হজে অবস্থানকালে কসর ও ইতমাম নামাজের বিধান।
Hajj and Umrah · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
আপনার বর্ণিত অবস্থানকাল অনুযায়ী, আপনি মক্কা (আজিজিয়া হোটেল)-এ ৭ দিন, মিনা ও মুজদালিফায় ৭ দিন, এবং মিসফালায় ১২ দিন অবস্থান করবেন। মোট অবস্থানকাল ২৬ দিন। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, মুসাফিরের নামাজের বিধান নির্ভর করে সফরের নিয়ত ও এক স্থানে অবস্থানের সময়কাল-এর ওপর।
হানাফি ফিকহের মূলনীতি:
-
মুসাফিরের সংজ্ঞা:
- ৭৭ কিমি (প্রায় ৪৮ মাইল) দূরত্বের সফর করলে মুসাফির গণ্য হবেন।
- মুসাফির ব্যক্তি ১৫ দিনের কম অবস্থানের ইচ্ছা করলে কসর (চার রাকাত ফরজ দুই রাকাত) পড়বেন।
- ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের ইচ্ছা করলে মুকিম গণ্য হয়ে পূর্ণ নামাজ পড়বেন।
(সূত্র: ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪৩; রদ্দুল মুহতার, ২/১২৩; আল-হিদায়া, ১/১৩৪)
-
একাধিক স্থানের অবস্থান:
- যদি সফর একটাই হয় (যেমন: হজের সফর), তবে পুরো সফরকাল জুড়ে মুসাফিরের বিধান প্রযোজ্য হবে, যতক্ষণ না ১৫ দিনের বেশি এক স্থানে থাকার ইচ্ছা করা হয়।
- তবে যদি এক স্থানে ১৫ দিনের বেশি থাকার নিয়ত করেন, তবে সেখান থেকে পরবর্তী গন্তব্য পর্যন্ত মুকিম গণ্য হবেন।
আপনার অবস্থান বিশ্লেষণ:
১. আজিজিয়া হোটেল (মক্কা) – ৭ দিন:
এটি ১৫ দিনের কম, তাই কসর পড়বেন।
২. মিনা ও মুজদালিফা – ৭ দিন:
এগুলো মক্কার সীমার মধ্যে অবস্থিত। যেহেতু আপনি মক্কায় ইতিমধ্যেই অবস্থান করছেন, তাই মিনা-মুজদালিফায় যাওয়া নতুন সফর নয়। বরং এটি মক্কার ভেতরেই অবস্থান গণ্য হবে। তবে মিনা-মুজদালিফায় অবস্থানের সময়কাল (৭ দিন) ১৫ দিনের কম, তাই কসর পড়বেন।
৩. মিসফালায় হোটেল – ১২ দিন:
এটি ১৫ দিনের কম, তাই কসর পড়বেন।
নিষ্কর্ষ:
যেহেতু আপনি কোনো স্থানেই ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার ইচ্ছা করেননি, তাই সব স্থানেই কসর (সংক্ষিপ্ত) নামাজ পড়বেন। অর্থাৎ যোহর, আসর ও ইশার ফরজ দুই রাকাত করে পড়বেন। ফজর ও মাগরিবের নামাজ পূর্ণ পড়বেন।
শর্ত:
মক্কা ও মিসফালা আলাদা শহর হলেও, যেহেতু আপনি হজের একক সফরে আছেন এবং কোনো স্থানে ১৫ দিনের বেশি থাকবেন না, তাই পুরো সফর জুড়ে মুসাফিরের বিধান বহাল থাকবে।
সতর্কতা:
মক্কায় ৭ দিন থাকা অবস্থায় যদি মিনা-মুজদালিফায় ৭ দিন যোগ করে মোট ১৫ দিন মক্কায় অবস্থানের ইচ্ছা করেন, তবে মক্কায় আগমনের সময় থেকেই মুকিম গণ্য হবেন। কিন্তু আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনি মক্কায় ৭ দিন, মিনা-মুজদালিফায় ৭ দিন এবং পরে মিসফালায় ১২ দিন থাকবেন – অর্থাৎ মক্কায় টানা ১৫ দিন নেই। তাই পুরো সফর কসর পড়বেন।
সুবিধার্থে:
- কসর পড়বেন: যোহর, আসর, ইশা (২ রাকাত করে)।
- পূর্ণ পড়বেন: ফজর (২ রাকাত), মাগরিব (৩ রাকাত), সুন্নত ও নফল নামাজ যথারীতি।
- জামাতে কসর পড়া জায়েজ।
দলিল:
- রাসুলুল্লাহ (সা.) হজের সফরে মক্কায় ৪ দিন অবস্থান করে কসর পড়েছেন। (বুখারি: ১০৮১)
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন: "১৫ দিনের কম অবস্থানের ইচ্ছা করলে মুসাফির গণ্য হবে।" (শারহ মাআনি আল-আসার, ১/২৫৮)
আল্লাহ তাআলা আপনার হজ কবুল করুন।