মেয়েদের ক্ষেত্রে নাভীর নিচে পায়জামা পড়লে নামাজ হবে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5811
Questioner: Sharmin Islam
Question Asked: 22 Sep 2026, 02:23 PM
Reviewed & Published: 22 Sep 2026, 02:33 PM
Views: 29
Tokens: 3,861
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

মেয়েদের ক্ষেত্রে নাভীর নিচে পায়জামা পড়লে নামাজ হবে?

Answer

মেয়েদের ক্ষেত্রে নাভীর নিচে পায়জামা পড়লে নামাজ হবে?

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

মহিলাদের নামাজে সতর ঢাকার বিধান কী এবং পায়জামা নাভীর নিচে পড়লে নামাজ শুদ্ধ হবে কি না—এ বিষয়ে বিস্তারিত উত্তর নিচে দেওয়া হলো।


সংক্ষিপ্ত উত্তর

হ্যাঁ, নামাজ হবে। মহিলাদের জন্য পায়জামা বা পাজামা নাভীর নিচে পড়া নিজে থেকে নিষিদ্ধ নয়; বরং মহিলাদের সতরের সীমা ও পোশাকের বিধান পুরুষদের থেকে ভিন্ন। মহিলাদের ক্ষেত্রে নামাজে সতর হলো সম্পূর্ণ শরীর, মুখমণ্ডল, হাতের কব্জি ও পায়ের পাতা ছাড়া। সুতরাং যদি পায়জামা নাভীর নিচে থাকে কিন্তু উপরের কাপড় (কুর্তি/ওড়না/চাদর) দ্বারা নাভীসহ পুরো শরীর ঢাকা থাকে এবং শরীরের কোনো অঙ্গ প্রকাশ না পায়, তাহলে নামাজ শুদ্ধ হবে।

তবে শর্ত হলো: নামাজের মধ্যে শরীরের কোনো অংশ (বিশেষত নাভী, পেট, কোমর) অনাবৃত থাকা যাবে না। যদি পায়জামা নাভীর অনেক নিচে থাকে এবং উপরের কাপড় ছোট হয়, ফলে নাভী বা পেটের কোনো অংশ খোলা থাকে, তাহলে নামাজ হবে না।


বিস্তারিত আলোচনা

১. মহিলাদের সতরের সীমা

ফিকহে হানাফির মূল কিতাবসমূহে বর্ণিত আছে, মহিলাদের সতর হলো সম্পূর্ণ শরীর — শুধু মুখমণ্ডল, হাতের কব্জি পর্যন্ত এবং পায়ের পাতা (গোড়ালির নিচের অংশ) ছাড়া।

দলিল:

«المرأة كلها عورة إلا وجهها وكفيها وقدميها»

অর্থ: “নারী সম্পূর্ণই সতর, তবে তার মুখমণ্ডল, দুই হাতের কব্জি এবং দুই পা (পায়ের পাতা) ব্যতীত।”

আল-হিদায়া, কিতাবুস সালাত; রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), খণ্ড ১, পৃ. ৪০৫; ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৫৮।

হাদিস:

«المرأة عورة فإذا خرجت استقبلها الشيطان»

অর্থ: “নারী হলো সতর; যখন সে বের হয়, শয়তান তার দিকে তাকিয়ে থাকে।”

সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ১১৭৩ (হাসান সহিহ)।

২. নামাজে সতর ঢাকা ফরজ

নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য সতর ঢাকা ফরজ। কেউ যদি সতরের এক চতুর্থাংশ পরিমাণও অনাবৃত রেখে নামাজ পড়ে, তাহলে নামাজ হবে না।

দলিল:

«لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةَ حَائِضٍ إِلَّا بِخِمَارٍ»

অর্থ: “আল্লাহ তা‘আলা প্রাপ্তবয়স্কা নারীর নামাজ কবুল করেন না ওড়না (মাথা ঢাকার কাপড়) ছাড়া।”

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৬৪১; সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৩৭৭ (হাসান)।

ফিকহি বিধান:

«وشرط أداء الصلاة: طهارة الحدث... وستر العورة»

অর্থ: “নামাজ আদায়ের শর্ত হলো: অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা... এবং সতর ঢাকা।”

নুরুল ইদাহ, পৃ. ৫৪; মারাকিল ফালাহ, পৃ. ১৪২।

৩. পায়জামা নাভীর নিচে পড়া প্রসঙ্গে

মহিলাদের জন্য পায়জামা নাভীর উপরে বা নিচে থাকা—এটি নিজে থেকে নামাজ ভঙ্গের কারণ নয়। মূল বিষয় হলো সতর ঢাকা থাকা

