ইমান নিয়ে ওয়াসওয়াসাঃ করণীয় কি?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
২।গোনাহ বা মাকরুহ কথা বা কাজ নিয়ত করলে, গোনাহের কথা বা কাজ করতে গেলে
শাতিমে রাসুল সাঃ নিশ্চিত না বা নিশ্চিত। ইমান চলে যাবে অথবা ইসলামের বিরুদ্ধে শিওর বা শিওর না এই সম্পর্কে জানি অথবা জানিনা এরকম বিষয় মনে বা ভিতরে আসা কি ওসওয়াসার কারনে আসলে কি ইমান চলে যাবে?
Answer
উত্তর প্রদানে কর্তৃক:
প্রশ্ন:
১. আমি যদি বলি, "দরকার হলে গুনাহ/মাকরুহ করব না, তারপর শাতিম (শাতিমে রাসূল ﷺ) হব না, অর্থাৎ এমন কথা বা কাজ করব না যা ইমান চলে যায়।" এরপরেও যদি গুনাহ করি, তাহলে কি ইমান চলে যাবে?
২. গুনাহ বা মাকরুহ কথা বা কাজের নিয়ত করলে, বা তা করতে গেলে যদি ‘শাতিমে রাসূল হওয়া নিশ্চিত না’ বা ‘ইমান চলে যাওয়া নিশ্চিত না’—এমন বিষয়ে মনে ওয়াসওয়াসা আসে, তাহলে কি ইমান চলে যাবে?
উত্তর:
প্রথম প্রশ্ন: আপনি যেহেতু স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে, আপনি এমন কাজ করবেন না যা শাতিমে রাসূল ﷺ হওয়ার কারণ বা ইমান চলে যাওয়ার কারণ। অর্থাৎ আপনি শুধুমাত্র সাধারণ গুনাহ (যা কুফরি নয়) করার ইচ্ছা পোষণ করছেন। সাধারণ গুনাহ (যেমন মিথ্যা, গীবত, ছোটখাট অপরাধ) করলে ইমান চলে যায় না; বরং এসব গুনাহের জন্য তওবা করতে হবে। তবে হ্যাঁ, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কাজ করে যা কুফরি (যেমন রাসূল ﷺ-কে গালি দেওয়া, কুরআন মানতে অস্বীকার করা) তাহলে ইমান চলে যাবে। যেহেতু আপনি নিজেকে শাতিমে রাসূল হওয়া থেকে বিরত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাই সাধারণ গুনাহ করলে আপনার ইমান অক্ষত থাকবে, তবে গুনাহের জন্য তওবা ও ইস্তিগফার আবশ্যক।
দ্বিতীয় প্রশ্ন:
গুনাহ বা মাকরুহ কাজের নিয়ত করা মাত্রই ইমান চলে যায় না; কারণ নিয়তকে কাজের সমতুল্য ধরা হয় না (হাদিস: "নিয়ত করলে পুণ্য হয়, কিন্তু গুনাহ নিয়ত করলে তা লেখা হয় না যতক্ষণ না তা করা হয়" - সহিহ মুসলিম)। আর ওয়াসওয়াসা (মনের অবিরাম খারাপ চিন্তা) সম্পূর্ণ ক্ষমার্হ। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন: "ওয়াসওয়াসা ইমানের বিপরীত নয়, বরং তা শয়তানের প্ররোচনা।" (মাজমুউল ফাতাওয়া, ১৬/১৫৩)
তবে যদি কেউ স্পষ্টভাবে কুফরি কথা বলার ইচ্ছা করে এবং তা মুখে উচ্চারণ করে, তাহলে ইমান চলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। কিন্তু শুধু মনে ওয়াসওয়াসা আসা বা ‘নিশ্চিত না থাকা’ অবস্থায় কিছু করলে ইমান চলে যায় না।
হানাফি ফিকহের নির্দেশনা:
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন: "গুনাহ করলে ইমান যায় না, বরং তা ফাসিকের পর্যায়ে নিয়ে যায়, কিন্তু মুসলিম থাকেন।" (ফিকহুল আকবার)
- ইবনে আবেদিন (রহ.) বলেন: "যে ব্যক্তি ওয়াসওয়াসার কারণে কুফরি শব্দ উচ্চারণ করে, সে যদি তা অপছন্দ করে তবে তার ইমান নষ্ট হয় না।" (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৮৬)
- ফাতাওয়া আলমগিরীতে উল্লেখ আছে: "সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কুফরি কথা বললে যদি অন্তর তা অস্বীকার করে, তাহলে সে মুসলিম।" (ফাতাওয়া আলমগিরী, ২/২৫৫)
সারাংশ:
১. সাধারণ গুনাহ করলে ইমান চলে যায় না, তবে তওবা করতে হবে।
২. নিয়ত করার সাথে সাথে ইমান চলে যায় না।
৩. ওয়াসওয়াসার কারণে মনে আসা খারাপ চিন্তা বা সন্দেহ ইমানের ক্ষতি করে না, যদি অন্তর তা অপছন্দ করে।
৪. কুফরি কাজ বা কথা নিশ্চিতভাবে করতে গেলে এবং তা অন্তর থেকে কবুল করলে ইমান চলে যেতে পারে।
আল্লাহই অধিক জানেন।
উত্তর প্রদানে:
(নাম উল্লেখ না থাকায় সাধারণভাবে)
উৎস:
- কুরআন: "আল্লাহ তোমাদের ওয়াসওয়াসার জন্য পাকড়াও করবেন না, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে করা নিয়তের জন্য পাকড়াও করবেন।" (সূরা বাকারা: ২২৫)
- হাদিস: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের মনের ওয়াসওয়াসা (অনিচ্ছাকৃত চিন্তা) ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তা কাজে পরিণত হয়।" (সহিহ বুখারি, ২৫২৮)
- রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৮৬
- ফাতাওয়া আলমগিরী: ২/২৫৫