রাস্তায় আল্লাহর নাম পড়ে থাকলে করণীয়

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 609
Questioner: Amina Begum
Question Asked: 23 May 2026, 02:33 PM
Reviewed & Published: 23 May 2026, 02:45 PM
Views: 72
Tokens: 2,712
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১।রাস্তায় আল্লাহ পাক এর নাম লিখা বিসমিল্লাহ লেখা রাসুলুল্লাহ সা. লিখা বা ইসলামিক কিছু রাস্তায় বাজারে বিভিন্ন যায়গায় পরে থাকে আমি এগুলো ফেলাই না অন্য জনে ফেলায়। অনেক সময় উঠাই আবার উঠাই না মানুষ কি ভাববে অনেক সময় উঠাইতে ইচ্ছে করে না তবে দেখে থাকলে পারা দেই না।আমি তোর ফেলাই না অন্য জনে ফেলায় এগুলো নিচে পরে থাকতে দেখলে না উঠিয়ে সম্মান জনক যায়গায় না রেখে পাশ কাটিয়ে চলে গেলে নিজে পারা না দিলে পুকুরে না ফেললে আমার গোনাহ হবে?

২।আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ উনাদের নাম ইসলামিক কিছু পুকুরে ফেলি কিন্তু পুকুরের অপর পাশে টয়লেট আছে সেখান থেকে নাপাকি পুকুরে আসে কিন্তু অন্য দিকের পানিতে গন্ধ রং এবং সাধ সাভাবিক থাকে তাহলে এরকম পুকুরে ফেললে গোনাহ হবে কি বা ইমানে সমস্যা হবে কি?

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم

প্রথম প্রশ্নের উত্তর:
রাস্তায়, বাজারে বা যেকোনো স্থানে আল্লাহ, রাসূল (ﷺ)-এর নাম, আয়াত, হাদিস পড়ে থাকলে তা দেখে উঠিয়ে সম্মানজনক স্থানে রাখা ওয়াজিব (অত্যাবশ্যকীয়)। এমনকি আপনি নিজে না ফেললেও, দেখার পর তা ফেলে রাখা এবং না তোলা গুনাহের কাজ

➡️ হানাফি ফিকহের নির্দেশনা:

  • ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, এমন বস্তু দেখার পর তোলা ও সংরক্ষণ করা সবার ওপর ফরজ-এ-কিফায়া। যদি কেউ না তোলে, তাহলে দর্শনকারী সকলেই গুনাহগার হবে।
  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, তা তোলা ওয়াজিব এবং না তুললে গুনাহ হবে। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৪১৫)

➡️ মানুষের লজ্জার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়:
"লোক কী ভাববে" এই ভয়ে না তোলা কোনো ওজর নয়। বরং সাহস ও যত্ন নিয়ে তা তুলে ফেলা উচিত। হাদিসে এসেছে:

“যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম বা পবিত্র জিনিসের প্রতি অসম্মান করবে, সে ধ্বংস হবে।” (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৬৫৫১)

➡️ সম্মানজনক স্থান:
উঠিয়ে শুকনো, পরিষ্কার ও নিরাপদ স্থানে (যেমন দেয়ালের ফাঁক, কাপড়ে মুড়ে ঘরের কোণে) রাখা বা প্রবাহিত নদী/সমুদ্রে ফেলা জায়েজ। পুকুরে ফেলা উচিত নয়, কারণ পানি ব্যবহারের সময় অসম্মান হতে পারে।

সুতরাং:
আপনি যদি নিজ চোখে দেখেও না তোলেন এবং পাড়ি দিয়ে চলে যান, তাহলে গুনাহ হবে। এতে ইমানের সমস্যা না হলেও অবহেলা করা কবিরা গুনাহের শামিল।


দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর:
পুকুরের এক পাশে টয়লেট থাকলেও যদি তার নাপাকি অপর পাশের পানির রং, গন্ধ ও স্বাদ না বদলায়, তাহলে সেই পানি পাক। তবে আল্লাহ, রাসূল (ﷺ)-এর নাম বা কোরআনের আয়াত লেখা কাগজ বা বস্তু এমন পুকুরে ফেলা মাকরুহ ও গুনাহ

➡️ কারণ:
১. পুকুরের পানি পাক হলেও টয়লেট থেকে নাপাকি আসার সম্ভাবনা থাকে। ফলে তাতে পবিত্র নাম রাখা অসম্মানের কারণ হয়।
২. শরিয়তে পবিত্র জিনিস মাটিতে পুঁতে ফেলা বা প্রবাহিত নদীতে ফেলাই উত্তম। স্থির পানিতে ফেলা যদি অপবিত্রতার আশঙ্কা থাকে, তবে তা হারাম
(ফতোওয়ায়ে উসমানি, ১/৫২২; ইমদাদুল ফতোয়া, ৪/৩৯৮)

➡️ ইমানের সমস্যা কি?
ইমানের সমস্যা তখনই হবে যদি কেউ মনে করে যে, নাপাক পুকুরে ফেলা জায়েজ। কিন্তু আপনি যদি শরিয়তের অজ্ঞতা বা অবহেলায় করেন, তবুও গুনাহ হবে; ইমান নষ্ট হবে না। তবে তওবা করা আবশ্যক।

করনীয়:

  • পবিত্র বস্তু পরিষ্কার কাপড়ে মুড়ে নির্জন স্থানে পুঁতে ফেলুন।
  • বা প্রবাহিত নদীতে (যেখানে পানি টানা চলে) ফেলুন।
  • পুকুরে ফেলতে বাধ্য হলে পুকুরে টয়লেটের দিক থেকে দূরে ফেলুন এবং নিশ্চিত হোন যে সেখানে নাপাকি মেশে না।

উত্তর প্রদানে সহায়ক গ্রন্থাবলী:
ফতোওয়ায়ে উসমানি، امداد الفتاوى، رد المحتار، بهشتى زيور، معارف القرآن، فتاوى عالمگيرى، الهداية، شرح معاني الآثار، اصول الشاشي

আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.