সূর্যোদয়ের আগে কাযা নামাজ পড়ার বিধান কি?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 5845
Questioner: Md. Ashrafuzzaman Bhuiyan
Question Asked: 23 Sep 2026, 05:57 AM
Reviewed & Published: 23 Sep 2026, 06:09 AM
Views: 12
Tokens: 4,066
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

এশার নামাজ কাযা হয় গেলে এরপরের ফজর নামাজ মনে পড়ল। ফজরের সুন্নত ও ফরয পড়ার পর কিছু সময় থাকে সূর্যদয়ের। এই সময় কি আগের রাতের এশার কাযা নামায পড়া যাবে? সব মাজহাব অনুসারে ব্যাখ্যা দাও।

Answer

সূর্যোদয়ের আগে এশার কাযা নামাজ পড়া যাবে কি?

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

এশার নামাজ কাযা হয়ে গেছে। পরদিন ফজরের সুন্নত ও ফরয আদায়ের পর সূর্যোদয়ের আগে কিছু সময় বাকি আছে। এই সময়ে কি আগের রাতের এশার কাযা নামাজ পড়া যাবে? চার মাযহাবের দলিলসহ ব্যাখ্যা।


হানাফি মাযহাব (প্রধান আলোচনা)

মূলনীতি: মাকরূহ ওয়াক্তে কাযা নামাজ

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, তিনটি মাকরূহ ওয়াক্তে কাযা নামাজ পড়া জায়েয নয়:

  1. সূর্যোদয়ের সময় (সূর্যের প্রান্ত উদিত হওয়া থেকে সম্পূর্ণ উদিত হওয়া পর্যন্ত)
  2. সূর্য ঠিক মাথার উপর থাকার সময় (ইসতিওয়া/যাওয়াল)
  3. সূর্যাস্তের সময় (সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করা থেকে সম্পূর্ণ অস্ত যাওয়া পর্যন্ত)

দলিল: উকবা ইবনে আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ তিনটি সময়ে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন: সূর্যোদয়ের সময়, সূর্য ঠিক মাথার উপর থাকার সময়, এবং সূর্যাস্তের সময়। — সহীহ মুসলিম, হাদিস ৮৩১; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১২৭৬

ফজরের পর সূর্যোদয়ের আগের সময়ের হুকুম

হানাফি ফিকহের সিদ্ধান্ত:

  • ফজরের ফরয নামাজ আদায়ের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ে নফল নামাজ পড়া মাকরূহ। তবে কাযা নামাজ, সিজদায়ে তিলাওয়াত ও জানাজার নামাজ পড়া জায়েয।
  • সূর্যোদয় শুরু হওয়ার পর (সূর্যের প্রান্ত দিগন্তে দেখা দেওয়ার পর) কোনো নামাজই পড়া যাবে না — এমনকি কাযা নামাজও নয় — যতক্ষণ না সূর্য সম্পূর্ণ উদিত হয়ে প্রায় ১৫-২০ মিনিট অতিক্রান্ত হয়।

দলিল: ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন। — সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১২৭৫

হানাফি মাযহাবের চূড়ান্ত ফতোয়া

ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহঃ)-এর ঐকমত্য:

  • ফজরের ফরযের পর থেকে সূর্যোদয় শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত — এশার কাযা নামাজ পড়া জায়েয
  • সূর্যোদয় শুরু হয়ে যাওয়ার পর — কাযা নামাজ পড়া জায়েয নয় (মাকরূহ তাহরিমি)।
  • তবে যদি কেউ ভুলে বা বাধ্য হয়ে পড়ে ফেলে, তাহলে নামাজ সহীহ হবে কিন্তু গুনাহ হবে।

রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), খণ্ড ১, পৃ. ৩৭৪-৩৭৫
  • ফতোয়ায়ে আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৫২
  • আল-হিদায়া, খণ্ড ১, পৃ. ৫০
  • ফতোয়ায়ে উসমানি, খণ্ড ১, পৃ. ২৮৯
  • ইমদাদুল ফতোয়া, খণ্ড ১, পৃ. ৩৯৫

ইমাম তাহাবি (রহঃ) বলেন: "ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত কাযা নামাজ পড়া জায়েয, কারণ নিষেধাজ্ঞা শুধু নফল নামাজের জন্য।" — শরহু মাআনিল আসার, খণ্ড ১, পৃ. ২৮৭

★সুতরাং ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত কাযা নামাজ পড়া জায়েয। তবে আপনি যদি সাহেবে তারতিব হন,তথা আপনার জীবনে যদি ৫ ওয়াক্তের বেশি অনাদায়ী কাজা নামাজ না থাকে,সেক্ষেত্রে ফজরের আগেই আপনাকে ইশা ও বিতর এর নামাজের কাজা আদায় করতে হবে। এটি আপনার জন্য আবশ্যক।

শাফেঈ মাযহাব

শাফেঈ মাযহাব অনুযায়ী:

  • ফজরের ফরযের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত নফল নামাজ মাকরূহ
  • তবে কাযা নামাজ পড়া জায়েয — এমনকি সূর্যোদয়ের সময়েও কাযা নামাজ পড়া জায়েয (তবে মাকরূহ)।
  • শাফেঈ মাযহাবে সূর্যোদয়, ইসতিওয়া ও সূর্যাস্তের সময় কাযা নামাজ পড়া জায়েয কিন্তু নফল নামাজ মাকরূহ

