নামাজের ফরজ কতটি ও কী কী?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
নামাজের ফরজসমূহ
প্রশ্ন: নামাজের ফরজসমূহ কী কী?
উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، أما بعد
নামাজ ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ এবং ঈমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
নামাজের ফরজ মোট ১৩টি, যার মধ্যে নামাজের বাইরে ৭টি এবং নামাজের ভেতরে ৬টি ফরজ রয়েছে। এই ১৩টি ফরজের যেকোনো একটি বাদ পড়লে নামাজ বাতিল হয়ে যায় এবং পুনরায় আদায় করতে হয়।
নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো: ★নামাজের বাইরের ফরজ (৭টি) এগুলোকে নামাজের শর্ত বা আহকাম বলা হয়: ১. শরীর পবিত্র হওয়া: ওজু, গোসল বা তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা। ২. কাপড় পবিত্র হওয়া: পরিধেয় বস্ত্র পাক বা পবিত্র থাকা। ৩. নামাজের জায়গা পবিত্র হওয়া: যে স্থানে নামাজ পড়া হবে সে জায়গাটি পরিষ্কার ও পবিত্র থাকা। ৪. সতর ঢাকা: পুরুষদের নাভি থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত এবং নারীদের মুখমণ্ডল, দুই হাতের কবজি ও দুই পায়ের পাতা ছাড়া সমস্ত শরীর ঢাকা। ৫. কেবলামুখী হওয়া: কাবা শরিফের দিকে মুখ করে দাঁড়ানো। ৬. ওয়াক্ত হওয়া: নির্দিষ্ট ওয়াক্ত বা সময় হওয়ার পরে নামাজ পড়া। ৭. নিয়ত করা: মনে মনে কোন ওয়াক্তের কী নামাজ পড়ছেন তার সংকল্প করা।
★নামাজের ভেতরের ফরজ (৬টি) এগুলোকে নামাজের রোকন বা আরকান বলা হয়: ১. তাকবিরে তাহরিমা: 'আল্লাহু আকবার' বলে নামাজ শুরু করা। ২. কিয়াম করা: ফরজ ও ওয়াজিব নামাজে সোজা হয়ে দাঁড়ানো। ৩. কিরাআত পড়া: পবিত্র কোরআন থেকে অন্তত এক দীর্ঘ আয়াত বা ছোট তিন আয়াত পরিমাণ তেলাওয়াত করা। ৪. রুকু করা: পিঠ সোজা করে কোমর ঝুঁকিয়ে রুকু আদায় করা। ৫. সেজদা করা: দুই হাঁটু, দুই হাত এবং কপাল-নাক মাটিতে রেখে দুই সেজদা করা। ৬. শেষ বৈঠক: তাশাহহুদ বা আত্তাহিয়্যাতু পড়ার পরিমাণ সময় পর্যন্ত শেষ বসে থাকা।
পবিত্রতা অর্জন (طهارة)
শরীর, কাপড় ও নামাজের স্থান পবিত্র হওয়া এবং অযু-গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা।
দলিল: আল্লাহ তাআলা বলেন—
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরও ভালোবাসেন।" (সূরা বাকারা: ২২২)
হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
"পবিত্রতা ছাড়া নামাজ কবুল হয় না।" (সহিহ মুসলিম: ২২৪)
সতর ঢাকা (ستر العورة)
পুরুষের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢাকা ফরজ; নারীদের সারা শরীর (মুখ, হাতের কব্জি ও পায়ের পাতা ছাড়া) ঢাকা ফরজ।
দলিল: আল্লাহ বলেন—
"হে বনী আদম! প্রত্যেক নামাজের সময় তোমরা সুন্দর পোশাক পরিধান করো।" (সূরা আরাফ: ৩১)
সময়মতো নামাজ আদায় (وقت)
প্রত্যেক নামাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদায় করা ফরজ।
দলিল: আল্লাহ বলেন—
"নিশ্চয়ই মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ ফরজ করা হয়েছে।" (সূরা নিসা: ১০৩)
তাকবীরে তাহরীমা (تكبير التحريمة)
