মুসাফির ১৪.৫ দিন এক স্থানে থাকলে কসর করবে কি?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 5768
Questioner: Sabikun 0143
Question Asked: 21 Sep 2026, 04:16 PM
Reviewed & Published: 21 Sep 2026, 05:29 PM
Views: 23
Tokens: 3,513
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

একজায়গায় এসেছি মুসাফিরের দুরত্বে। এখন একজায়গায় ১৪.৫ দিন থাকবো তার পর কাছেই অন্য জায়গায় এক মাসের জন্য থাকতে যাবো।প্রথমে যেই জায়গায় ১৪.৫ দিন আছি সেখানে কি কসর করবো সালাত?

Answer

মুসাফিরের নামাজ: ১৪.৫ দিন অবস্থানের বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী মুসাফিরের দূরত্ব (প্রায় ৪৮ মাইল/৭৭ কিমি) অতিক্রম করে এক স্থানে এসেছেন। সেখানে ১৪.৫ দিন থাকবেন, এরপর কাছেই অন্য স্থানে এক মাস থাকবেন। জানতে চেয়েছেন—প্রথম স্থানে (১৪.৫ দিন) অবস্থানকালে কসর করবেন কি?


সংক্ষিপ্ত উত্তর

প্রথম স্থান যদি আপনার স্থায়ী বাসা না হয়ে থাকে,সেক্ষেত্রে সেখানে ১৪.৫ দিন অবস্থানকালেও আপনি মুসাফির হিসেবে গণ্য হবেন এবং কসর করবেন।

কারণ: হানাফি মাযহাবে মুসাফির হওয়ার শর্ত হলো—কোনো এক স্থানে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিশ্চিত ইরাদা (সংকল্প) না করা। যেহেতু আপনি ১৪.৫ দিন থাকবেন (১৫ দিন পূর্ণ নয়), তাই আপনি মুসাফির থাকবেন এবং প্রত্যেক ফরজ নামাজ ৪ রাকাতের বদলে ২ রাকাত আদায় করবেন।


বিস্তারিত দলিল ও ব্যাখ্যা

১. মুসাফিরের সংজ্ঞা ও কসরের হুকুম

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ

"আর যখন তোমরা জমিনে সফর করো, তখন নামাজ সংক্ষিপ্ত (কসর) করাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই।"

সূরা আন-নিসা: ১০১

২. মুকীম (স্থায়ী) হওয়ার শর্ত: ১৫ দিনের ইরাদা

হানাফি মাযহাবের মূলনীতি হলো:

إِذَا نَوَى الْمُسَافِرُ الْإِقَامَةَ فِي بَلْدَةٍ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا أَوْ أَكْثَرَ صَارَ مُقِيمًا، وَإِنْ نَوَى أَقَلَّ مِنْ ذَلِكَ بَقِيَ مُسَافِرًا

"মুসাফির যদি কোনো শহরে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত করে, তবে সে মুকীম হয়ে যাবে; আর যদি ১৫ দিনের কম নিয়ত করে, তবে সে মুসাফিরই থাকবে।"

রেফারেন্স:

  • আল-হিদায়া (মারগিনানি) — কিতাবুস সালাত, বাবুল কসর
  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন) — খণ্ড ২, কসরের আলোচনা
  • ফাতাওয়া আলমগিরি — কিতাবুস সালাত
  • বাদায়েউস সানায়ে (কাসানি) — খণ্ড ১

৩. ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, ১৫ দিন হলো মুকীম হওয়ার সীমা। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-ও এই মতের সমর্থন করেছেন। দলিল হিসেবে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) ও ইবনে ওমর (রা.)-এর বর্ণনা রয়েছে।

৪. আপনার ক্ষেত্রে প্রয়োগ

| বিষয় | বিবরণ | |------|--------| | প্রথম স্থানে অবস্থান | ১৪.৫ দিন | | ১৫ দিন পূর্ণ? | না | | ফলাফল | মুসাফির থাকবেন | | নামাজ | কসর (৪→২ রাকাত) |

যেহেতু ১৪.৫ দিন ১৫ দিনের চেয়ে কম, তাই আপনি মুকীম হবেন না। সুতরাং প্রথম স্থানে অবস্থানকালে যোহর, আসর ও ইশা—এই তিন ওয়াক্তের ফরজ ৪ রাকাতের পরিবর্তে ২ রাকাত পড়বেন। ফজর ও মাগরিবে কোনো পরিবর্তন নেই।

৫. দ্বিতীয় স্থানে (এক মাস) অবস্থান

দ্বিতীয় স্থান এক মাস থাকার নিয়ত করলে সেখানে আপনি মুকীম হয়ে যাবেন এবং পূর্ণ নামাজ (৪ রাকাত) আদায় করবেন। তবে সেখানে পৌঁছার পর থেকে মুকীম হওয়ার হুকুম কার্যকর হবে।

নোট: যদি দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছে সেখানে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত করেন, তবে সেখানে কসর করবেন না।

১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করলে সেক্ষেত্রে সেটি যদি আপনার স্থায়ী বাসা না হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে সেখানে কসর করবেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.