নামাজে সূরা কাফিরুনের "আইয়ুহাল" এর পরিবর্তে "আইইউহাল" উচ্চারণ করলে নামাজ বাতিল হবে কি?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 6118
Questioner: guraba5792
Question Asked: 29 Sep 2026, 06:48 PM
Reviewed & Published: 29 Sep 2026, 06:57 PM
Views: 16
Tokens: 3,486
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

নামাজে তিলাওয়াত করার সময় قُلْ يٰۤاَيُّهَا الْكٰفِرُوْنَ এই আয়াতে "আইয়ুহাল" উচ্চারণ করার সময় "আইইউহাল" উচ্চারণ করা হলে নামাজের কোনো সমস্যা হবে? নামাজ কি বাতিল হয়ে যাবে?

Answer

নামাজে "আইইউহাল" উচ্চারণ করলে নামাজ বাতিল হবে কি?

উত্তর

না, শুধু "আইইউহাল" উচ্চারণ করলে নামাজ বাতিল হবে না আপনার নামাজ আদায় হয়ে যাবে।

বিস্তারিত আলোচনা

১. مسئلہ کی نوعیت

প্রশ্নে উল্লিখিত আয়াতটি হলো:

قُلْ يٰۤاَيُّهَا الْكٰفِرُوْنَ (সূরা কাফিরুন: ১)

এখানে "يٰۤاَيُّهَا" শব্দটি দুটি অংশে বিভক্ত:

  • يٰۤاَ (ইয়া-আ) — নিদা (ডাক)-এর হরফ
  • اَيُّهَا (আইয়ুহা) — মুনাদা (যাকে ডাকা হচ্ছে)

সঠিক উচ্চারণ: "ইয়া-আইয়ুহা" — অর্থাৎ ইয়া এর পর আইয়ুহা।

২. "আইইউহাল" উচ্চারণের বিশ্লেষণ

যদি কেউ "আইইউহাল" উচ্চারণ করে, তাহলে সেখানে:

  • "আই" এর পর অতিরিক্ত "ই" যোগ হচ্ছে
  • শেষে "ল" যোগ হচ্ছে (যা মূল শব্দে নেই)

এখানে দুটি দিক বিবেচ্য:

(ক) যদি শুধু ইয়া-আ এর মadda (مدّ) টানতে গিয়ে সামান্য "ই" এর আওয়াজ বের হয়:

  • এটি উচ্চারণের স্বাভাবিক ত্রুটি
  • নামাজ বাতিল হবে না
  • সাজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে না
  • তবে বারবার ইচ্ছাকৃতভাবে করলে মাকরূহ

(খ) যদি স্পষ্টভাবে "আইইউহাল" (অতিরিক্ত ই + ল) উচ্চারণ করে:

  • এটি হরফ বাড়ানো (حرف زائد) এর অন্তর্ভুক্ত
  • হানাফি মাযহাবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মত অনুযায়ী, নামাজে এক হরফ ভুল হলে — যদি অর্থ বিকৃত না হয় — নামাজ বাতিল হয় না, তবে সাজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয় (যদি ভুলটি সিজদা/রুকু ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত না হয়)।

৩. হানাফি মাযহাবের মূলনীতি

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর নিকট:

  • নামাজে কিরাআতে এক হরফ ভুল হলে (যেমন: ح কে ه পড়া, বা একটি হরফ বাড়ানো/কম করা) — নামাজ বাতিল হয় না, তবে সাজদায়ে সাহু ওয়াজিব।
  • দুই হরফ ভুল হলে বা এমন ভুল যা অর্থ সম্পূর্ণ বিকৃত করে — নামাজ বাতিল।

ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) এর নিকট:

  • এক হরফ ভুল হলেও নামাজ বাতিল (যদি অর্থ বিকৃত হয়)।

তবে ফতোয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য মত হলো ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মত, যা ইমাম তাহাবি (রহ.) ও ইবনে আবিদিন (রহ.) সমর্থন করেছেন।

৪. প্রমাণ ও দলিল

আল-হিদায়া গ্রন্থে এসেছে:

"وَلَوْ غَلِطَ فِي حَرْفٍ وَاحِدٍ لَا تَفْسُدُ صَلَاتُهُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ، وَعَلَيْهِ سَجْدَةُ السَّهْوِ"

অর্থ: "যদি এক হরফে ভুল করে, তবে আবু হানিফার নিকট নামাজ ফাসিদ হয় না, এবং তার উপর সাজদায়ে সাহু ওয়াজিব।"

রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন) এ উল্লেখ আছে:

"الْحَرْفُ الزَّائِدُ إِنْ كَانَ لَا يُغَيِّرُ الْمَعْنَى لَا تُفْسِدُ الصَّلَاةَ، لَكِنْ تَجِبُ سَجْدَةُ السَّهْوِ"

অর্থ: "অতিরিক্ত হরফ যদি অর্থ পরিবর্তন না করে, তবে নামাজ ফাসিদ করে না, কিন্তু সাজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়।"


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.