দলিল: আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "যে ব্যক্তি নামাজ পড়তে ভুলে যায় বা ঘুমিয়ে পড়ে, তার কাফফারা হলো যখন স্মরণ হবে তখনই পড়ে নেওয়া।" — সহীহ বুখারি, হাদিস ৫৯৭; সহীহ মুসলিম, হাদিস ৬৮৪

রেফারেন্স: মুগনিল মুহতাজ, খণ্ড ১, পৃ. ৩৮৯; আল-মাজমু, খণ্ড ৩, পৃ. ৬৭


মালিকি মাযহাব

মালিকি মাযহাব অনুযায়ী:

  • ফজরের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত নফল নামাজ মাকরূহ
  • কাযা নামাজ পড়া জায়েয — সূর্যোদয়ের সময়েও।
  • মালিকি মাযহাবে তিন মাকরূহ ওয়াক্তে কাযা নামাজ জায়েয, শুধু নফল মাকরূহ।

রেফারেন্স: আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা, খণ্ড ১, পৃ. ১৭৫; হাশিয়াতুদ দাসুকি, খণ্ড ১, পৃ. ১৮৩


হাম্বলি মাযহাব

হাম্বলি মাযহাব অনুযায়ী:

  • ফজরের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত নফল নামাজ মাকরূহ
  • কাযা নামাজ পড়া জায়েয — এমনকি সূর্যোদয়ের সময়েও।
  • ইমাম আহমদ (রহঃ) বলেন: "কাযা নামাজ সব সময় পড়া যায়, কারণ এটি ওয়াজিব।"

রেফারেন্স: আল-মুগনি, খণ্ড ১, পৃ. ৪২৭; কাশশাফুল কিনা, খণ্ড ১, পৃ. ২৪৭


চার মাযহাবের তুলনামূলক সারণি

| বিষয় | হানাফি | শাফেঈ | মালিকি | হাম্বলি | |------|--------|--------|--------|---------| | ফজরের পর সূর্যোদয়ের আগে কাযা | জায়েয | জায়েয | জায়েয | জায়েয | | সূর্যোদয়ের সময় কাযা | জায়েয নয় | জায়েয (মাকরূহ) | জায়েয | জায়েয | | ফজরের পর নফল | মাকরূহ | মাকরূহ | মাকরূহ | মাকরূহ |


ব্যবহারিক সমাধান (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী)

আপনার প্রশ্নের পরিস্থিতিতে:

  1. যদি সূর্যোদয় শুরু না হয়ে থাকে — অর্থাৎ সূর্যের প্রান্ত দিগন্তে এখনো দেখা যায়নি — তাহলে এশার কাযা নামাজ পড়ে নিন। এটি জায়েয ও ওয়াজিব।

  2. যদি সূর্যোদয় শুরু হয়ে যায় — অর্থাৎ সূর্যের প্রান্ত দিগন্তে দেখা যাচ্ছে — তাহলে এখন পড়বেন না। সূর্য সম্পূর্ণ উদিত হওয়ার পর প্রায় ১৫-২০ মিনিট (ইসফিরার ওয়াক্ত) অতিক্রান্ত হলে পড়ে নিন।

  3. সর্বোত্তম পদ্ধতি: ফজরের ফরযের পরপরই এশার কাযা পড়ে নেওয়া, যাতে সূর্যোদয়ের আগেই শেষ হয়ে যায়।

  4. ভবিষ্যতে: এশার নামাজ সময়মতো আদায় করার চেষ্টা করুন। কাযা হলে দ্রুত আদায় করুন।

মুফতি তাকি উসমানি (দাঃবাঃ) বলেন: "ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত কাযা নামাজ পড়া জায়েয। তবে সূর্যোদয়ের সময় কোনো নামাজ পড়া যাবে না।" — ফতোয়ায়ে উসমানি, খণ্ড ১, পৃ. ২৮৯


★সুতরাং ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত কাযা নামাজ পড়া জায়েয। তবে আপনি যদি সাহেবে তারতিব হন,তথা আপনার জীবনে যদি ৫ ওয়াক্তের বেশি অনাদায়ী কাজা নামাজ না থাকে,সেক্ষেত্রে ফজরের আগেই আপনাকে ইশা ও বিতর এর নামাজের কাজা আদায় করতে হবে। এটি আপনার জন্য আবশ্যক।

উপসংহার

  • সূর্যোদয় শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত এশার কাযা নামাজ পড়া চার মাযহাবেই জায়েয
  • সূর্যোদয় শুরু হওয়ার পর হানাফি মাযহাবে কাযা নামাজ জায়েয নয়; অন্য তিন মাযহাবে জায়েয তবে মাকরূহ।
  • হানাফি মাযহাব অনুসরণকারীদের জন্য করণীয়: সূর্যোদয়ের আগেই এশার কাযা পড়ে নিন; সূর্যোদয় শুরু হলে অপেক্ষা করুন সূর্য সম্পূর্ণ উদিত হওয়ার পর।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.