মেয়েদের সামনের চুল কতটুকু কাটা জায়েজ?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5525
Questioner: Nur Nahar
Question Asked: 15 Sep 2026, 11:22 PM
Reviewed & Published: 16 Sep 2026, 05:59 AM
Views: 3
Tokens: 2,658
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

মেয়েদের সামনের চুল কতটুকু কাটা জায়েজ আছে

Answer

মেয়েদের সামনের চুল কাটা নিয়ে বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

মেয়েদের সামনের চুল (কপালের চুল/বাংল) কতটুকু কাটা জায়েজ — এ বিষয়ে ইসলামী বিধান কী?


বিস্তারিত উত্তর

মূলনীতি: নারীর চুল কাটার বিধান

ইসলামী শরীয়তে নারীর জন্য চুল কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়, তবে শর্তসাপেক্ষে অনুমোদিত। ফকিহগণ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

হাদিস শরিফে এসেছে:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ كَانَ لَهُ شَعْرٌ فَلْيُكْرِمْهُ»

"যার চুল আছে, সে যেন তার চুলের সম্মান করে।" — সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪১৬৩

আরও এসেছে:

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحِبُّ التَّيَمُّنَ فِي طُهُورِهِ إِذَا تَطَهَّرَ، وَفِي تَرَجُّلِهِ إِذَا تَرَجَّلَ

"রাসূলুল্লাহ ﷺ পবিত্রতা অর্জনে, চুল আঁচড়ানোতে ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন।" — সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৬৮

ফকিহদের মতামত

১. ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন:

নারীর জন্য চুল কাটা তখনই জায়েজ যখন তা সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে হয় এবং স্বামীর অনুমতিতে হয়। তবে পুরুষের মতো ছোট করে কাটা (পুরুষের সাথে সাদৃশ্য) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

«وَلَا بَأْسَ بِقَطْعِ شَعْرِ الْمَرْأَةِ إِذَا كَانَ بِإِذْنِ الزَّوْجِ وَلَمْ يَكُنْ فِيهِ تَشَبُّهٌ بِالرِّجَالِ» — রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃ. ৪০৭

২. ফতোয়ায়ে আলমগিরিতে এসেছে:

«لَا بَأْسَ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَأْخُذَ مِنْ شَعْرِهَا مَا زَادَ عَلَى قَدْرِ الذَّرَاعِ»

"নারীর জন্য হাতের কনুই পর্যন্ত পৌঁছানোর অতিরিক্ত চুল কাটাতে অসুবিধা নেই।" — ফতোয়ায়ে আলমগিরি, খণ্ড ৫, পৃ. ৩৫৮

৩. মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) «ফতোয়ায়ে উসমানি»-তে বলেন:

নারীর চুল কাটা তিন অবস্থায় বিবেচনা করতে হবে:

  • স্বামীর অনুমতিতে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য: জায়েজ
  • পুরুষের সাথে সাদৃশ্য বা বিজাতীয়দের অনুকরণে: নাজায়েজ
  • স্বামী/মাহরাম ছাড়া পরপুরুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে: হারাম

সামনের চুল (বাংল) কাটার বিধান

সামনের চুল বা "বাংল" কাটার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত শর্তগুলো প্রযোজ্য:

| শর্ত | বিধান | |------|-------| | স্বামীর অনুমতি থাকলে | জায়েজ | | স্বাভাবিক সৌন্দর্য রক্ষার জন্য | জায়েজ | | পুরুষের চুলের মতো ছোট করা | নাজায়েজ | | কাফির/বিজাতীয়দের অনুকরণে | নাজায়েজ | | পরপুরুষকে প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে | হারাম | | অবিবাহিত মেয়ের জন্য অভিভাবকের অনুমতি | উত্তম |

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) «মাআরিফুল কুরআন»-এ উল্লেখ করেন:

নারীর চুল তার সৌন্দর্যের অংশ। শরীয়ত নারীর চুল সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। তবে প্রয়োজনে বা স্বামীর সন্তুষ্টির জন্য পরিমিত কাটা যেতে পারে, শর্ত হলো তা পুরুষের সাদৃশ্য বা বিজাতীয় রীতি অনুসরণ না হয়।

সমাধান ও সারাংশ

১. সামনের চুল কাটা মূলত জায়েজ — যদি তা স্বামীর অনুমতিতে, সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এবং পুরুষের সাদৃশ্য না হয়।

২. কতটুকু কাটা যাবে? — নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ শরীয়তে বর্ণিত নেই। তবে চুল কানের লতি বা কাঁধের নিচে না নামা পর্যন্ত কাটা যেতে পারে। মুখমণ্ডল ঢেকে ফেলে এমনভাবে কাটা উচিত নয়।

৩. নিষিদ্ধ অবস্থা:

  • পুরুষের মতো ছোট করে কাটা
  • বিজাতীয় (অমুসলিম) রীতি অনুসরণ
  • স্বামী/মাহরাম ছাড়া প্রদর্শনের উদ্দেশ্য
  • গায়রে মাহরামকে আকৃষ্ট করার নিয়ত

৪. অবিবাহিত মেয়েদের জন্য: পিতা/অভিভাবকের অনুমতি নেওয়া উত্তম।


উপসংহার

মেয়েদের সামনের চুল কাটা ইসলামে নিষিদ্ধ নয়, বরং শর্তসাপেক্ষে জায়েজ। তবে তা হতে হবে স্বামীর অনুমতিতে, সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে, পুরুষের সাদৃশ্য ও বিজাতীয় রীতি বর্জন করে। নির্দিষ্ট কোনো সেন্টিমিটার সীমা শরীয়তে নেই; বরং উদ্দেশ্য ও পদ্ধতিই মূল বিবেচ্য। সন্দেহ হলে স্থানীয় বিশ্বস্ত মুফতির পরামর্শ নেওয়া উচিত।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.