি অর্থ পরিবর্তন না করে এবং শব্দটি কুরআনের শব্দের কাছাকাছি থাকে, তাহলে নামাজ বাতিল হবে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا "আর কুরআন তিলাওয়াত করো ধীরে ধীরে, স্পষ্টভাবে।" — (সূরা মুযযাম্মিল: ৪)

২. "আইইউহা" উচ্চারণের বিশ্লেষণ

يٰۤاَيُّهَا শব্দের সঠিক উচ্চারণ: ইয়া-আইয়্যুহা (ইয়া + আইয়্যু + হা)।

  • এখানে ইয়া (يٰ) একটি মাদ্দ বা দীর্ঘ টান।
  • এরপর আইয়্যু (اَيُّ) — যেখানে ইয়ায়ে মুশাদ্দাদ (يَّ) আছে।
  • শেষে হা (هَا)।

যখন কেউ "আইইউহা" বলে, তখন মূলত:

  • ইয়ায়ে মুশাদ্দাদের শাদ্দা (দ্বিগুণ) ঠিকমতো আদায় হয় না,
  • অথবা মাদ্দের পরিমাণ কম-বেশি হয়।

এতে শব্দটি কুরআনের শব্দ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায় না — এটি يٰۤاَيُّهَا-এর একটি অসম্পূর্ণ/দুর্বল উচ্চারণ, কিন্তু আরবি ভাষায় এটি কোনো ভিন্ন অর্থবোধক শব্দও নয়।

৩. হানাফি ফিকহের সিদ্ধান্ত

ইমাম ইবনে আবিদীন শামি (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেন:

"নামাজে কুরআন পাঠে যদি এমন ভুল হয় যা অর্থ পরিবর্তন করে, তবে নামাজ বাতিল হবে; আর যদি অর্থ পরিবর্তন না হয়, তবে বাতিল হবে না।" — (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, কিতাবুস সালাত)

ফাতাওয়া আলমগিরি-তে এসেছে:

"যদি কেউ নামাজে কুরআনের হরফ পরিবর্তন করে এমনভাবে যা অর্থ পরিবর্তন করে, তবে নামাজ ফাসিদ হবে।" — (ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৭৯)

ফাতাওয়া উসমানি-তে মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) বলেন:

"সাধারণ ভুল যা অর্থ পরিবর্তন করে না এবং শব্দকে সম্পূর্ণ অপরিচিত করে না, তা নামাজ বাতিল করে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল উচ্চারণ করা বা সহীহ উচ্চারণ শেখার অবহেলা করা গুনাহ।"

৪. "আইইউহা" কি অর্থ পরিবর্তন করে?

يٰۤاَيُّهَا অর্থ: "হে" (সম্বোধনের জন্য)। آيُّوهَا বা أَيُّوهَا — আরবিতে এ ধরনের কোনো স্বতন্ত্র শব্দ নেই যা ভিন্ন অর্থ দেয়।

তাই "আইইউহা" উচ্চারণে অর্থ পরিবর্তিত হয় না — এটি শুধু উচ্চারণের ত্রুটি। সুতরাং নামাজ বাতিল হবে না।

৫. তবে সতর্কতা জরুরি

যদিও নামাজ বাতিল হবে না, তবুও:

  1. শাদ্দা (ّ) আদায় করা ওয়াজিব — কারণ শাদ্দা বাদ দিলে হরফ দ্বিগুণ হয় না, যা তিলাওয়াতের হক নষ্ট করে।
  2. মাদ্দের পরিমাণ ঠিক রাখা — ইয়া-এ মাদ্দ (يٰ) এক আলিফ পরিমাণ টানতে হয়।
  3. সহীহ উচ্চারণ শেখা — প্রত্যেক মুসলিমের উপর কর্তব্য, কারণ নামাজে কুরআন পাঠ করা ফরজ।

আশরাফ আলী থানভি (রহ.) বেহেশতী জেওর-এ লেখেন:

"নামাজে কুরআন এমনভাবে পড়া উচিত যাতে হরফ ও মাদ্দ সহীহ হয়। ভুল উচ্চারণে যদি অর্থ পরিবর্তন না হয়, নামাজ হবে, কিন্তু সওয়াব কম হবে এবং অভ্যাস করা উচিত নয়।"


উপসংহার

| বিষয় | বিধান | |------|-------| | "আইইউহা" উচ্চারণে নামাজ বাতিল? | না, বাতিল হবে না | | কারণ | অর্থ পরিবর্তন হয় না, শব্দ কুরআনের বাইরের নয় | | তবে করণীয় | সহীহ উচ্চারণ শেখা, শাদ্দা ও মাদ্দ ঠিক রাখা | | বারবার ইচ্ছাকৃত ভুল | গুনাহ, তবে নামাজ বাতিল নয় (অর্থ পরিবর্তন না হলে) |

পরামর্শ: কোনো অভিজ্ঞ ক্বারী বা আলেমের কাছে সূরা কাফিরুনের সহীহ উচ্চারণ শিখে নিন। ইনশাআল্লাহ, এতে নামাজ আরও পূর্ণাঙ্গ হবে।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.