ইহরাম বাঁধা অবস্থায় হাত মুজা ও পা মুজা পরিধান করার বিধান কি?
Hajj and Umrah · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
ইহরাম অবস্থায় নারীদের জন্য হাত মুজা (গ্লাভস) পরিধান করা নাজায়েজ। তবে পা মুজা (মোজা) পরিধান করা জায়েজ। হাত মুজা পরিধান করলে দম (কুরবানী) ওয়াজিব হবে, আর পা মুজা পরিধান করলে কোনো দম ওয়াজিব হবে না। নিচে বিস্তারিত দলিল ও হানাফি কিতাবের উল্লেখ দেওয়া হলো।
১. হাত মুজা (গ্লাভস) পরিধানের বিধান
নিষেধাজ্ঞা:
ইহরাম অবস্থায় নারীদের জন্য হাত মুজা (আরবি: قفازان - কাফাযান) পরিধান করা হারাম। এটি ইহরামের নিষিদ্ধ কাজগুলোর অন্তর্ভুক্ত। হাত মুজা মানে এমন আবরণ যা আলাদাভাবে আঙুল ও হাতকে ঢেকে রাখে। নারীরা ইহরাম অবস্থায় নিজেদের হাত যমযমের কাপড় বা অন্য কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে পারেন, কিন্তু আলাদা গ্লাভস পরতে পারবেন না।
দলিল:
-
ফাতাওয়া আলমগীরি (হানাফি):
"وَيَحْرُمُ عَلَى الْمَرْأَةِ أَنْ تَلْبَسَ الْقُفَّازَيْنِ وَأَنْ تُغَطِّيَ وَجْهَهَا"
(নারীদের জন্য হাত মুজা পরিধান করা এবং মুখ ঢাকা হারাম।)
(আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, ১/২২৬) -
রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদিন):
"يَحْرُمُ عَلَى الْمَرْأَةِ لُبْسُ الْقُفَّازَيْنِ وَالنِّقَابِ"
(নারীদের জন্য গ্লাভস ও নিকাব পরা হারাম।)
(রদ্দুল মুহতার, ২/৪৭৮) -
আহকামে যিয়ারাতে হাজ (মুফতি তাকি উসমানি):
"নারীরা ইহরাম অবস্থায় হাত মুজা (গ্লাভস) পরতে পারবে না। তবে নিজের কাপড় দিয়ে হাত ঢেকে রাখতে পারবে।"
(আহকামে যিয়ারাতে হাজ, পৃষ্ঠা ১২৮)
দম (কুরবানী) ওয়াজিব হওয়ার শর্ত:
- যদি কেউ বিনা ওজরে (যথেষ্ট কারণ ছাড়া) হাত মুজা পরিধান করে, তাহলে তার ওপর একটি দম (ছাগল বা ভেড়া কুরবানী) ওয়াজিব হবে।
- যদি প্রয়োজনে (যেমন: প্রচণ্ড ঠান্ডা বা অসুস্থতা) পরিধান করে, তাহলেও দম ওয়াজিব হবে, তবে ইচ্ছাকৃতভাবে না পরার জন্য দমের বিকল্প হিসেবে তিন দিন সিয়াম বা ছয়জন মিসকিনকে খাবার দেওয়াও জায়েজ (হানাফি মতে দমই মূল)।
দ্রষ্টব্য:
হাত মুজা পরিধান করলে দম ওয়াজিব হবে কিনা তা নির্ভর করে সময়কাল ও ইচ্ছাকৃত বা প্রয়োজন-এর ওপর। সাধারণত দিনের অর্ধেক বা তার বেশি সময় পরিধান করলে দম ওয়াজিব হয়। তবে অধিকাংশ হানাফি ফকিহের মতে, সামান্য সময়ের জন্যও যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পরেন, তাহলে দম ওয়াজিব।
২. পা মুজা (মোজা) পরিধানের বিধান
জায়েজ:
ইহরাম অবস্থায় নারীদের জন্য পা মুজা (মোজা বা সক্স) পরিধান করা জায়েজ। কারণ নারীদের জন্য ইহরামের বিশেষ পোশাকের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তারা সাধারণ সেলাইযুক্ত কাপড় পরতে পারেন, এবং পা ঢেকে রাখার জন্য মোজা ব্যবহার করতে পারেন। এতে কোনো অপছন্দনীয়তা নেই।
দলিল:
-
বেহেশতি জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভি):
"নারীরা ইহরাম অবস্থায় আঁটসাঁট কাপড়, মোজা, জুতো ইত্যাদি পরতে পারে। তবে হাত মুজা ও নিকাব নিষিদ্ধ।"
(বেহেশতি জেওর, হজ অধ্যায়) -
ইমদাদুল ফাতাওয়া (মাওলানা আশরাফ আলী থানভি):
"নারীরা ইহরামে পায়ে মোজা পরতে পারে, কারণ এতে ইহরামের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।"
(ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৩৭২) -
ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি):
"মহিলারা ইহরাম অবস্থায় মোজা পরিধান করতে পারবেন। এটি নিষিদ্ধ নয়।"
(ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪৭)
কোনো দম নেই:
পা মুজা পরিধান করলে কোনো প্রকার দম বা ফিদইয়া ওয়াজিব হবে না। তবে উত্তম হলো যদি মোজা খুব বেশি আঁটসাঁট না হয় এবং ইহরামের কাপড়ের সাথে মিল থাকে।
সারসংক্ষেপ ও ফতোয়া:
| বিষয় | বিধান | দম (কুরবানী) |
|------|-------|--------------|
| হাত মুজা (গ্লাভস) | নাজায়েজ (হারাম) | ওয়াজিব (যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পরা হয়) |
| পা মুজা (মোজা) | জায়েজ | কোনো দম নয় |
আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- নারীরা ইহরামে নিজের কাপড় দিয়ে হাত ঢেকে রাখতে পারেন, কিন্তু গ্লাভস পরতে পারবেন না।
- পা মুজা পরার সময় হিল বা পায়ের গোড়ালি খোলা রাখার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
- কোনো সুন্নত বা আদবের খাতিরে পা মুজা না পরাই উত্তম হতে পারে, তবে এটি জায়েজ।
সতর্কতা:
ইহরামের পবিত্রতা রক্ষার্থে যেসব কাজ নিষিদ্ধ, সেগুলো থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। হাত মুজা পরিধান করলে দম ওয়াজিব হওয়ার পাশাপাশি ইহরামের ভঙ্গ হবে না, তবে গুনাহ হবে।