রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে "তুমি" বলে সম্বোধন করা কি জায়েয?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5615
Questioner: Fatima Binte Riyad
Question Asked: 17 Sep 2026, 06:37 PM
Reviewed & Published: 17 Sep 2026, 07:06 PM
Views: 8
Tokens: 3,897
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

اَلسَّلاَمُ عَلَيْـــــــــــكُمْ وَ رَحْمَةُ اللہِ وَبَرَكَاتُهُ
রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কি তুমি বলে সম্বোধন করা যাবে মহব্বতের সাথে? অনেক নাশীদ, গজল ইত্যাদিতে রাসুল ﷺ কে তুমি বলে সম্বোধন করা হয়, এরকম সম্বোধন করা কি জায়েয হবে?

Answer

রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে "তুমি" বলে সম্বোধন করার হুকুম

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও আদাব প্রদর্শন করা ইসলামি শরীয়তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঈমানী দায়িত্ব।


১. রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর তা'যীম ও আদাবের মূলনীতি:

  • সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন ওয়াজিব: ইসলামি ফিকহের নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নাম مبارক উচ্চারণ করা, তাঁকে সম্বোধন করা কিংবা তাঁর প্রশংসায় নাত-নাশীদ ও গজল পরিবেশন করার সময় সর্বোচ্চ তা'যীম (সম্মান) ও তওকীর (মর্যাদা) বজায় রাখা আবশ্যক।
  • বেআদবীমূলক শব্দ বর্জন: এমন যেকোনো শব্দ, বাক্য বা সম্বোধন—যা দ্বারা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শানে সামান্যতম সাধারণীকরণ, তুচ্ছতা বা বেআদবীর গন্ধ পাওয়া যায়, তা উচ্চারণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও মারাত্মক গোনাহ।
  • নাত ও নাশিদের আদাব: নাত বা গজলে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে শরীয়তের শিষ্টাচার ও সুন্নাতী আদাব বজায় রেখে সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা উচিত।

২. সুনির্দিষ্ট মাসআলা সংক্রান্ত স্পষ্টীকরণ:

আপনার সংযুক্ত কিতাবসমূহে রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে নাত বা নাশীদে সুনির্দিষ্টভাবে "তুমি" শব্দে সম্বোধন করা জায়েয কি না—এ বিষয়ে সরাসরি বা পৃথক কোনো শব্দগত মাসআলা উল্লেখ নেই।

তবে ফুকাহায়ে কেরাম কর্তৃক বর্ণিত সম্মানিত ব্যক্তিদের তা'যীম সংক্রান্ত সাধারণ মূলনীতি অনুযায়ী:

  • যেসব ভাষায় সম্মান প্রদর্শনের জন্য পৃথক সম্বোধন (যেমন বাংলায় 'আপনি', 'হুজুর', 'ইয়া রাসুলুল্লাহ' ইত্যাদি) প্রচলিত রয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শানে সেসকল সম্মানসূচক সম্বোধন ব্যবহার করাই আদাব ও সুন্নাতের দাবি ।
  • মহব্বতের ছলেও এমন কোনো সম্বোধন ব্যবহার করা অনুচিত, যা সাধারণ সমকক্ষ বা বয়সে ছোটদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং যার দ্বারা মর্যাদার পূর্ণ প্রকাশ ঘটে না।

সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৪র্থ খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৩৮ (অধ্যায়: জিহাদ — নবী-রাসূলগণের সম্মান রক্ষা করা ও বেআদবী বা অবমাননাকর সম্বোধন বর্জনের বিধান)

২. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৩৪৮ (অধ্যায়: বড়দের ও সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মান রক্ষা করা সংক্রান্ত হাদিস)
  • পৃষ্ঠা: ৪২১ (অধ্যায়: দাওয়াত ও নাশিদে সুন্নাতী শিষ্টাচার ও আদাব বজায় রাখা)

واللہ اعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.