"আল্লাহু আকবার" বলে নামাজ শুরু করা। এটি নামাজের প্রথম রুকন।
দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
"নামাজের চাবি হলো পবিত্রতা, তার শুরু হলো তাকবীর এবং তার সমাপ্তি হলো সালাম।" (সুনানে আবু দাউদ: ৬১, তিরমিজি: ৩)
কিয়াম (قيام)
ফরজ নামাজে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া (সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য)।
দলিল: আল্লাহ বলেন—
"আর তোমরা আল্লাহর জন্য বিনয়ের সাথে দাঁড়িয়ে থাকো।" (সূরা বাকারা: ২৩৮)
কিরাআত (قراءة)
কমপক্ষে তিন আয়াত বা একটি দীর্ঘ আয়াত পরিমাণ কুরআন পাঠ করা। ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব এবং সাথে অন্য সূরা মিলানো ওয়াজিব।
দলিল: আল্লাহ বলেন—
"অতএব কুরআন থেকে যা সহজ হয় তা পাঠ করো।" (সূরা মুযযাম্মিল: ২০)
রুকু ও সিজদায় সব অঙ্গ স্থির হওয়া (قرار)
রুকু ও সিজদায় কমপক্ষে এক তাসবিহ পরিমাণ সময় স্থির থাকা।
দলিল: হাদিসে এসেছে—
"নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল ﷺ যখন রুকু করতেন, তখন এত সময় স্থির থাকতেন যে বলা হতো তিনি ভুলে গেছেন।" (সুনানে আবু দাউদ: ৮৬২)
সংক্ষেপে নামাজের ফরজ
★নামাজের বাইরের ফরজ (৭টি) এগুলোকে নামাজের শর্ত বা আহকাম বলা হয়: ১. শরীর পবিত্র হওয়া: ওজু, গোসল বা তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা। ২. কাপড় পবিত্র হওয়া: পরিধেয় বস্ত্র পাক বা পবিত্র থাকা। ৩. নামাজের জায়গা পবিত্র হওয়া: যে স্থানে নামাজ পড়া হবে সে জায়গাটি পরিষ্কার ও পবিত্র থাকা। ৪. সতর ঢাকা: পুরুষদের নাভি থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত এবং নারীদের মুখমণ্ডল, দুই হাতের কবজি ও দুই পায়ের পাতা ছাড়া সমস্ত শরীর ঢাকা। ৫. কেবলামুখী হওয়া: কাবা শরিফের দিকে মুখ করে দাঁড়ানো। ৬. ওয়াক্ত হওয়া: নির্দিষ্ট ওয়াক্ত বা সময় হওয়ার পরে নামাজ পড়া। ৭. নিয়ত করা: মনে মনে কোন ওয়াক্তের কী নামাজ পড়ছেন তার সংকল্প করা।
★নামাজের ভেতরের ফরজ (৬টি) এগুলোকে নামাজের রোকন বা আরকান বলা হয়: ১. তাকবিরে তাহরিমা: 'আল্লাহু আকবার' বলে নামাজ শুরু করা। ২. কিয়াম করা: ফরজ ও ওয়াজিব নামাজে সোজা হয়ে দাঁড়ানো। ৩. কিরাআত পড়া: পবিত্র কোরআন থেকে অন্তত এক দীর্ঘ আয়াত বা ছোট তিন আয়াত পরিমাণ তেলাওয়াত করা। ৪. রুকু করা: পিঠ সোজা করে কোমর ঝুঁকিয়ে রুকু আদায় করা। ৫. সেজদা করা: দুই হাঁটু, দুই হাত এবং কপাল-নাক মাটিতে রেখে দুই সেজদা করা। ৬. শেষ বৈঠক: তাশাহহুদ বা আত্তাহিয়্যাতু পড়ার পরিমাণ সময় পর্যন্ত শেষ বসে থাকা।
গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
- ফরজ ছুটে গেলে: নামাজ বাতিল হয়ে যায়, পুনরায় পড়তে হবে।
- ওয়াজিব ছুটে গেলে: সিজদায়ে সাহু দিতে হবে।
- সুন্নত-মুস্তাহাব ছুটে গেলে: নামাজ শুদ্ধ হবে, তবে সওয়াব কম হবে।
তথ্যসূত্র:
- রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামি) — ১/৩৪৭
- ফাতাওয়া আলমগিরি — ১/৫৮
- আল-হিদায়া — ১/৪৭
- ফাতাওয়া উসমানি — ১/১৭৩
- ইমদাদুল ফাতাওয়া — ১/৩৯৮
- বেহেশতী জেওর — নামাজ অধ্যায়
والله أعلم بالصواب