স্বপ্নে মৃত ব্যক্তির আমল শেখানো

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5824
Questioner: Ayesha
Question Asked: 22 Sep 2026, 05:48 PM
Reviewed & Published: 22 Sep 2026, 06:36 PM
Views: 33
Tokens: 3,203
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

স্বপ্নে দেখলাম আমার মৃত নানু আমাকে একটি আমল শিখিয়ে দিচ্ছেন। আল্লাহর গুণবাচক নাম ইয়া মানিউ ১০০ বার পড়তে বললেন। এরপর একটা আয়াত বা কিছু একটা লেখা দেখলাম পুরোটা মনে নেই শুধু একটা শব্দ স্পষ্ট মনে আছে (ফাবাশশিরুন)। ইয়া মানিউ পড়তে বলার পরেই এই লেখাটি দেখলাম। এটার ব্যাখ্যা কি?

Answer

উত্তর

প্রশ্নে উল্লিখিত বিষয়টি অর্থাৎ মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখা এবং তার কাছ থেকে কোনো আমল শেখা—এটি সরাসরি শরীয়তের কোনো দলিল নয়। স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, সতর্কতা বা শয়তানের প্ররোচনাও হতে পারে। তাই স্বপ্নের ভিত্তিতে কোনো ইবাদত বা আমলকে শরীয়তের বিধান হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। ইবাদতের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো: কুরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করতে হবে, স্বপ্নের অনুসরণে নয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا “রাসূল (সা.) তোমাদের যা দিয়েছেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকো।” (সূরা হাশর: ৭)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ “যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করবে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।” (সহীহ বুখারী: ২৬৯৭, সহীহ মুসলিম: ১৭১৮)

ইয়া মানিউ নামটি সম্পর্কে:

“ইয়া মানিউ” (يَا مَانِعُ) আল্লাহর একটি গুণবাচক নাম, যার অর্থ “হে বাধাদানকারী, হে নিবারণকারী”। আল্লাহর নামসমূহ দ্বারা দুআ করা জায়েজ ও উত্তম। কুরআনে বলা হয়েছে:

وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا “আল্লাহর জন্য রয়েছে উত্তম নামসমূহ; সুতরাং তোমরা সেগুলো দ্বারা তাঁকে ডাকো।” (সূরা আরাফ: ১৮০)

তবে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা (যেমন ১০০ বার) বা নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি শরীয়ত প্রমাণিত না হলে তা আবশ্যক বা সুন্নত হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। নফল যিকির হিসেবে যে কেউ চাইলে “ইয়া মানিউ” পড়তে পারে, কিন্তু একে স্বপ্নের নির্দেশে আবশ্যক আমল মনে করা ঠিক নয়।

“ফাবাশশিরুন” শব্দটি সম্পর্কে:

“فَبَشِّرْ” (ফাবাশশির) শব্দটি কুরআনে একাধিক স্থানে এসেছে, যার অর্থ “সুতরাং সুসংবাদ দাও”। যেমন:

فَبَشِّرْ عِبَادِ الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ “সুতরাং সুসংবাদ দাও আমার সেই বান্দাদেরকে, যারা কথা শোনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে।” (সূরা যুমার: ১৭-১৮)

وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ “আর মুমিনদেরকে সুসংবাদ দাও।” (সূরা বাকারা: ২২৩)

স্বপ্নে শুধু একটি শব্দ স্পষ্ট মনে থাকা এবং বাকি অংশ অস্পষ্ট থাকা—এর দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট আমল বা বিধান প্রমাণিত হয় না। এটি সম্ভবত স্বপ্নের অস্পষ্টতা বা শয়তানের খেলাও হতে পারে।

সারসংক্ষেপ ও করণীয়:

১. স্বপ্নের ভিত্তিতে নতুন কোনো আমল বা ইবাদত চালু করা যাবে না।
২. “ইয়া মানিউ” আল্লাহর নাম; এটি দিয়ে দুআ করা বা যিকির করা জায়েজ, তবে ১০০ বার পড়াকে আবশ্যক বা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ মনে করা শরীয়তসম্মত নয়।
৩. “ফাবাশশিরুন” শব্দটি কুরআনের অংশ; এর অর্থ “সুতরাং সুসংবাদ দাও”। এটি নিয়ে বিশেষ কোনো আমল প্রমাণিত নেই।
৪. মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করা, ইস্তিগফার করা এবং সদকা করা উত্তম।
৫. স্বপ্নকে দ্বীনের দলিল মনে না করে কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা উচিত।
৬. বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, যিকির ও দরুদ পড়া যেতে পারে—এগুলো সবই শরীয়তসম্মত ইবাদত।

উত্তম পন্থা: আপনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করুন, কুরআন তিলাওয়াত করুন, আল্লাহর নামসমূহ দিয়ে দুআ করুন এবং আপনার নানুর জন্য দুআ ও ইস্তিগফার করুন। স্বপ্নে পাওয়া কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বা পদ্ধতিকে দ্বীনের অংশ বানাবেন না।

আরও জানতে: ফাতাওয়া উসমানী, ইমদাদুল ফাতাওয়া, রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), বাহিশতী জেওর—এসব কিতাবে স্বপ্ন ও যিকির সম্পর্কিত আলোচনা দ্রষ্টব্য।


আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.