  • যদি পায়জামা নাভীর নিচে থাকে, কিন্তু উপরের কাপড়/কুর্তি/ওড়না দ্বারা নাভী ও পেট ঢাকা থাকে → নামাজ শুদ্ধ।
  • যদি পায়জামা নাভীর নিচে থাকে এবং উপরের কাপড় ছোট হওয়ার কারণে নাভী বা পেটের কোনো অংশ খোলা থাকে → নামাজ শুদ্ধ হবে না।

ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন:

«والمراد بالستر: أن لا يظهر شيء من العورة»

অর্থ: “সতর ঢাকা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—সতরের কোনো অংশ প্রকাশ না পাওয়া।”

রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ৪০৮।

৪. মহিলাদের পোশাকের আদর্শ

মহিলাদের নামাজে আদর্শ পোশাক হলো:

  1. মাথা ও চুল ঢাকা — ওড়না/হিজাব দ্বারা।
  2. সম্পূর্ণ শরীর ঢাকা — লম্বা কুর্তি/চাদর/বোরকা দ্বারা।
  3. পায়ের পাতা পর্যন্ত ঢাকা — পায়জামা বা লম্বা কাপড় দ্বারা।
  4. কাপড় এত পাতলা না হওয়া — যাতে ভেতরের অঙ্গের রং বা আকার প্রকাশ না পায়।

হাদিস:

«صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ: لَا تُصَلِّي الْمَرْأَةُ إِذَا حَاضَتْ إِلَّا فِي دِرْعٍ وَخِمَارٍ»

অর্থ: “রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের নিয়ে নামাজ পড়লেন এবং বললেন: প্রাপ্তবয়স্কা নারী যেন জামা ও ওড়না ছাড়া নামাজ না পড়ে।”

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৬৪০।

৫. বিশেষ সতর্কতা

  • পাতলা বা টাইট পোশাক: যদি পায়জামা এত পাতলা বা টাইট হয় যে পায়ের আকার বা রং বোঝা যায়, তাহলে সতর ঢাকা হবে না এবং নামাজ হবে না।
  • উপরের কাপড় ছোট হলে: অনেক সময় মেয়েরা ছোট কুর্তি পড়ে এবং পায়জামা নাভীর নিচে থাকে, ফলে ঝুঁকতে-বসতে নাভী বা পেট প্রকাশ পায়। এ অবস্থায় নামাজ ভঙ্গ হয়ে যাবে।
  • সমাধান: লম্বা কুর্তি/চাদর ব্যবহার করা উচিত, যা নাভীর নিচ পর্যন্ত ঢেকে রাখে।

ফাতাওয়া ও উদ্ধৃতি

ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি):

মহিলাদের সতর হলো মুখমণ্ডল, হাতের কব্জি ও পায়ের পাতা ছাড়া সম্পূর্ণ শরীর। নামাজে এই সতর ঢাকা ফরজ। পায়জামা নাভীর নিচে থাকলে যদি উপরের কাপড় দ্বারা নাভী ঢাকা থাকে, নামাজ শুদ্ধ হবে।

ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃ. ২৮৭ (সতর অধ্যায়)।

ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী):

عورت کا ستر ناف سے نیچے پاجامہ پہننے سے متعلق نہیں، بلکہ ستر ڈھانپنا شرط ہے۔ اگر اوپر کا کپڑا ناف تک ڈھانپ دے تو نماز درست ہے۔

ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ১, পৃ. ৩৯২।

বাহিশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী):

عورت کے لیے نماز میں تمام بدن ڈھانپنا ضروری ہے، سوائے چہرہ، ہاتھ کی کلائی اور پاؤں کے۔ اگر پاجامہ ناف سے نیچے ہو مگر اوپر کا کپڑا ناف ڈھانپ دے تو نماز ہو جائے گی۔

বাহিশতী জেওর, নামাজ অধ্যায়, পৃ. ৭৮।


উপসংহার

| বিষয় | বিধান | |------|------| | মহিলাদের সতর | মুখ, কব্জি, পায়ের পাতা ছাড়া সম্পূর্ণ শরীর | | পায়জামা নাভীর নিচে পড়া | নিজে থেকে নিষিদ্ধ নয় | | নামাজ শুদ্ধ হওয়ার শর্ত | সতরের কোনো অংশ অনাবৃত না থাকা | | নাভী ঢাকা থাকলে | নামাজ শুদ্ধ | | নাভী/পেট খোলা থাকলে | নামাজ শুদ্ধ নয় | | করণীয় | লম্বা কুর্তি/চাদর ব্যবহার করা |

সারকথা: মেয়েদের ক্ষেত্রে পায়জামা নাভীর নিচে পড়লে নামাজ হবে, শর্ত হলো উপরের কাপড় দ্বারা নাভীসহ সম্পূর্ণ সতর ঢাকা থাকতে হবে। যদি কোনো অংশ অনাবৃত থাকে, নামাজ হবে না। তাই সতর্কতা হিসেবে লম্বা কুর্তি বা চাদর ব্যবহার করা উত্তম।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.