শিশুদের জ্ঞান অর্জনের জন্য শারীরিক প্রহার করা।

Miscellaneous Fiqh · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 5719
Questioner: jannatul sadiya
Question Asked: 20 Sep 2026, 11:41 AM
Reviewed & Published: 20 Sep 2026, 12:16 PM
Views: 11
Tokens: 3,351
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ইলম অর্জনের জন্য শারীরিক প্রহার কতটুকু গ্রহণযোগ্য? ইসলামী শরিয়াহ কি এটা সমর্থন করে? আমি ১০/১২ বছর বয়সী স্টুডেন্টদের, ইসলামী জ্ঞান অর্জনের জন্য (কুরআন হাদীস) কিভাবে শাসন করতে পারব?

Answer

ইলম অর্জনের জন্য শারীরিক প্রহার: ইসলামী শরিয়াহর দৃষ্টিভঙ্গি

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নটি তিনটি অংশে বিভক্ত: ১. ইলম অর্জনের জন্য শারীরিক প্রহার কতটুকু গ্রহণযোগ্য? ২. ইসলামী শরিয়াহ কি এটি সমর্থন করে? ৩. ১০/১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের কুরআন-হাদীস শিক্ষার জন্য কীভাবে শাসন করা উচিত?


ইসলামী শরিয়াহর মূলনীতি: শিক্ষায় সহিংসতা নিষিদ্ধ

ইসলামী শরিয়াহর মূল ভিত্তি হলো দয়া, নম্রতা ও সুন্দর উপদেশ। আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান কর হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে, এবং তাদের সাথে বিতর্ক কর সর্বোত্তম পন্থায়।" — (সূরা আন-নাহল: ১২৫)

শিক্ষার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শ ছিল কোমলতা ও সহানুভূতি। তিনি বলেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ কোমল, তিনি কোমলতাকে ভালোবাসেন, এবং কোমলতার উপর এমন প্রতিদান দেন যা কঠোরতার উপর দেন না।" — (সহীহ মুসলিম: ২৫৯৩)

১০/১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের শাসনের সঠিক পদ্ধতি

ক. নবী ﷺ-এর শিক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করুন

আনাস (রা.) বলেন: "আমি দশ বছর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমত করেছি, তিনি কখনো আমাকে 'উফ' বলেননি, কখনো বলেছেন না 'তুমি এটা কেন করলে?' বা 'তুমি এটা কেন করলে না?'" — (সহীহ বুখারী: ৬০৩৮, সহীহ মুসলিম: ২৩০৯)

খ. কার্যকর ইসলামী শাসন পদ্ধতি

১. ভালোবাসা ও উৎসাহ:

  • সঠিক কাজে প্রশংসা করুন
  • পুরস্কার ও স্বীকৃতির ব্যবস্থা করুন
  • ছাত্রদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ুন

২. দৃঢ়তা কিন্তু কোমলতা:

"মুমিন কখনো কঠোর হয় না, তবে সে দুর্বলও নয়।"

৩. ধারাবাহিক নিয়ম ও রুটিন:

  • নির্দিষ্ট সময়ে কুরআন-হাদীস পাঠ
  • ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ
  • প্রতিদিনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ

৪. ভুল সংশোধনের ধাপ:

  • প্রথমে নীরব ইঙ্গিত বা দৃষ্টি
  • তারপর মৌখিক উপদেশ (একান্তে, সবার সামনে নয়)
  • তারপর সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা (যেমন: খেলার সময় কমানো)
  • সর্বশেষ উপায় হিসেবে অভিভাবককে জানানো

৫. মুখে আঘাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: "যখন কেউ (কাউকে) প্রহার করে, সে যেন মুখমণ্ডলে প্রহার না করে।" — (সহীহ বুখারী: ২৫৫৯)


৪. শাইখদের অভিমত

শাইখ ইবন বায (রহ.) বলেন: "শিক্ষকের উচিত ছাত্রদের প্রতি দয়া করা, তাদের প্রতি স্নেহশীল হওয়া, এবং প্রহার থেকে বিরত থাকা। কারণ প্রহার ছাত্রদেরকে ইলম থেকে বিমুখ করে দেয়।" (মাজমুউ ফাতাওয়া ইবন বায)

শাইখ আল-আলবানী (রহ.) বলেন: "শিক্ষায় কঠোরতা ও প্রহার ইসলামী পদ্ধতি নয়। নবী ﷺ-এর সুন্নাহ হলো নম্রতা ও সুন্দর উপদেশ।"

শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফি.) বলেন: "শিক্ষকের জন্য ছাত্রকে প্রহার করা জায়েয নয়, বিশেষ করে কুরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে। বরং উৎসাহ, পুরস্কার ও ভালোবাসার মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া উচিত।"


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.