ওজু করার পর নন-মাহরামকে দেখা বা কেউ ফেইস দেখে ফেললে ওজু ভাঙে কি না?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 5835
Questioner: Sabikunnahar Sumaiya
Question Asked: 22 Sep 2026, 09:47 PM
Reviewed & Published: 22 Sep 2026, 09:58 PM
Views: 11
Tokens: 2,934
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ওজু করার পর নন মাহরাম কারো সাথে দেখা হয়ে গেলে বা কেউ ফেইস দেখে ফেললে তাহলে কি ওজু ভেঙে যাবে?পুনরায় ওজু করা লাগবে?

Answer

ওজু করার পর নন-মাহরামকে দেখা বা কেউ ফেইস দেখে ফেললে ওজু ভাঙবে কি?

সংক্ষিপ্ত উত্তর: না, নন-মাহরাম পুরুষ/মহিলাকে দেখা বা কেউ আপনার ফেইস দেখে ফেললে ওজু ভাঙে না। পুনরায় ওজু করা লাগবে না। তবে দৃষ্টি সংযত না রাখা গুনাহের কারণ হবে।


বিস্তারিত আলোচনা

১. ওজু ভঙ্গের কারণসমূহ (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী)

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী ওজু ভঙ্গের আসল কারণগুলো হলো:

  1. পেশাব-পায়খানা বা বায়ু নির্গত হওয়া
  2. শরীরের কোনো স্থান থেকে রক্ত, পুঁজ বা পানি প্রবাহিত হয়ে গড়িয়ে পড়া
  3. মুখ ভরে বমি হওয়া
  4. চিত হয়ে বা ভর দিয়ে ঘুমানো
  5. বেহুঁশ হওয়া বা পাগল হয়ে যাওয়া
  6. নামাজে কানাকানি করা (কিছু ফুকাহার মতে)
  7. স্ত্রী-স্বামীর মিলন বা স্পর্শ (কিছু অবস্থায়)

নন-মাহরামকে দেখা বা কারো দৃষ্টিতে পড়া — এগুলো উপরোক্ত কোনো কারণের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই এতে ওজু ভাঙে না।

দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন— «لَا وُضُوءَ إِلَّا مِنْ حَدَثٍ» "হাদাস (ওজু ভঙ্গের কারণ) ছাড়া ওজু ওয়াজিব হয় না।" — সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৬০; সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৭৫

২. হানাফি কিতাবের বক্তব্য

আল-হিদায়ারাদ্দুল মুহতার-এ ওজু ভঙ্গের কারণগুলো সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ স্পষ্ট করেছেন যে, শুধু দেখা বা দৃষ্টিতে পড়া ওজু ভঙ্গের কারণ নয়।

ফাতাওয়া আলমগিরি-তেও ওজু ভঙ্গের কারণ হিসেবে কেবল হাদাস (শারীরিক নাপাকি) ও নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের কথা এসেছে — দৃষ্টি বা দেখা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

৩. তবে সতর্কতা ও গুনাহের বিষয়

যদিও ওজু ভাঙে না, তবে:

  • নন-মাহরামের দিকে কামভাব নিয়ে তাকানো হারাম এবং গুনাহ।

  • কুরআনে আল্লাহ বলেন:

    «قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ» "মুমিনদের বলুন, তারা তাদের দৃষ্টি সংযত রাখুক।" — সূরা আন-নূর: ৩০

  • মা'আরিফুল কুরআন-এ মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) বলেন, দৃষ্টি সংযত রাখা ঈমানের হেফাজতের জন্য অপরিহার্য।

  • বাহিশতী জেওর-এ হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেছেন, বেগানা নারী/পুরুষের দিকে কামদৃষ্টিতে তাকানো থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

৪. যদি কেউ আপনার ফেইস দেখে ফেলে

এতে আপনার ওজুর কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ ওজু ভঙ্গ হয় নিজের শরীর থেকে হাদাস নির্গত হলে, অন্যের দেখা দ্বারা নয়।


উপসংহার

| বিষয় | হুকুম | |------|------| | নন-মাহরামকে দেখা | ওজু ভাঙে না | | কেউ ফেইস দেখে ফেলা | ওজু ভাঙে না | | পুনরায় ওজু করা | লাগবে না | | কামদৃষ্টিতে তাকানো | গুনাহ, তবে ওজু বহাল | | দৃষ্টি সংযত রাখা | ওয়াজিব/কর্তব্য |

পরামর্শ: ওজু বহাল থাকলেও দৃষ্টি সংযত রাখুন, কারণ এটি ইমান ও তাকওয়ার অংশ। কেউ ফেইস দেখে ফেললে লজ্জিত হবেন না বা অস্থির হবেন না — আপনার ওজু ঠিক আছে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


রেফারেন্স:

  • সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৬০
  • সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৭৫
  • আল-হিদায়া (মারগিনানি)
  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন)
  • ফাতাওয়া আলমগিরি
  • মা'আরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফি)
  • বেহেশতি জেওর (আশরাফ আলী থানভী)
  • ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.