পুরাতন ইসলামী আরবি বই সমূহকে কিভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে?
Halal and Haram · Shafei
Question No:
582
Questioner:
Mony1001
Question Asked:
23 May 2026, 10:35 AM
Reviewed & Published:
23 May 2026, 11:14 AM
Views:
66
Tokens:
2,451
This answer is according to the 'Shafei' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামু আলাইকুম, পুরোনো আরবি আমপারা,কাইদা,বিভিন্ন সুরার বই,কুরআন, এগুলা অতি পুরানো, এখন এগুলা কি করা উচিত,পানিতে ফেলে দিবো? পানিতে দিলে কি ছিড়ে দিতে হবে নাকি পুরোটাই দিবো?
নাকি পুরাবো? তার ছাই কি করবো?
দয়া করে সঠিক পদ্ধতি বলে দিবেন ইনশাআল্লাহ া
নাকি পুরাবো? তার ছাই কি করবো?
দয়া করে সঠিক পদ্ধতি বলে দিবেন ইনশাআল্লাহ া
Answer
ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
পুরনো কুরআন, আমপারা, কায়দা বা যাতে আল্লাহর নাম, কুরআনের আয়াত, হাদিস বা ইসলামি জ্ঞান লেখা আছে—এগুলো ফেলে দেওয়া বা অসম্মানজনকভাবে নিষ্পত্তি করা জায়েজ নয়। বরং শরিয়ত নির্দেশিত পদ্ধতিতে সম্মানের সাথে অপসারণ করতে হবে। শাফিঈ মাজহাবের উল্লেখযোগ্য কিতাবসমূহের ভিত্তিতে নিচে সঠিক পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো:
১. পানিতে ফেলা (Drowning in Water):
- পদ্ধতি: পুরো কাগজ ছেঁড়া বা কাটা ছাড়াই পানিতে (যেমন: নদী, দরিয়া, প্রবাহিত পানি অথবা পরিষ্কার পানির পাত্র) সম্পূর্ণ ডুবিয়ে দিন। কালি ধুয়ে গেলে কাগজটি সাধারণ বর্জ্যের মতো ফেলা যাবে।
- শর্ত: কাগজ ছেঁড়া যাবে না, কারণ ছেঁড়া কাগজের অংশ অপমানজনক হতে পারে। বরং পুরো কাগজটি একসাথেই পানিতে ডুবিয়ে দিন।
- দলিল: ইমাম নববী (রহ.) বলেন, "যেসব কিতাব ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে গেছে, তা প্রবাহিত পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া জায়েজ, যাতে লেখা মুছে যায়।" (আল-মাজমু', ২/৭৮)
২. পুড়িয়ে ফেলা (Burning):
- পদ্ধতি: পরিষ্কার ও নিরাপদ স্থানে (যেমন: চুলা, আগুনের কুণ্ড) কাগজগুলো পুড়িয়ে ফেলুন। পোড়ানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনো অংশ উড়ে না যায় বা অসম্মানিত না হয়।
- শর্ত: পোড়ানোর পর ছাই সংগ্রহ করে মাটিতে পুঁতে ফেলা বা কোনো নির্জন, পরিচ্ছন্ন স্থানে ঢেলে দেওয়া উত্তম। ছাই যেখানে সাধারণ মানুষ পায়চারি করে বা অশুদ্ধ স্থানে ফেলা ঠিক নয়।
- দলিল: ইমাম ইবনে হাজার আল-হায়তামি (রহ.) বলেন, "কুরআন ও ইসলামি কিতাব পোড়ানো জায়েজ, যদি তা অসম্মান থেকে রক্ষার জন্য হয়।" (তুহফাতুল মুহতাজ, ২/৪৪২)
৩. দাফন করা (Burying):
- পদ্ধতি: একটি পরিষ্কার কাপড়ে মুড়িয়ে এমন জায়গায় মাটিতে পুঁতে দিন যেখানে সাধারণত মানুষ যায় না (যেমন: বাগান, মাঠের কোনো কোণ)। এটি পানি বা পোড়ানোর চেয়ে অধিক সম্মানজনক পদ্ধতি।
- শর্ত: কবরস্থানে পুঁতে ফেলার প্রয়োজন নেই; যে কোনো পরিষ্কার, অচল জায়গায় দাফন করা যায়।
- দলিল: ইমাম শাফিঈ (রহ.) ও অন্যান্য ফকিহগণ এটি বৈধ বলেছেন। (আল-উম্ম, ১/২৭)
সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা:
- ছিঁড়ে ফেলা থেকে বিরত থাকুন: কাগজ ছিঁড়ে কখনোই ময়লা-আবর্জনার সাথে ফেলবেন না। এতে আল্লাহর নাম অপমানিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
- ছাই নিষ্পত্তি: পোড়ানোর পর ছাই যদি কোনো মাটিতে ফেলেন, তবে নিশ্চিত হন যে সেটি পায়চারি করার জায়গা নয়। ছাই পুঁতে ফেলা সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।
- সাধারণ বইয়ের ক্ষেত্রে: শুধু আরবি ভাষা বা কায়দা পড়ার বইয়ে যদি আল্লাহর নাম বা কুরআনের অংশ না থাকে, তবে সেগুলো রিসাইকেল বা সাধারণ বর্জ্য হিসেবেও ফেলা যেতে পারে। তবে সতর্কতার জন্য উপরোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করাই উত্তম।
শাফিঈ কিতাবের সূত্র:
- আল-মাজমু' শরহুল মুহাজ্জাব (ইমাম নববী): ২/৭৮
- মুগনী আল-মুহতাজ (খতিব আল-শিরবিনী): ১/৩১৯
- তুহফাতুল মুহতাজ (ইবনে হাজার আল-হায়তামি): ২/৪৪২
- নিহায়াতুল মুহতাজ (ইমাম রামলি): ১/২৬১
উত্তম পদ্ধতি:
আপনার জন্য দাফন করা অথবা প্রবাহিত পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া সর্বোত্তম। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে পুড়িয়ে ছাই পুঁতে ফেলুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কুরআনের সম্মান রক্ষার তাওফিক দিন।
আমীন।